সুষমা পাল মন্ডল। কলকাতা সারাদিন।
“মাতৃরূপেণ সংস্থিতা”—এই ভাবনাকেই কেন্দ্র করে দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুর ব্লকের হাসানপুর বিদ্যাধরপুর জুনিয়র হাই স্কুলে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল এবারের বাৎসরিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা।
শুধু দৌড়, লং জাম্প বা বল নিক্ষেপে সীমাবদ্ধ থাকেনি অনুষ্ঠান; বরং মঞ্চজুড়ে উঠে এসেছে আজকের সমাজে নারীর সাফল্য ও সক্ষমতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
উদ্বোধনী বক্তব্যে স্কুলের প্রধান শিক্ষক অলোক নায়েক বলেন, আজকের দিনে বাংলা তথা ভারতবর্ষের মেয়েরা শিক্ষাক্ষেত্র, প্রশাসন, বিজ্ঞান, ক্রীড়া—প্রতিটি ক্ষেত্রেই নিজেদের দক্ষতার পরিচয় দিচ্ছেন।
একসময় যে সমাজে নারীরা ঘরের চার দেয়ালের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিলেন, আজ সেই সমাজেই তারা আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের মুখ উজ্জ্বল করছেন।

তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, ভারতের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী Indira Gandhi থেকে শুরু করে বাংলার প্রথম মহিলা মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee— নেতৃত্বের ক্ষেত্রে নারীরা আজ অগ্রগণ্য। মহাকাশ গবেষণায় Kalpana Chawla এবং Sunita Williams-এর সাফল্য নতুন প্রজন্মকে স্বপ্ন দেখতে শেখায়। ক্রীড়াক্ষেত্রে Saina Nehwal, Sania Mirza, Jhulan Goswami কিংবা Smriti Mandhana— সকলেই প্রমাণ করেছেন, অধ্যবসায় আর আত্মবিশ্বাস থাকলে সাফল্য ধরা দেয়।

প্রধান শিক্ষকের কথায়, “আজকের ছাত্রীদের বুঝতে হবে—তোমরাই আগামী দিনের সমাজ গড়ার কারিগর। নিজেদের উপর বিশ্বাস রাখলে কোনও বাধাই অতিক্রমণ করা অসম্ভব নয়।” তাঁর এই বক্তব্যে উপস্থিত ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে, বিশেষ করে মেয়েদের চোখেমুখে ধরা পড়ে নতুন উদ্দীপনা।


ক্রীড়া প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের পাশাপাশি এলাকার বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের উপস্থিতি অনুষ্ঠানকে আরও মর্যাদাপূর্ণ করে তোলে।


সারাদিন জুড়ে নানা ইভেন্টে অংশ নেয় পড়ুয়ারা। ছাত্র ছাত্রীরা বিভিন্ন ধরনের পারফরমন্স করার পাশাপাশি ছদ্মবেশ প্রতিযোগিতাতেও অংশ নেয়।


উচ্ছ্বাস, প্রতিযোগিতার স্পিরিট আর পারস্পরিক সহযোগিতার মধ্য দিয়ে দিনটি হয়ে ওঠে স্মরণীয়।

শেষে পুরস্কার বিতরণীর মাধ্যমে সমাপ্তি হলেও, “মাতৃরূপেণ সংস্থিতা” থিমের বার্তা যেন থেকে গেল সকলের মনে—নারী শক্তিই সমাজের আসল চালিকাশক্তি।