শৌভিক তালুকদার। কলকাতা সারাদিন।
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি সুপ্রিম কোর্টে নিজেদের সার্বিক অবস্থান তুলে ধরেছেন। এটা বেশ কার্যকরী উদ্যোগ। এভাবেই সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবী হিসেবে বাংলার ভোটার তালিকায় এসআইআর প্রক্রিয়ার সমস্যা নিয়ে মমতার সওয়ালের ভূয়সী প্রশংসা করলেন ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার।
বাংলার সিপিএম নেতারা যেখানে প্রতিনিয়ত মমতাকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য মরিয়া চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং আলিমুদ্দিনে বসে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মোহাম্মদ সেলিম মমতার কৃতিত্বকে খাটো করার জন্য একের পর এক কুৎসা করে চলেছেন, তার মধ্যেই এভাবে সরাসরি মমতার সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার প্রশংসা করে মানিক সরকার বুঝিয়ে দিলেন মমতার বিরুদ্ধে কুৎসা করতে গিয়ে বাংলার সিপিএম দিকভ্রান্ত হয়ে পড়েছে।
গত বুধবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন ৩ বিচারপতির বিশেষ ডিভিশন বেঞ্চে দাঁড়িয়ে ভারতের ইতিহাসে নজিরবিহীন ভাবে প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বাংলার মানুষের জন্য সওয়াল করেন মমতা। রীতিমতো তথ্য তুলে ধরে দুঁদে আইনজীবীর মতো মমতা তুলে ধরেন কিভাবে ভারতীয় জনতা পার্টির নেতাদের সঙ্গে অশুভ আঁতাত করে বাংলার প্রায় দেড় কোটি কোটি ভোটারের নাম ছেঁটে ফেলার জন্য মরিয়া চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন।
মমতার সওয়ালের পরেই রীতিমতো বেকায়দায় পড়ে জাতীয় নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয়েছে ডোমিসাইল সার্টিফিকেটের বৈধতার উপরে। পাশাপাশি লজিক্যাল ডিসক্রিপ্যান্সির নামে যেভাবে ১ কোটির বেশি ভোটারের নাম কেটে খেলার চেষ্টা করছিল নির্বাচন কমিশন তা নিয়েও সুপ্রিম কোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তিনি।
সুপ্রিম কোর্টের এভাবে মমতার নিজে দাঁড়িয়ে সওয়ালকে ঐতিহাসিক আখ্যা দিয়েছেন উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদব থেকে শুরু করে কংগ্রেস নেতৃত্ব পর্যন্ত।

এবারে ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার মমতার এই উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয় এবং সাধুবাদের যোগ্য বলে দাবি করে প্রকাশ্যেই জানিয়ে দিলেন, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী সুপ্রিম কোর্টে নিজেদের সার্বিক অবস্থান তুলে ধরেছেন। ৬-৭ টি পয়েন্টে তিনি কথা বলে এসেছেন। উনি মুখ্যমন্ত্রী এবং আইনজীবীও। যদিও মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে নয়, সুপ্রিম কোর্টে তিনি বাংলার মানুষের হয়ে কথা বলেছেন বলে জানিয়েছেন। শ্রীমতি ব্যানার্জি অনেকটাই দেরি করে ফেলেছেন। আগে গেলে ভাল হত। তবু তিনি যে আদালতে গিয়ে কথা বলেছেন, সেটাকে আমি খাটো করে দেখতে পারছি না। এটা বেশ কার্যকরী উদ্যোগ। এরপরেই মমতার সওয়ালের প্রেক্ষিতে আগামীকাল অর্থাৎ সোমবার সুপ্রিম কোর্ট বাংলার ভোটার তালিকায় স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে কি রায় দেয় তার অপেক্ষায় রয়েছেন বলে জানিয়ে মানিক সরকার বলেন, এক্ষেত্রে আগামীকাল সুপ্রিম কোর্ট কী রায় দিচ্ছে, সেটা দেখতে হবে।
এদিকে বাংলার সিপিএম নেতারা মমতার কৃতিত্বকে খাটো করার চেষ্টা করলেও মানিক সরকারের মত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা ভারতে কমিউনিস্ট পার্টির অন্যতম প্রথম সারির নেতার মন্তব্যের প্রেক্ষিতে তৃণমূলের অন্যতম রাজ্য সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেন, সুপ্রিম কোর্টে মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এসআইআর যুদ্ধের প্রশংসা করলেন ত্রিপুরার প্রাক্তন সিপিএম মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার। আলিমুদ্দিন স্ট্রিট শুনতে পাচ্ছে?