সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং অন্যান্য বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাদের কর্মসূচিতে যাতে কোনও রকম অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, তা সুনিশ্চিত করতে হবে রাজ্য সরকারকেই। বাংলায় আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আবহে সোমবার কলকাতা এবং রাজ্য পুলিশকে এমন নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট।
হাইকোর্টের বক্তব্য, বিরোধী দলের কোনও নেতার ওপর যাতে হামলার ঘটনা না ঘটে, তার দায়িত্ব নিতে হবে রাজ্যকেই। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর দায়ের করা মামলার প্রেক্ষিতেই এই নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। আপাতত, ১৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পুলিশকে এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ এই নির্দেশ দিয়েছে।
বিরোধী নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যে মামলা দায়ের করে হেনস্থা করা হচ্ছে, তাঁদের উপর হামলা চালানো হচ্ছে এবং নানা ভাবে বিড়ম্বনায় ফেলা হচ্ছে— এই অভিযোগে রাজ্যের বিরুদ্ধে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী এবং এক বিজেপি বিধায়ক। সেই মামলার মধ্যেই কিছু দিন আগে চন্দ্রকোনায় বিরোধী দলনেতার গাড়িতে হামলার ঘটনার ঘটে। অভিযোগ ওঠে, ওই ঘটনার পর উল্টে শুভেন্দু অধিকারী ও তাঁর সঙ্গীদের বিরুদ্ধেই মিথ্যে মামলা দায়ের করা হয়। সেই এফআইআর খারিজের দাবিতে জনস্বার্থ মামলার মধ্যেই আলাদা করে আবেদন করেন বিরোধী দলনেতা। এর আগেই ওই মামলায় শুভেন্দুকে রক্ষাকবচ দিয়েছিল হাইকোর্ট। এবার রাজ্যের বিরোধী দলের বিধায়ক, সাংসদ, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের কর্মসূচিতেও যাতে কোনও রকম অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, তা সুনিশ্চিত করতে কলকাতা এবং রাজ্য পুলিশকে নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট।
শুভেন্দু অভিযোগ করেছিলেন, রাজ্যের মুখ্য বিরোধী দল বিজেপির জনপ্রতিনিধি, সমর্থকদের লক্ষ্য করে হিংসার ঘটনা ঘটানো হচ্ছে। পুলিশকে আগেভাগে জানানোর পরেও বিরোধী দলের কর্মসূচি, কনভয়ে হামলার ঘটনা ঘটছে। এমনকি, রাজ্যের বিরোধী দলনেতার কর্মসূচিতেও বাধা দেওয়া হচ্ছে। আবেদনকারীর দাবি, এই ধরনের ঘটনাগুলি রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ এবং প্রশাসনের ‘ব্যর্থতাকেই’ তুলে ধরছে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের সময় এবং তার পরেও এই ধরনের ঘটনা দেখা গিয়েছিল। সে কারণে এই আবেদন করা হয়েছে বলে জানান শুভেন্দু। সেই মামলাতেই সোমবার পুলিশকে নির্দেশ দিল হাই কোর্ট।
গত বছরের ২৭ অক্টোবর মামলাটি রুজু হয়েছিল হাই কোর্টে। সেই মামলাতেই সোমবার এই নির্দেশ দিল প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ। ১৮ ফেব্রুয়ারি আবার শুনানি হবে এই মামলার। আপাতত, ১৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পুলিশকে এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে নির্দেশ দেয় প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ।