সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আপনি মানুষকে ইউজ অ্যান্ড থ্রো করে দেন, আপনি বলুন আমি আপনার সঙ্গে কি গাদ্দারি করেছি?’ নতুন দল ঘোষণা করে এভাবেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বিষ্ফোরক প্রশ্ন ছুঁড়ে দিলেন তৃণমূলের বিদ্রোহী বিধায়ক হুমায়ূন কবীর। নতুন দল জনতা উন্নয়ন পার্টি এবং সবুজ-হলুদ-সাদা, দলের পতাকা প্রকাশ করার পাশাপাশি জনতা উন্নয়ন পার্টির ইস্তাহার প্রকাশ করেন হুমায়ুন কবীর।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশ্যে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বলেন, ‘আপনি বলুন আমি আপনার সঙ্গে কি গাদ্দারি করেছি? বলুন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর আপনি আমার সঙ্গে কী করেছেন? সেটাও বলুন। লোকাল নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে মমতা জিজ্ঞাসা করলেন হুমায়ুনকে বাদ দিলে দলের কোনো ক্ষতি হবে? ওরা বলল না না কোনো ক্ষতি নেই। বাদ দিন। উনি বাদ দিলেন। আমি চ্যালেঞ্জ করে বলছি হুমায়ুন কবীর বেঁচে থাকলে ২৬-এর ভোটে মুর্শিদাবাদে তৃণমূলকে জিরো করব। জিরো জিরো জিরো। বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য আর বেঁচে নেই। তাঁর একটা মাত্র মেয়ে। বালিগঞ্জ এলাকায় একটা ছোট্ট ফ্ল্যাটে থাকেন। মমতা আপনি নাকি সততার প্রতীক। আপনি বলুন আপনার আগে কত সম্পত্তি ছিল? পরিবারের সদস্যদের আগে কত সম্পত্তি ছিল? আপনি যেদিন মুখ্যমন্ত্রী হলেন সেদিন বাংলার মানুষের মাথাপিছু আয় কত ছিল? আপনি মেলা খেলা উৎসব রঙ তামাশা করে বাংলার মাথায় ঋণের বোঝা চাপিয়েছেন। শুভেন্দু অধিকারী আপনাকে বলছি মুসলিম বিধায়কদের নাকি চ্যাংদোলা করবেন? আমি চ্যালেঞ্জ করছি আমার ১০০ বিধায়কের মধ্যে ৩০ জন হিন্দু বিধায়ক থাকবে। দেখি আপনি কতবড় পালোয়ান। ফেলুন তো দেখি চ্যাংদোলা করে। আপনার বাবা শিশির বাবুর ক্ষমতা নেই কিছু করার।’
এখানেই শেষ নয়, মমতার উদ্দেশ্যে প্রশ্ন ছুঁড়ে বলেন, ‘রাজ্যের কোনো মসজিদে মা দরগা ময়দানে ১০ বছরের বেশি বয়সী মহিলার যাওয়ার অধিকার নেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আপনি রেড রোডে যান কেন? আপনি মুসলমানদের মূর্খ ভাববেন না। তোমাকে বধিবে যে গোকুলে বাড়িছে সে। আপনি যতই আই প্যাক কাজে লাগান। শত্রুঘ্ন সিনহা, ইউসুফ পাঠান, কীর্তি আজাদ বাঙালি?
‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আপনি আমার বিরুদ্ধে বেশি কথা বলবেন না। তাহলে আমি আপনার পরিবারের আয়ের উৎস ফাঁস করে দেব। আপনার ক্ষমতা চলে গেলে দেখব আপনার এই পুলিস কোথায় থাকে। আমার সভায় একজন আসার কথা ছিল। ববি হাকিম ভয় দেখিয়েছে। ববি, আপনার ক্ষমতা আমি ব্রিগেডের দিন দেখিয়ে দেব। নর্মালি আমি ঠান্ডা মাথার লোক। আমাকে রাগাবেন না। ২০০৯ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের মাত্র ১টা সাংসদ। তাও ২০১১ সালে তৃণমূল ক্ষমতায় এল। আপনার ২৩০ বিধায়ক তুড়ি মেরে ওড়াব। আপনার সরকার চিৎপটাং হয়ে যাবে। হুমায়ুন কবীর অঙ্ক কষে চলে। তৃণমূল কংগ্রেসের বালি পাথর চোরদের বুঝে নেব। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নাকি সতী সাবিত্রী। তোলাবাজির হিস্যা কোথায় যায়? কার কাছে যায়? এপ্রিল মাসে এখানে এসে উনি বললেন ওয়াকফ নিয়ে কাউকে আন্দোলন করতে দেব না। দিল্লি যান। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, আপনার মুসলমানদের প্রতি এত তাচ্ছিল্য? রেড রোডে নামাজ পড়লে হবে না। আগামী ঈদের দিন আমার বাবরি মসজিদে কত লোক আসে দেখিয়ে দেব। রেড রোডে কত লোক হবে আর আমার এখানে কত লোক হবে মিলিয়ে দেখে নেবেন।’
তিনি বলেন, ‘প্রায় একমাসের অপেক্ষা। ৪ তারিখ আমাকে মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী তাঁর দলের কলকাতার মেয়রকে দিয়ে আমাকে সাসপেন্ড করিয়েছে। আমাকে বলেছিল ও মসজিদ বানাচ্ছে কেন? ফিরহাদ হাকিম এর মা হিন্দু ছিলেন। মা হিন্দু। বাবা মুসলিম। তাই ফিরহাদ হাকিম একজন আধা মুসলমান। আমি নিজে একসময় প্রণব মুখোপাধ্যায়ের স্নেহধন্য ছিলাম। আমার বাড়ি থেকে কীর্নাহারের দূরত্ব ৩২ কিলোমিটার। উনি বাড়ির পুজোয় আমাকে আমন্ত্রণ জানাতেন। প্রণব মুখোপাধ্যায় বলতেন হুমায়ুন এসেছিস না খেয়ে যাবি না। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধার্থ শংকর রায় আমার বাড়িতে এসেছেন। প্রণব মুখোপাধ্যায় আমার বাড়িতে এসেছেন। অধীর চৌধুরী আমার বাড়িতে এসেছেন। সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশের মধ্যে দিয়ে আমি এই জেলায় রাজনীতি করতাম। আমি কংগ্রেসের ৫ টা পোর্টফোলিও হোল্ড করতাম। আমি যখন কংগ্রেস ছাড়লাম তখন অধীর বাবুর পরিবার আমার জাত তুলে কথা বলেছিল। মুকুল রায় আর গৌতম সান্যাল আমাকে তৃণমূলে নিয়ে আসেন।’

আগামী বছর ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রসঙ্গে হুমায়ুনের হুঁশিয়ারি, ‘বাংলার কোনও থানা যদি আমার নামে মিথ্যা মামলা করে, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে থানার ইট খুলে নেব। পারলে আটকে দেখান। তৃণমূলের একটা মহাসচিব ছিল-পার্থ চট্টোপাধ্যায়। জেল খেটে এসে বলছে, অপা কে ছাড়ব না। ২০২৬ সালের গণনার দিন বুঝতে পারবে আদার ঝাঁঝ কতটা। আমি হুমায়ুন কবীর। আমার হারানোর কিছু নেই। মিডিয়া, আপনারা আজকের সভার রেকর্ডিং আর্কাইভ করে রাখবেন। ফল প্রকাশের দিন টেলিকাস্ট করবেন।’