সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
‘পররাষ্ট্র নীতিকে সার্কাসে নামিয়ে এনেছে মোদি সরকার। নিজের জমার রঙের সাথে অন্য রাষ্ট্রনায়কের জামার রং মিললে তাঁকে জড়িয়ে বোকা বোকা হাসলেই পররাষ্ট্র নীতি হয়না। এটি অত্যন্ত জটিল কূটনৈতিক ব্যাপার। সেখানে বার বার কেন্দ্র ব্যর্থ। কেন্দ্রের ব্যর্থতার দায়ভার আমাদের নিতে কেন হবে?’ এভাবেই কেন্দ্রের মোদি সরকারের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ করে সরব হল তৃণমূল। বৃহস্পতিবার তৃণমূল ভবনে রাজের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এবং তৃণমূলের অন্যতম মুখপাত্র তনময় ঘোষ সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে ৩ দিন ধরে ফোন করে যাচ্ছি লাইন পাওয়া যাচ্ছে না। এই সরকার একটার পর একটা পরিকল্পনা ছাড়া সিদ্ধান্ত নেয়। এই সরকার মানববিরোধী সরকার, লাইনে দাঁড় করানো সরকার। আমি কয়েকটা ছবি দেখাচ্ছি, দেখুন। প্রথম হল নোটবন্দি। হঠাৎ রাতে বললেন সব কালো টাকা ফেরত আসবে। আসলে ৯৯% টাকা ফেরত এল। মানুষ লাইনে দাঁড়াল। করোনার সময় হঠাৎ করে লকডাউন, তবে সব দেশে সময় দেওয়া হয়েছে। এখানে দেওয়া হয়নি।পরিযায়ী শ্রমিকরা হেঁটে ফিরতে গিয়ে মারা গিয়েছেন। শুধুমাত্র কেন্দ্রের অপদার্থতার জন্য এই অবস্থা। আবার সার এর সময় লাইনে দাঁড় করানো। বিজেপি শাসিত কেন্দ্রীয় সরকারের নীতি, আদর্শের জন্য প্রতিটি মানুষ ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। বহু মানুষের ব্যবসা বন্ধ হয়েছে। করোনাকালে যখন সারা দেশে অক্সিজেন সঙ্কট তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাস্তায় নেমে এর সমাধান করেছেন। বলতে পারবেন না কোথাও রাজ্যে অক্সিজেন এর ঘাটতি হয়েছে। এদিকে প্রধানমন্ত্রী শুধু দেশবিদেশ ঘুরে বেড়াচ্ছেন, জামা পরিবর্তন করছেন, হাসাহাসি করছেন। উনি নালার গ্যাস থেকে চা বিক্রি করতেন তাহলে সেই গ্যাস এখন তৈরী করে চাহিদা মেটানো হোক। অপদার্থ সরকার, তার দেশে থাকার অধিকার নেই। ২০১০ ক্রুড পেট্রোলিয়াম ৭৭ টাকা এখন হয়েছে ১০৯ আর গ্যাস ৩৪৫ টাকা, এখন হয়েছে ৯১৩। তিনগুন বেড়েছে। সবথেকে বেশি ট্যাক্স নেয় ভারত সরকার। আমাদের বলা হচ্ছে তোমরা টাকা কমাও তাহলে আমাদের পাওনা টাকা আগে ফেরত দাও। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন ট্যাক্সের ওপর ট্যাক্স তার ওপর আবার ট্যাক্স। বাংলার মানুষ চিন্তা করবেন না। যতটা সাধ্যের মধ্যে আছে ততটা দিয়ে আমরা চেষ্টা করবো। মুখ্যমন্ত্রী একাধিক মিটিং করছেন। আমাদের সরকার মানুষের পাশে থাকবে। ডিএম, এসপিদের সবরকম ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। পুরোটাই দৃশ্যকল্পের রাজনীতি করছেন নরেন্দ্র মোদি। উনি অপটিক্সের রাজনীতি করেন। সার্ভার নাকি ডাউন। কেমন সরকার চালাচ্ছেন যে জরুরি পরিষেবার সার্ভার ঠিক রাখতে পারছেন না। আপনি ইজরায়েলে গেলেন, ফিরে এলেন, আপনার জানা ছিল না যে যুদ্ধ ঘোষণা হবে? যদি জানা না থাকে তবে সেটা আপনার চরম ব্যর্থতা। আর জানা থাকলেও আপনি ব্যর্থ কারণ আপনি যথাযোগ্য ব্যবস্থা নেননি। মোদিজি আজ পার্লামেন্টে এসে বিবৃতি দিক সবাই সেটাই চায়। মানুষ জবাব চাইছে এই অবস্থা কেন হল।’
গ্যাস বুকিং নিয়ে কেন্দ্রের মোদি সরকারের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ করে চন্দ্রিমা বলেন, ‘গ্যাস বুক করবেন, বলল ২১ দিন পর গ্যাস পাবেন। সেটা রাতারাতি পাল্টে গেল। হয়ে গেল ২৫ দিন। মাঝে গ্যাস লাগলে কী হবে? একলাফে ২ থেকে ৬ লক্ষ চাহিদা বেড়ে গিয়েছে। কেন? এই ধরণের সঙ্কট তৈরী হয়েছে তাই। মানুষ আতঙ্কিত কী খাবেন। গৃহস্থের ঘরে আগুন লাগানোর জন্য ৬০ টাকা বেড়ে গেল রাতারাতি। গ্যাসের দাম এখন ১০০০ টাকা। ভাবুন কেন্দ্রীয় সরকারের পরিকল্পনা বলে কিছু নেই। বলছে ইন্ডাকশন কিনতে কিন্তু সেটা দিয়ে বেশি সংখ্যক মানুষের রান্না হবে না। হোটেল রেস্তোরা চলবে না। ৩১.৩ মিলিয়ন টন এলপিজি এখানে ব্যবহৃত হয় যার ৬২% আসে বাইরে থেকে। যে নীতি তৈরী করেছে সেটার কোন ঠিক নেই। আমদানিই হচ্ছে না। ৬২ % আমদানি হয় সেটা বন্ধ অথচ গ্যাস উদপাদন করতে বলছে। আত্মনির্ভর তো দূরের কথা, নীতিরই ঠিক নেই। ‘এসমা’ চালু হয়েছে, কিন্তু সরবরাহ না হলে উৎপাদন হবে কী করে। নোটবন্দির সময় লাইনে দাঁড়িয়ে কতজন মারা গিয়েছেন। লকডাউনে সকলকে এদিকওদিক দৌড় করিয়েছেন। এবার সার প্রক্রিয়া সকলে দেখেছেন। আবার মৃত্যু, লাইনে দাঁড়ানো।

সরকার চালাচ্ছেন অথচ পরিকল্পনা নেই। একটা কমিটি গঠন করেছেন কিন্তু কবে কাজ হবে সেই কমিটির কথা মত? মানুষকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছেন। এটা বিকশিত ভারতের নমুনা? আমরা এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হচ্ছি। আমার উত্তর চাই। এটা রাজনীতির কথা না, প্রতি ঘরে ঘরে এই প্রশ্ন উঠেছে। আমাদের দাবি এর সমাধান দিতে হবে। কতদিন চলবে সেটা জানাতে হবে। আমার যখন দিল্লি গিয়েছিলাম ট্রেন বন্ধ করে দিয়েছিল। এখন ১৩টা ট্রেন দিচ্ছে উত্তরবঙ্গ থেকে লোক আসবে তাই। এটা কোন নীতি?’