সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় দীর্ঘদিন জেল খেটে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পরে ফিরে এসে ফের বিধানসভায় নতুন দায়িত্ব পেলেন বাংলার প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। জামিনে মুক্ত পার্থকে বিধানসভার লাইব্রেরি কমিটির সদস্য করা হয়েছে। পাশাপাশি আবাসন, অগ্নিনির্বাপণ ও বিপর্যয় মোকাবিলা সংক্রান্ত স্ট্যান্ডিং কমিটিতেও তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। মঙ্গলবার থেকে বিধানসভার বাজেট অধিবেশন শুরু হওয়ার পরেই জানা গিয়েছে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের এই পদোন্নতির কথা।
প্রসঙ্গত, পার্থ চট্টোপাধ্যায় বর্তমানে আর রাজ্য সরকারের মন্ত্রী নন। তবে তিনি বিধানসভার নির্বাচিত সদস্য বা বিধায়ক হিসেবে তাঁর পদ ধরে রেখেছেন। বিধানসভার রীতি অনুযায়ী, কোনও মন্ত্রী সাধারণত হাউসের স্থায়ী বা স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য হতে পারেন না। মন্ত্রিত্বে থাকাকালীন সেই কারণেই পার্থ চট্টোপাধ্যায় কোনও কমিটির সদস্য ছিলেন না।
কিন্তু বর্তমানে তিনি আর মন্ত্রী নন। দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার হওয়ার পরই তাঁকে মন্ত্রিত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তবে এখন বিধায়ক হিসেবে তাঁর সামনে ফের বিধানসভা সংক্রান্ত বিভিন্ন দায়িত্ব পালনের সুযোগ তৈরি হয়েছে। সেই প্রেক্ষিতেই তাঁকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কমিটিতে সদস্য হিসেবে স্থান দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের দাবি।
বিধানসভায় পার্থর এই ‘ফেরত’ দেখেই কটাক্ষে সরব হয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর মন্তব্য, ‘আগামী বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে ভোটেও লড়াতে পারে। তাতে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।’ শুভেন্দুর দাবি, দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েও যাঁরা দলের অনুগত, তাঁদেরই পুরস্কৃত করার সংস্কৃতি রয়েছে তৃণমূলে।
এই প্রসঙ্গেই সম্প্রতি বঙ্গ সফরে এসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের মন্তব্য টেনে আনেন শুভেন্দু। শাহ বলেছিলেন, ‘তৃণমূল মানেই দুর্নীতি,’ এবং চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিলেন—দুর্নীতিগ্রস্ত নেতা-মন্ত্রীদের টিকিট না দিলে তবেই বোঝা যাবে মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের কাজ সমর্থন করেন না। শুভেন্দুর মতে, ‘আমার নেতা অমিত শাহ, যা বলেছিলেন, সেটাই হল!’ উদাহরণ হিসেবে অনুব্রত মণ্ডলের নাম তুলে ধরেন বিরোধী দলনেতা। তাঁর দাবি, কেষ্ট মণ্ডলের ক্ষেত্রে ‘পদোন্নতি’ হয়েছে, নিরাপত্তা বেড়েছে, এমনকি এসআরডিএ-র মতো মন্ত্রী পদমর্যাদার নীল বাতির গাড়িও দেওয়া হয়েছে। শুভেন্দুর তোপ, ‘অর্থাৎ যাঁরা এই ধরনের অসামাজিক কাজ করবে, তাদের সম্মান দেওয়া হবে—এটাই তৃণমূলের নীতি। তাই পার্থ ভোটে লড়লেও আশ্চর্য হব না।’

একই সঙ্গে সদ্য তৃণমূল ত্যাগ করে জনতা উন্নয়ন পার্টি গঠন করা বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে নিয়েও বিস্ফোরক দাবি করেন শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, হুমায়ুনকে দিয়ে এই সব কাজ করাচ্ছে তৃণমূলই। কারণ, মুর্শিদাবাদের সংখ্যালঘু সমাজ ওবিসি, ওয়াকফ-সহ একাধিক ইস্যুতে তৃণমূলের উপর ক্ষুব্ধ। সেই ভোট যাতে বিজেপির দিকে না যায়, তাই বাবরের নাম তুলে ধর্মীয় আবেগে উসকানি দিয়ে সংখ্যালঘু ভোট ধরে রাখার কৌশল নেওয়া হয়েছে বলে দাবি তাঁর। শুভেন্দুর মতে, ভোটের পরে কয়েকটি আসন নিয়ে হুমায়ুন আবার তৃণমূলে ফিরবেন।