বিতস্তা সেন। কলকাতা সারাদিন।
ওবিসি মামলায় কলকাতা হাইকোর্টে বিরাট ধাক্কা খেয়েছে রাজ্য সরকার। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের জারি করা নতুন বিজ্ঞপ্তির উপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিয়েছে আদালত। গতকাল উচ্চ আদালতের এই রায়ের পরেই উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। আজ কলকাতা হাইকোর্টের ওবিসি রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে বিধানসভার বাইরে লাড্ডু বিতরণ করল বিজেপি পরিষদীয় দল।
গতকালই ওবিসি তালিকা নিয়ে দায়ের হওয়া একগুচ্ছ মামলার পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্য সরকারের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। উচ্চ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ২০১০ সালের পর রাজ্য সরকার যতগুলো সম্প্রদায়কে ওবিসি হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে সেই অন্তর্ভুক্তির ওপর স্থগিতাদেশ জারি থাকবে। এক্ষেত্রে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি রাজাশেখর মান্থার পর্যবেক্ষণ, “ওবিসি তালিকাভুক্ত হতে এই অন্তর্ভুক্তিগুলি সংবিধান মেনে হয়েছে কিনা তা গভীরভাবে পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে।”
গতকাল হাইকোর্টের এই নির্দেশের ফলে সংশ্লিষ্ট শ্রেণিগুলি বর্তমানে সরকারি চাকরি ও শিক্ষায় ওবিসি সংরক্ষণের সুবিধা থেকেও সাময়িকভাবে বঞ্চিত হবে। যদিও যারা ইতিমধ্যেই সেই সব সুবিধাগুলি পেয়ে গিয়েছেন তাদের ক্ষেত্রে অবশ্য আদালতের এই রায় প্রযোজ্য হবে না বলে গতকাল স্পষ্ট করেছেন বিচারপতি।
আজ বুধবার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিধানসভার গেটে বিজেপি পরিষদীয় দল লাড্ডু বিতরণ করেন। শুভেন্দু অধিকারী “ওবিসি বিল হরিবোল” শ্লোগান তোলেন। করতাল বাজিয়ে তাতে গলা মেলান বিজেপি বিধায়করা। পাশাপাশি “মমতা সরকার আর নেই দরকার”, “মুসলিম তোষণকারী সরকার আর নেই দরকার”,”ওবিসি বিল আটকে গেল”, “ভুয়া ওবিসি বিল হায় হায়” প্রভৃতি শ্লোগান দেওয়া হয়।
পরে সল্টলেকের করুণাময়ীতে বিজেপির ঘোষিত “রাজ্য সরকারের একতরফা ভাবে ধর্মের ভিত্তিতে ওবিসিদের সংরক্ষণ ও সনাতনী হিন্দু ওবিসিদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করার প্রতিবাদে ভারতীয় জনতা ওবিসি মোর্চার ধর্না অবস্থান” মঞ্চে যোগ দেন বিরোধী দলনেতা। মঞ্চে ভাষণে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের বিচারপতিদ্বয় যে ঐতিহাসিক অন্তর্বর্তীকালীন রায় দিয়েছেন তাকে স্বাগত জানাই। এই রায় হওয়া তো কথাই ছিল । চারিদিকে খুশির আবহ। কেবল দুঃখিত মমতা ব্যানার্জী আর তার ভাইপো। যে মুসলিমরা পাওয়ার যোগ্য নয় শুধুমাত্র ভোট ব্যাংকের রাজনীতির জন্য মমতা ব্যানার্জী এটা করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ হয়েছে। অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ মানে চূড়ান্ত রায় নয়। তাই এই আন্দোলনকে প্রতিটা ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে হবে। হাইকোর্টের সুপ্রিম কোর্টে তো আমরা লড়বই, রাস্তাতেও আমাদের থাকতে হবে।”
তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে তোষণের রাজনীতির চরমসীমায় পৌঁছে গেছে। বাবা সাহেব ভীমরাও আম্বেদকর যখন সংবিধান রচনা করেন তখন তপশিলি জাতি এবং উপজাতিদের সংরক্ষণ দিয়ে গেছেন। এই সংরক্ষণ কখনো ভোট ব্যাংকের রাজনীতির জন্য হয় না। এর প্রথম উদ্বোধন করলেন পশ্চিমবঙ্গের কমরেডরা। বামফ্রন্ট মুসলিমদের ভোট নেওয়ার জন্য ওবিসি-র কেন্দ্রীয় তালিকায় অনেকগুলি মুসলিম সম্প্রদায়কে অন্তর্ভুক্ত করেছিল। তারপরেই ২০১১ সালে মমতা ব্যানার্জী ক্ষমতায় আসার পর তালিকায় ৯০% মুসলিমদের এনে প্রকৃত ওবিসিদের বঞ্চিত করেছিল। এখন সেটা ৯৮% হয়ে গেছে। পশ্চিমবঙ্গে চরম তোষামোদের রাজনীতি চলছে। এর কারণ হলো আমাদের রাজ্যে জনবিন্যাসের ক্রমশ পরিবর্তন হচ্ছে। আর জনবিন্যাস পরিবর্তনের কারণ হলো মমতা ব্যানার্জি বাংলাদেশ সীমান্তে সাড়ে ৫০০ কিলোমিটার এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য বিএসএফকে জমি দেয়নি। তার ফলে মিয়ানমারের রোহিঙ্গারা বার্মা থেকে বাংলাদেশের কক্সবাজারের শিবির হয়ে স্থলপথে এবং জলপথে পশ্চিমবঙ্গে ঢুকছে। তারপর গোটা ভারতের ছড়িয়ে পড়ছে।”
মমতা তথা বাংলার তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “এর রাজ্যের তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষরা আমাদের হাজার হাজার বছরের প্রাচীন সনাতনী সংস্কৃতির অবমাননা করছে। মমতা ব্যানার্জি পিতৃপক্ষে দুর্গাপুজোর ফিতে কাটতে শুরু করেন। তিনি রাম মন্দির উদ্বোধনের সময় পার্ক সার্কাসে মিছিল করলেন। নাম দিলেন সংহতি মিছিল। কখনো মহাকুম্ভকে বলছেন মৃত্যুকুম্ভ। মমতা ব্যানার্জী হিন্দু ধর্মকে জনসভাতে গন্দাধর্ম বললেন। এভাবে আজকে বাংলাতে ধর্মনিরপেক্ষতার নামে তোষণবাজি চরমসীমায় চলে গেছে। মমতা ব্যানার্জী সংবিধানের কোনো স্তম্ভ মানেন না। এ রাজ্যের ল’মেকার্সদের মার্শাল দিয়ে বিধানসভার বাইরে বের করে দেওয়া হয়, আমলারা অবসর নেয় না। মেরুদণ্ড সোজা রাখা আইএএস এবং আইপিএস অফিসারদের মমতা ব্যানার্জি কাজ করতে দেন না। অগণতান্ত্রিক মুখ্যমন্ত্রী। জিহাদীদের নেতা মুখ্যমন্ত্রী। বিচার ব্যবস্থাকে মানেন না।”