ব্রেকিং
  • Home /
  • কলকাতা /
  • Sonarpur /
  • Sonarpur Mela Clash : সোনারপুরে মেলায় তাণ্ডব! রড-উইকেট-লাঠি হাতে হামলা, রক্তাক্ত দোলতলা—চাঞ্চল্য রাজপুর-সোনারপুর পুরসভা এলাকায়

Sonarpur Mela Clash : সোনারপুরে মেলায় তাণ্ডব! রড-উইকেট-লাঠি হাতে হামলা, রক্তাক্ত দোলতলা—চাঞ্চল্য রাজপুর-সোনারপুর পুরসভা এলাকায়

রাহুল সিংহ মজুমদার। কলকাতা সারাদিন। দক্ষিণ ২৪ পরগনার Rajpur Sonarpur Municipality এলাকার দোলতলায় বসা বার্ষিক মেলায় আচমকাই নেমে এল অশান্তির ছায়া। সামান্য একটি বাইক পার্কিং নিয়ে বচসা থেকে মুহূর্তে পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছয় যে রড, উইকেট ও লাঠি হাতে দু’পক্ষ....

Sonarpur Mela Clash : সোনারপুরে মেলায় তাণ্ডব! রড-উইকেট-লাঠি হাতে হামলা, রক্তাক্ত দোলতলা—চাঞ্চল্য রাজপুর-সোনারপুর পুরসভা এলাকায়

  • Home /
  • কলকাতা /
  • Sonarpur /
  • Sonarpur Mela Clash : সোনারপুরে মেলায় তাণ্ডব! রড-উইকেট-লাঠি হাতে হামলা, রক্তাক্ত দোলতলা—চাঞ্চল্য রাজপুর-সোনারপুর পুরসভা এলাকায়

রাহুল সিংহ মজুমদার। কলকাতা সারাদিন। দক্ষিণ ২৪ পরগনার Rajpur Sonarpur Municipality এলাকার দোলতলায় বসা বার্ষিক মেলায়....

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
X
Threads
Telegram

আরও পড়ুন

রাহুল সিংহ মজুমদার। কলকাতা সারাদিন।

দক্ষিণ ২৪ পরগনার Rajpur Sonarpur Municipality এলাকার দোলতলায় বসা বার্ষিক মেলায় আচমকাই নেমে এল অশান্তির ছায়া। সামান্য একটি বাইক পার্কিং নিয়ে বচসা থেকে মুহূর্তে পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছয় যে রড, উইকেট ও লাঠি হাতে দু’পক্ষ একে অপরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। স্থানীয়দের বক্তব্য, কয়েক মিনিটের মধ্যেই আনন্দের মেলা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

ঘটনাটি ঘটেছে পুরসভার ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে। প্রত্যেক বছরের মতো এ বছরও দোলতলায় মেলা বসেছিল। সন্ধ্যার পর ভিড় বাড়তে শুরু করলে পার্কিং নিয়ে গোলমালের সূত্রপাত। অভিযোগ, এক ব্যক্তির বাইক কোথায় রাখা হবে তা নিয়ে প্রথমে কথাকাটাকাটি, তারপর ধাক্কাধাক্কি। এর পরেই দুই পক্ষের সমর্থকরা জড়ো হয়ে পড়েন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আচমকা কয়েকজন রড ও কাঠের লাঠি নিয়ে ঢুকে পড়ে মেলার ভেতরে। কারও হাতে ছিল ক্রিকেটের উইকেটও।
সংঘর্ষে কমপক্ষে পাঁচ থেকে ছয়জন আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। আহতদের মধ্যে রয়েছেন সঞ্জয় সাউ, সোমা ঘোষ, দেবাশিস দাস ও ঋতুপর্ণা ঘোষ। স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, সঞ্জয় সাউ নামে এক ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছিল বলে অভিযোগ। মহিলাদের হেনস্থার অভিযোগও উঠেছে, যদিও পুলিশ এখনও সেই বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।

ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত এলাকায় পৌঁছয় Sonarpur Police Station-এর পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মেলা প্রাঙ্গণ ও সংলগ্ন এলাকায় পুলিশ পিকেট বসানো হয়েছে। আপাতত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এলাকায় চাপা উত্তেজনা রয়েছে। দু’পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। পুলিশ সূত্রে খবর, সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান নেওয়া শুরু হয়েছে। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি।

ঘটনাটি ঘিরে রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়েছে। বিজেপির যাদবপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি অরিশ্বর মাইতি তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্য, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির দিকেই যাচ্ছে। যদিও শাসকদলের স্থানীয় নেতৃত্বের দাবি, এটি সম্পূর্ণ স্থানীয় স্তরের বিবাদ, এর সঙ্গে রাজনীতির কোনও যোগ নেই। তাঁদের মতে, মেলায় অতিরিক্ত ভিড় ও পর্যাপ্ত পার্কিং ব্যবস্থার অভাব থেকেই সমস্যা তৈরি হয়েছে।

দোলের মেলা এই অঞ্চলের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনের একটি বড় অংশ। প্রতিবছর বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ এখানে আসেন। ব্যবসায়ীরাও সারা বছরের আয়ের বড় অংশ এই কয়েক দিনের ওপর নির্ভর করেন। ফলে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও আস্থার প্রশ্ন উঠবে বলেই মনে করছেন অনেকে।

এই ঘটনার পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—এত বড় জনসমাগমের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল কি? পার্কিং নিয়ন্ত্রণে স্বেচ্ছাসেবক বা পুলিশি তৎপরতা যথেষ্ট ছিল কি? তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে প্রকৃত কারণ ও দায় কার।

এখন দেখার, প্রশাসন কত দ্রুত পদক্ষেপ করে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক করতে পারে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কারণ উৎসবের মেলায় মানুষ আনন্দ খুঁজতে যান—রক্তাক্ত স্মৃতি নিয়ে ফিরতে নয়।

আজকের খবর