সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নির্দেশে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল রাজ্য সরকার এবং রাজ্য নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন পরপর দুদিন। কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির তত্ত্বাবধানে হওয়া এই বৈঠকে কেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্য সচিব মনোজ বন্ধু উপস্থিত ছিলেন সেই প্রশ্ন তুলে প্রাক্তন মুখ্য সচিবকে গ্রেফতারের দাবি তোলার পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের দাবি করেছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী তথা বঙ্গ বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। কিন্তু মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বিশেষ ডিভিশন বেঞ্চ বাংলার এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে যুগান্তকারী রায় দেওয়ার পরেই কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রীকে আইন শেখালো রাজ্য সরকার।
নবান্নের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যাবতীয় আইন মেনেই এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন মুখ্য সচিব মনোজ পন্থ। শুধু তাই নয় এই বৈঠকে উপস্থিত থাকার জন্য তাকে বিশেষভাবে দায়িত্ব দিয়েছিলেন বাংলার বর্তমান মুখ্য সচিব নন্দিনী চক্রবর্তী। প্রসঙ্গত কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের সভাপতিত্বে হওয়া এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী, মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল-সহ একাধিক শীর্ষ আধিকারিক। সেই প্রেক্ষিতেই পন্থের উপস্থিতি বৈধ বলে প্রশাসনের দাবি। কারণ বর্তমানে তিনি মুখ্যমন্ত্রীর প্রধান সচিব হিসেবে দায়িত্বে আছেন এবং সেই পদমর্যাদার ভিত্তিতেই বৈঠকে যোগ দেন।
অন্যদিকে, বিচারকরা এসআইআর-এর কাজ শুরু করার পরই কলকাতা-সহ রাজ্যের একাধিক জেলার আদালতে বোমাতঙ্ক। বিস্ফোরণে উড়িয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে মেইল করা হয়েছে। গোটা বিষয়টিকে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানালেন সিইও মনোজ আগরওয়াল। তাঁর বক্তব্য, বিচারকরা এসআইআর-এর কাজ করছেন সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে, বিচারকদের নিরাপত্তার দায়িত্ব রাজ্য পুলিশের ডিজি-র। একইদিনে কোর্টে কোর্টে বোমাতঙ্কের ঘটনায় পুলিশ প্রশাসন ব্যবস্থা নিচ্ছে, সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জানালেন রাজ্যের মুখ্যসচিব। বোমাতঙ্কের ঘটনায় রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী বলেন, ‘বিচারকদের নিরাপত্তার দায়িত্ব রাজ্য সরকারের’।
মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী বলেন, ‘আজ আসানসোল, দুর্গাপুর, চন্দননগর, বহরমপুর, কলকাতা সহ রাজ্যের বিভিন্ন আদালতে বোমাতঙ্কের খবর ছড়িয়ে পড়ে। তাতে সাধারণ মানুষ সহ বিচারপ্রার্থীরা অসুবিধার সম্মুখীন হয়েছেন। রাজ্য সরকারের তরফে পুলিশ দ্রুততার সঙ্গে ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। ঘটনার তদন্ত চলে এবং তা মিথ্যে প্রমাণিত হয়। আমরা সরকারের তরফ থেকে সকল বিচারক এবং বিচারপ্রার্থীদের আশ্বস্ত করছি যে রাজ্য সরকার তাদের সুরক্ষার জন্য সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।’
অন্যদিকে কলকাতার পুলিশ কমিশনার সুপ্রতিম সরকার বলেন, ‘সমস্ত জায়গায় তল্লাশির পরে কোথাও কিছু সন্দেহভাজন মেলেনি। আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিষয়টা দেখেছি। বিচারব্যবস্থা, বিচারপতি, বিচারপ্রার্থী-তাঁদের নিরাপত্তা দেওয়া আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার, আমরা সেইভাবেই বিষয়টা দেখছি। আতঙ্কের কোনও কারণ নেই। এই মেইলটি ভুয়ো ছিল। মেইল কে কী কারণে করেছিল, সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’