সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।

রণক্ষেত্র রাজধানী দিল্লি। পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী দিল্লির নির্বাচনে সদনে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে বৈঠকের আগে সোমবার সকাল থেকে রণক্ষেত্রে পরিণত হলো রাজধানী দিল্লি। বাংলায় এসআইআর আতঙ্কে নিহতদের পরিবারবর্গ, কমিশনের খাতায় মৃত ভোটারদের সঙ্গে নিয়ে গতকাল অর্থাৎ রবিবার দিল্লি এসেছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু সকাল থেকে দিল্লির হেইলি রোড এবং চাণক্যপুরীতে দুই বঙ্গ ভবন কার্যত ঘিরে ফেলে দিল্লি পুলিশ। সেই সংবাদ পাওয়ার পরেই সঙ্গে সঙ্গে দিল্লিতে অভিষেকের বাসভবনে থাকা মমতা ছুটে আসেন ঘরের কাপড় পরেই।

 

এদিন সকাল থেকেই দিল্লির বঙ্গভবন চত্বর কার্যত দুর্গের চেহারায় মুড়ে দেয় দিল্লি পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। বঙ্গভবনের প্রতিটি ঘরে ঘরে গিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে ক্ষোভে ফেটে পড়েন মুখ্যমন্ত্রী। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে পাশে নিয়ে তিনি বলেন, ‘সকাল থেকে দিল্লি পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী বঙ্গভবন ঘিরে রেখেছে। ওরা ঘরে ঘরে গিয়ে দেখছে কে এসেছে। এটা ওরা করতে পারে না। অমিত শাহ বাংলায় গেলে আমরা রেড কার্পেট বিছিয়ে দিই, আর আমরা এলে ব্ল্যাক কার্পেট?’

 

দিল্লি পুলিশ বঙ্গভবনের সামনে কেন ঘিরে রেখেছে এই প্রশ্ন করার পরেই বিভ্রান্ত হয়ে সেখান থেকে কার্যত পালিয়ে যায় দিল্লি পুলিসের জওয়ানরা। বঙ্গভবনে মমতা ঢোকার মুখে দিল্লি পুলিশের কয়েক জন সদস্য দাঁড়িয়ে ছিলেন। তাঁদের দেখেই এগিয়ে যান মমতা। জানতে চান, কেন তাঁরা এখানে দাঁড়িয়ে আছেন? পুলিশের কেউ কোনও মন্তব্য না করেই অন্য দিকে সরে যান। মমতাও তাঁদের পিছন পিছন এগোন এবং প্রশ্ন করেন, ‘কী হল, পালিয়ে যাচ্ছেন কেন?’ সঙ্গে ছিলেন অভিষেকও। এর পরেই দিল্লি পুলিশকে মমতার হুঁশিয়ারি, ‘আমাকে দুর্বল ভাবার কোনও কারণ নেই। অনেক দূর দূর থেকে আমরা ওঁদের নিয়ে এসেছি। ওঁদের ভয় দেখানো যাবে না। আমি বাড়ির পোশাকও ছাড়িনি। যা পরেছিলাম, তা-ই পরে অভিষেককে নিয়ে চলে এসেছি। দিল্লিতে যখন বোমা বিস্ফোরণ হয়, তখন দিল্লি পুলিশ কোথায় থাকে? অবশ্য আমি পুলিশকে কিছু বলব না। ওরা তো নির্দেশে কাজ করছে।’ বঙ্গভবনের সামনে পৌঁছে দিল্লি পুলিশের আধিকারিকদের সঙ্গে কথাও বলতে দেখা গিয়েছে মমতাকে। তর্কাতর্কিতেও জড়িয়ে পড়েছিলেন। সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সামনেই দিল্লি পুলিসকে প্রশ্ন করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, ‘আমাদের বাধা দিচ্ছেন কেন? আমরা তো আন্দোলন করতে আসিনি এখানে। যদি আসতাম, তাহলে বহু লোককে নিয়ে আসতে পারতাম। এসআইআর আতঙ্কে এখন পর্যন্ত ১৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের পরিবার-পরিজনেরা সঙ্কটের মধ্যে রয়েছেন। আপনাদেরও তো পরিবার-পরিজন রয়েছে। যাঁদের নিয়ে এসেছি, তাঁরা তাঁদের কথা আগামিকাল বলবেন। আপনারা আটকাচ্ছেন। লাভ হবে না। অবশ্য আপনাদের দোষ দিই না। যাঁরা আপনাদের চালাচ্ছেন, তাঁরা স্বৈরাচারী।’

দিল্লিতে এর আগেও বাঙালিদের হেনস্থার অভিযোগ উঠেছিল। পুলিশের উদ্দেশে মমতা বলেন, ‘আপনারা সংযত হোন। বাংলার মানুষকে এ ভাবে হেনস্থা, নির্যাতন করবেন না। অনেকে মারা গিয়েছেন। অনেকে প্রিয়জনকে হারিয়েছেন। আমাদের গায়ের জোর দেখাবেন না। যদি ওঁদের জন্য এই দেশে আর কেউ না-ও লড়ে, আমি লড়ব। লড়ে যাব।’

 

মঙ্গলবার বিকেলে বঙ্গভবন থেকে তৃণমূল একটি সাংবাদিক বৈঠক ডেকেছে। সেখানে ‘এসআইআরে ক্ষতিগ্রস্ত’রাও থাকবেন বলে জানিয়েছেন মমতা। তিনি এবং অভিষেক চলে যাওয়ার পর বঙ্গভবনের অন্য একটি অংশে দিল্লি পুলিশের হেনস্থার খবর পাওয়া যায় বলে অভিযোগ। সেখানে যান দোলা সেন, কাকলি ঘোষ দস্তিদার, সাগরিকা ঘোষ, বাপি হালদারেরা।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *