সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল পদ থেকে রহস্যজনকভাবে সিভি আনন্দ বোসের পদত্যাগের পর বাংলার ২২তম রাজ্যপাল হিসেবে শপথ নিলেন রবীন্দ্র নায়ারণ রবি। বৃহস্পতিবার সকালে লোকভবনে তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করালেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল। হিন্দিতে শপথবাক্য পাঠ করেন নয়া রাজ্যপাল। শপথ শেষেই তাঁকে বাংলার সংস্কৃতি, বাংলার উৎসবের কথা বললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
তবে এদিন মমতার সৌজন্যের বার্তার মধ্যেই ছিল পরোক্ষ রাজনীতির ছোঁয়াও। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যপালের শপথ অনুষ্ঠানের শেষে কাছে ডেকে নেন আরএন রবির সহধর্মিনীকে। পাশে দাঁড় করিয়ে, তাঁর কাঁধে হাত রেখে ছবিও তোলেন। বিশ্ববাংলার উত্তরীয় পরিয়ে দেন সস্ত্রীক রাজ্যপালকে।
নির্ধারিত সময় মেনেই সকাল সাড়ে ১১টায় শপথগ্রহণ শুরু হয়। শপথগ্রহণের আগে এবং পরে জাতীয় গান বন্দে মাতরম এবং জাতীয় সঙ্গীত জনগণমন বাজানো হয়। শপথে উপস্থিত ছিলেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু, বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়, মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী। বিজেপি-র তরফে অনির্বাণ গঙ্গোপাধ্যায় শপথ অনুষ্ঠানে ছিলেন। তবে তিনি রাজ্যপালের ব্যাক্তিগত আমন্ত্রণে গিয়েছিলেন সেখানে। এদিন শপথ পর্ব শেষে রাজ্যপালের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্ব নেওয়ার আগে, রবি নাগাল্যান্ড, মেঘালয় এবং তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গের নতুন রাজ্যপাল হিসেবে আর এন রবি-র শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রবীণ সিপিএম নেতা বিমান বসুকে পিছনের সারি থেকে ডেকে সামনের সারিতে বসালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৈরি করলেন রাজনৈতিক সৌজন্যের নয়া নজির।

অতিথিদের আসন গ্রহণের মধ্যে মুখ্যমন্ত্রীর নজরে পড়ে—বর্ষীয়ান বাম নেতা বিমান বসু তৃতীয় সারিতে বসে রয়েছেন। তা দেখেই নিজের আসন থেকে উঠে তাঁর দিকে এগিয়ে যান মমতা। হাসিমুখে বলেন, ‘বিমানদা, পিছনে কেন? আপনি সামনে আসুন।’ মুখ্যমন্ত্রীর এমন আহ্বানে কিছুটা বিস্মিত হলেও শেষ পর্যন্ত তাঁর অনুরোধ রাখেন বিমান বসু। তবে এই গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে নজর কেড়েছে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর অনুপস্থিতি।

মমতা রাজ্যপালকে বলেন, ‘বাংলার সংস্কৃতি, বাংলার উৎসব দেখবেন।’ এরপরই তাঁর সংযোজন, ‘বাংলার মানুষ তাঁকেই ভালোবাসে যিনি বাংলাকে ভালোবাসেন।’ সঙ্গে সঙ্গে আরএন রবির জবাব, ‘হ্যাঁ, আমি জানি, বাংলা ভারতের সাংস্কৃতিক রাজধানী।’ মমতার এই বক্তব্য আপাত ভাবে সৌজন্যমূলক হলেও তিনি যে আরএন রবিকে রাজনৈতিক বার্তাই দিলেন, তা মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অধিকাংশই।