সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
‘ভালোবাসা দীর্ঘজীবী হোক!’ ভ্যালেন্টাইনস ডে উপলক্ষে এভাবেই সকলকে শুভেচ্ছা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই প্রথমবার ভ্যালেন্টাইনস ডে-তে নিজের অনুভূতির কথা শেয়ার করলেন। শনিবার এক্স হ্যান্ডলে বিখ্যাত রবীন্দ্রসঙ্গীতের দুটি লাইন লিখেছেন তিনি। এরপরই প্রেমকে বৃহত্তর জগতের প্রেক্ষিতে তুলে ধরেছেন মুখ্যমন্ত্রী। শেষে লিখেছেন, ‘ভালোবাসা দীর্ঘজীবী হোক!’
বিশেষ বিশেষ দিনে সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করে শুভেচ্ছা জানিয়ে থাকেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কোনও উৎসব, পার্বণ বাদ যায় না। তবে ভ্যালেন্টাইনস ডে বা প্রেমদিবসেও রাজ্যবাসীকে মুখ্যমন্ত্রীর শুভেচ্ছাবার্তা এই প্রথম। অনেকেরই মতে, এতে বিশুদ্ধ ভালবাসার আড়ালে রাজনীতিই রয়েছে। বিশেষত, যখন সামনে বিধানসভা নির্বাচন। বস্তুত, মমতার পোস্টটি পড়ে দেখলে সেই বিষয়টি স্পষ্ট। বাঙালি জীবনে রবীন্দ্রনাথ ছাড়া যে ভালোবাসা নিতান্তই শূন্য, তাও উঠে এল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পোস্টে। শুরুতেই তিনি লিখলেন – ”তোমারেই যেন ভালোবাসিয়াছি শত রূপে শতবার/জনমে জনমে যুগে যুগে অনিবার।” এরপর তিনি লিখেছেন, প্রেমদিবস আসলে এমন এক উদযাপনের দিন, যার ব্যাপকতা সবচেয়ে বেশি এবং যে অনুভূতি সবচেয়ে মহৎ।
ব্যক্তিগতভাবে প্রেম অথবা ভালোবাসা তাঁকে কীভাবে জীবন সংগ্রামের অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে, তা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, ‘ভালোবাসার এই গভীরতাই আমাকে মানুষের জন্য পথে নামা এবং এই যাত্রাকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছে। ভালোবাসা মানুষকে সমস্ত ঝড়ঝাপটা সামলাতে শেখায়, ধৈর্যশীল করে তোলে এবং ন্যায়বিচার, সম্মান বজায় রাখার জন্য লড়তে শেখায়।’
মুখ্যমন্ত্রীর এমন পোস্টের পরে স্বাভাবিক ভাবেই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে রাজনৈতিক দলগুলি। বিজেপির মুখপাত্র প্রণয় রায়ের বক্তব্য, ‘আমরা যারা ভারতীয়, তাদের কাছে ভালবাসা ৩৬৫ দিনের। আলাদা করে ১৪ ফেব্রুয়ারির কোনও গুরুত্ব নেই।’ খোঁচা দিয়ে প্রণয় এ-ও বলেন, ‘তোমারেই যেন ভালোবাসিয়াছি বলতে মুখ্যমন্ত্রী কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তির কথা বলতে চেয়েছেন কি না, তা বলা মুশকিল।’
সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী অবশ্য মুখ্যমন্ত্রীর পোস্টের কথা শুনে প্রথমেই হেসে ফেলেছেন। তার পরে বলেছেন, ‘আমাদের ছাত্র সংগঠন এসএফআই মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির কাছেই (রাসবিহারীতে) ‘ভালবাসার ইস্তাহার’ নামে প্রগতিশীল সাহিত্যের স্টল খুলেছে। মুখ্যমন্ত্রী ওখানে একবার ঘুরে যেতে পারেন।’