সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
প্রয়াত হলেন বাংলার রাজনীতির চাণক্য মুকুল রায়। রবিবার গভীর রাতে কলকাতার এপোলো হাসপাতালে দীর্ঘ রোগের পরে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী তথা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় জাহাজ মন্ত্রী মুকুল রায়। মাত্র ৭২ বছর বয়স হলেও দীর্ঘদিন ধরেই বার্ধক্য জনিত একাধিক উপসর্গ সহ জটিল অসুখে ভুগছিলেন বঙ্গ রাজনীতির চাণক্য মুকুল রায়।
তৃণমূলের প্রতিষ্ঠা লগ্নের আগে থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কার্যত ছায়াসঙ্গী ছিলেন মুকুল রায়। ১৯৯৮ সালে তৃণমূলের প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকেই মমতার ছায়াসঙ্গী ছিলেন মুকুল। নিজের বর্ণময় রাজনৈতিক জীবনে বাংলার প্রত্যেকটি পঞ্চায়েত স্তর থেকে রাজ্য স্তর এবং জাতীয় স্তরের রাজনীতিবিদদের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন দক্ষ সংগঠক মুকুল রায়।
বাংলায় ২০১১ সালের পালা বদলের সময়ও ছিলেন মমতার সঙ্গে। কিন্তু পরবর্তীকালে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে মতানৈক্যের জন্য তৃণমূল ছেড়ে মুকুল রায় যোগ দেন বিজেপিতে।
২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮ তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে বিজেপিতে যোগদান করেন মুকুল রায়। তবে সেই মেয়াদ ছিল কিছুদিনের জন্য।
দলবদলের পরে তৃণমূল থেকে বিজেপিতে গিয়ে গত ২০২১ সালে কৃষ্ণনগর উত্তর কেন্দ্র থেকে বিজেপির টিকিটে ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন মুকুল। জিতে বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছিলেন। কিন্তু জেতার কয়েক মাসের মধ্যে আবার তৃণমূলে ফিরে আসেন মুকুল রায়। কিন্তু বিধায়কপদ থেকে ইস্তফা দেননি। ফলে তৃণমূলে যোগ দিলেও মুকুল খাতায়-কলমে ‘বিজেপি বিধায়ক’ হয়েই থেকে গিয়েছিলেন। তাঁকে পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির (পিএসি) চেয়ারম্যানও করা হয়েছিল।

মুকুল রায়ের ফের তৃণমূলে যোগদানের পরই দলত্যাগ বিরোধী আইনে তাঁর বিধায়ক পদ খারিজের দাবিতে সরব হন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ও বিজেপি বিধায়ক অম্বিকা রায়। বিধানসভার স্পিকার মুকুল রায়ের পদ খারিজ করতে অস্বীকার করায় মামলা গড়ায় কলকাতা হাইকোর্টে।

হাইকোর্ট মুকুল রায়ের বিধায়ক পদ খারিজের নির্দেশ দিলেও সুপ্রিম কোর্ট মানবিক দিক থেকে বিবেচনা করে হাইকোর্টের দেওয়া বিধায়ক পদ খারিজের নির্দেশের ওপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করে। যার জেরে বিষয়টি এখনও বিচারাধীন। এখনও কৃষ্ণনগর উত্তরের বিধায়ক মুকুল রায়।

তবে শেষ কয়েক বছর ধরে শারীরিক অসুস্থতার কারণে সক্রিয় রাজনীতি থেকে কিছুটা দূরেই ছিলেন তিনি। বর্ষীয়ান রাজনীতিক মুকুল রায়ের মৃত্যুতে পশ্চিমবঙ্গ ও জাতীয় রাজনীতিতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।