সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
পানিহাটি, ইলামবাজার, টিটাগড়, জামালপুরের পর এবার ডানকুনিতে এসআইআর আতঙ্কে মৃত্যুর অভিযোগ। ডানকুনি পুরসভার ২০ নম্বর ওয়ার্ডে এসআইআর মৃত্যুর অভিযোগ। জাতীয় নির্বাচন কমিশন বাংলার ভোটার তালিকায় স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু করে তাদের ভারতে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী হিসেবে ঘোষণা করে দেশ থেকে বিতাড়িত করে দেবে এই আশঙ্কায় বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে একের পর এক ব্যক্তি কখনো আত্মহত্যা আবার কখনো বা দুশ্চিন্তায় হার্ট ফেল করে মারা যাওয়ার খবর এসেছে গত এক সপ্তাহে বারে বারে। আগামীকাল থেকে রাজ্যে যখন প্রত্যেকটি বাড়িতে গিয়ে ভোট কর্মীরা এসআইআর ফরম ফিলাপ করাবেন ভোটারদের সেই দিনেই কলকাতার রাজপথে নামতে চলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এরমধ্যেই হুগলির ডানকুনি থেকে এলো হাসিনা বেগমের হার্টফেল হয়ে মৃত্যুর সংবাদ।
মৃতার নাম হাসিনা বেগম, বয়স ৬০ বেশ কয়েক দিন ধরে এসআইআর নিয়ে চিন্তিত ছিলেন বলে দাবি স্থানীয়দের। তিন দিন আগে এস আই আর নিয়ে এলাকায় মিটিং হয় তারপর থেকেই চিন্তিত হয়ে পড়েন হাসিনা বেগম। তিনি ১৩নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা হলেও মেয়ের সঙ্গে ২০নং ওয়ার্ডের নজরুলপল্লিতে ভাড়া বাড়িতে থাকতেন। গত কাল সন্ধ্যায় অসুস্থ হয়ে পড়েন, হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। ঘটনা জানাজানি হতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। সোমবার সকালে পরিবারের সঙ্গে কথা বলতে যান ডানকুনি পৌরসভার পুর প্রধান হাসিনা শবনম।
ডানকুনি পৌরসভার পুর প্রধান হাসিনা শবনম বলেন, এস আই আর নিয়ে যথেষ্ট আতঙ্কিত মানুষ। বিশেষ করে যাদের ২০০২ সালে নাম নেই। যিনি মারা গেছেন তার ২০০২ সালের ভোটার লিস্টে নাম নেই সে কারণেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তাঁর আরো দাবি এলাকার আরো একজন এস আই আর আতঙ্কে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন তাঁর চিকিৎসা চলছে।
আরও একটি ঘটনা ঘটেছে হুগলির রিষড়ায়। আরামবাগের প্রাক্তন সাংসদ রিষড়ার তৃনমূল নেতা সাকির আলি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন গতকাল। তাঁকে ভর্তি করা হয় বেসরকারি হাসপাতালে। তার দাবি, তার এলাকায় বস্তি আছে সেখানে এস আই আর ঘোষণা হওয়ার পর থেকে এলাকার হিন্দু মুসলিম সবাই আসছেন তার কাছে। তাদের নাম আছে কিনা,কাগজ ঠিক আছে কিনা, দেখার জন্য, তারা প্রত্যেকেই আতঙ্কে আছেন, তাদের নাম বাদ যাবে না তো ? সবাইকে বোঝাতে গিয়ে নিজেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়।
বিজেপি রাজ্য কমিটির সদস্য স্বপন পাল বলেন, ‘সব নাটক। রিষড়া পুরসভার চার নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর শুনলাম অসুস্থ হয়ে পড়েছেন এস আই আর-এর ভয়ে। এসব নাটক ছাড়া আর কিছু না। ভারতের বারোটা রাজ্যে এসআই আর হচ্ছে। সেখানে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়ছে না এখানে তৃণমূলের নেতা কাউন্সিলর অসুস্থ হয়ে পড়ছে। সাকির আলির সঙ্গে রিষড়া পুরসভার চেয়ারম্যান ভাইস চেয়ারম্যানের আদায় কাঁচকলা সম্পর্ক। তাই মানুষের দৃষ্টিটাকে ঘোরানোর জন্য কিছুটা প্রচারে আসার জন্য এইসব নাটক করছেন। কারণ তারা জানেন আগামী নির্বাচনে তারা হারবেন।’