প্রিয়াঙ্কা মান্না। কলকাতা সারাদিন।
ট্রেনে যাতায়াত করতে গেলে এবার যাত্রীদের পকেটে পড়বে বাড়তি চাপ। বড়দিনের ঠিক পরেই, অর্থাৎ আগামী ২৬ ডিসেম্বর থেকে দূরপাল্লার ট্রেনের ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে চলেছে ভারতীয় রেল। উৎসবের মরশুমে এই সিদ্ধান্ত ঘিরে সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই তৈরি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। তবে রেল স্পষ্ট করেছে, এই ভাড়া বৃদ্ধি লোকাল ট্রেনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়—শুধুমাত্র দূরপাল্লার মেল, এক্সপ্রেস ও অন্যান্য ট্রেনেই নতুন ভাড়া কার্যকর হবে।
রেলের তরফে জানানো হয়েছে, জেনারেল ক্লাসে ২১৫ কিলোমিটার পর্যন্ত যাত্রার ভাড়ায় আপাতত কোনও পরিবর্তন আনা হচ্ছে না। অর্থাৎ স্বল্প দূরত্বে যাতায়াতকারী যাত্রীদের ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্তে বড় কোনও প্রভাব পড়বে না। তবে ২১৫ কিলোমিটারের বেশি দূরত্বে যাত্রা করলে যাত্রীদের প্রতি কিলোমিটারে অতিরিক্ত ১ পয়সা করে গুনতে হবে।
অন্যদিকে, এক্সপ্রেস ও মেল ট্রেনের নন-এসি কোচের টিকিটে প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া বাড়ছে ২ পয়সা। একই হারে ভাড়া বাড়ছে এসি কোচের ক্ষেত্রেও। ফলে কেউ যদি ৫০০ কিলোমিটার দূরত্বে যাত্রা করেন, তাহলে আগের তুলনায় প্রায় ১০ টাকা বেশি দিয়ে টিকিট কাটতে হবে। আপাতদৃষ্টিতে এই অঙ্ক খুব বড় না মনে হলেও, নিয়মিত দীর্ঘপথে যাতায়াত করা যাত্রীদের জন্য বছরে তা যথেষ্ট প্রভাব ফেলতে পারে।
রেলের যুক্তি অনুযায়ী, গত এক দশকে দেশের রেল নেটওয়ার্ক যেমন উল্লেখযোগ্যভাবে বিস্তৃত হয়েছে, তেমনই পরিষেবার মান উন্নত করতেও বিপুল বিনিয়োগ করা হয়েছে। নতুন ট্রেন, আধুনিক কোচ, স্টেশন উন্নয়ন এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে কর্মীর সংখ্যাও। এই সমস্ত খরচ সামাল দিতেই ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ।
রেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে কর্মী সংক্রান্ত খরচ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লক্ষ ১৫ হাজার কোটি টাকা। এর সঙ্গে পেনশন বাবদ খরচ হচ্ছে আরও প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা। সব মিলিয়ে ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে পরিষেবা খাতে রেলের মোট ব্যয় পৌঁছেছে প্রায় ২ লক্ষ ৬৩ হাজার কোটি টাকায়। নতুন ভাড়া কার্যকর হলে বছরে আনুমানিক ৬০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত আয় হবে রেলের, যা পরিকাঠামো ও পরিষেবা উন্নয়নে ব্যবহার করা হবে বলে দাবি করা হয়েছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই প্রথম নয়। চলতি বছরের জুলাই মাসেও রেল ভাড়া বৃদ্ধি করেছিল। তখন নন-এসি কোচে প্রতি কিলোমিটারে ১ পয়সা এবং এসি কোচে ২ পয়সা করে ভাড়া বাড়ানো হয়। তার আগেও, ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি সাধারণ, মেল ও এক্সপ্রেস ট্রেনের দ্বিতীয় শ্রেণির টিকিটে ভাড়া বাড়ানো হয়েছিল।
সব মিলিয়ে বলা যায়, ধাপে ধাপে ভাড়া বাড়িয়ে পরিষেবা ও আর্থিক ভারসাম্য বজায় রাখার পথেই হাঁটছে ভারতীয় রেল।