সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
‘আইপিএস, আইএসদের মধ্যে আমি ভাগাভাগি করি না। নতুন সিএস আপনারা করেছেন । তাঁকে শো কজ করা হয়েছে। হোম সেক্রটারি, ডিজি, সিপি, অপনারা করেছেন, আইসি, বিডিও আপনারা করেছেন। তারা জানবে কী করে বাংলার ডেমোগ্রাফি! সবটাই অমিত শাহ করিয়েছে। সবটাই অমিত শাহর চক্রান্ত। তাকেই ইস্তফা দিতে হবে। এটাই আমার দাবি। আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ইস্তফা দাবি করছি। বর্ডার আটকাতে পারে না। একটা অপদার্থ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী। শুধু বিজেপি করতে গিয়ে দেশটার সর্বানাশ করে দিয়েছে। নোটবন্দি করেছিল। এখন ভোটবন্দি করেছে।’ বৃহস্পতিবার মুর্শিদাবাদের সাগরদিঘির জনসভা থেকে মালদহের মোথাবাড়িতে গতকাল গভীর রাতে নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকদের ঘেরাও করার ঘটনার প্রেক্ষিতে এভাবেই চক্রান্তের অভিযোগ তুলে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সঙ্গে বিজেপির পাতা ফাঁদে পা না দেওয়ার জন্য বাংলার মানুষকে মমতার উপরে ভরসা রাখার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ‘কেন ভাবছেন না যে আমি আছি আপনাদের মাথার উপরে? এটুকু বিশ্বাস নেই, এটুকু ভরসা নেই? আপনারা কি চান বাংলাটা বিজেপির হাতে তুলে দিতে? যদি না চান তাহলে কথা দিন আপনারা শান্ত থাকবেন।’
তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, ‘বিহারের মতো বাংলায় ভোটভাগের চক্রান্ত হচ্ছে। ওদের প্ররোচনায় পা দেবেন না। বিজেপি চাইছে ভোট বানচাল করে রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করে দিতে। ফাঁদে পা দেবেন না। আইন শৃঙ্খলা রাজ্যের হাতে নেই। নির্বাচন কমিশন নিয়ে নিয়েছে। আর ওরা অমিত শাহর কথায় চলে।
চিফ সেক্রেটারি, হোম সেক্রেটারি, ডিজি চেঞ্জ হয়ে গিয়েছে, সিপি, ডিএম, এপি-রা চেঞ্জ হয়ে গিয়েছে। আমার হাত থেকে ক্ষমতা কেড়ে নিয়ে ইলেকশন কমিশন এখানে সুপার রাষ্ট্রপতি শাসন চালাচ্ছে। এক দিকে হোম মিনিস্টার, অন্যদিকে রাজ্যপাল। গতকাল রাত ১২টার সময় জানতে পেরেছি বিচারকদের ঘেরাও করে রেখেছে। মানুষের ক্ষোভ থাকতেই পারে, মুর্শিদাবাদ, মালদহ, উত্তর দিনাজপুর জুড়ে এবং আমার ভবানীপুরে বিজেপির গেম প্ল্যান অনুযায়ী সংখ্যালঘু ভোটারদের বাদ দেওয়া হয়েছে। এইসব জেলায় ঢেলে বাদ দেওয়া হয়েছে। ১ কোটি ২০ লাখ নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। তার জন্যই আমরা সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিলাম। সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, এটা হতে পারে না। যাদের নাম বাতিল হয়েছে তাদের জন্য ট্রাইবুন্যাল করে দিয়েছে। যাদের নাম বাতিল হয়েছে সেখানে সবাই আবেদন করবেন। ১৩টি ডকুমেন্ট ছাড়াও যদি কোনও ডকুমেন্ট থাকে সেসব নিয়ে যেতে বলেছে। আইনজীবী আমরা দেব।’
মালদহের ঘটনায় পূর্বপরিকল্পিতভাবে চক্রান্ত করে রাজ্যকে বদনাম করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে মমতা বলেন, ‘মনে রাখবেন লড়াইটা শান্তিপূর্ণ ভাবে করতে হবে। কিন্তু রাস্তা অবরোধ করা যাবে না, জাজদের ঘেরাও করা যাবে না। তার জন্য সুপ্রিম কোর্ট আজ সিবিআইয়ের আদেশ দিয়েছে। বিজেপির এটা গেম প্ল্যান। ওরা চায় নির্বাচন বানচাল করে এখানে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করতে। আপনারা কি সেটা চান, নাকি আপনারা শান্তি চান? যদি আমাকে বিশ্বাস করেন তাহলে দয়া করে আপনারা কারও প্ররোচনায় পা দেবেন না। আপানাদের এখানেও কিছু কিছু কমিউন্যাল লোক ঢুকেছে। যারা বিজেপির টাকায় হায়দরাবাদ থেকে উড়ে এসেছে আর এখানে টাকা নিয়ে ভোট ভাগাভাগি করার চেষ্টা করছে। রক্ষা করুন বাংলাকে।
মুর্শিদাবাদকে রক্ষা করুন। আপানদের তো বলেইছি আপনাদের কাউকে বের করতে দেব না। কাউকে ডিটেনশন ক্যাম্পে যেতে হবে না। কিন্তু আপনারা যদি আইন হাতে তুলে নেন তাহলে সিবিআই গ্রেফতার করবে ভোটের আগে। আমার হাতে আইন নেই এখন। সব ক্ষমতা কেড়ে নিয়েছে। এরকম ইলেকশন কমিশন কখনও দেখিনি। এই ল অ্যান্ড অর্ডারের জন্য নির্বাচন কমিশন দায়ি। তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি, জাজদের নিরাপত্তা দিতে পারেনি। হোম মিনিস্টারের লজ্জা করে না, প্ল্যান করেন। একদিকে নাম কাটেন, অন্যদিকে ভোট কাটেন। একদিকে এনআইএ করেন, অন্যদিকে সিবিআই করেন।

মনে রাখবেন গদ্দার আপনাদের মধ্যেও কম নেই। কে নিষেধ করেছে মন্দির মসজিদ করতে, কিন্তু ভোটের আগে? কতা টাকা পেয়েছেন আপনারা? হায়দারাবাদ থেকে নেতা নিয়ে এসেছেন যারা বিহারে মুসলিম ভোট ভাগাভাগি করে বিজেপিকে জিতিয়েছে। এখানও এদের একটাই পরিকল্পনা। এটা আপনারা বুঝতে পারছেন না। আপনাদের ছেলেমেয়েরা গ্রেফতার হবে। মালদার মানুষদের বলব দায় করে শান্ত হোন। কাল শুক্রবারের জুম্মা আছে। কারও কথায় এমন কিছু করবেন না যাতে সিবিআই করে, এনআইএ করে আপনাদের অ্যারেস্ট করে নিতে পারে। ভোটের আগে ভোটাধিকার কেড়েছে, যেটুকু ভোট আছে সেটাও যাবে। আমার সঙ্গে কেউ যোগযোগ করে না সরকারের। সিএস, হোম সেক্রেটারি কনট্যাক্ট করে না।’