সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
“ওরা কাকে ফাঁসায়নি। আমি কেন ছবি আঁকি? অভিষেক কেন ব্যবসা করে? আরে খাবে কী? ওর পরিবার নেই? চুরি করবে না ডাকাতি করবে? সৎ ভাবে ব্যবসা করলে আপনার আপত্তির কী আছে?” এভাবেই সিপিএম ও বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
‘মা বোনেরা সুপ্রিম কোর্টে আমি নিজে দাঁড়িয়ে ছিলাম বলে, কাল যে লিস্ট বেরিয়েছে ৩২ লক্ষ লোকের নাম উঠে গেছে। বাদবাকিটা আমরা চেষ্টা করব। চিন্তা করবেন না। অনেক নাম বাদ গেছে মুর্শিদাবাদে, উত্তর দিনাজপুরে, নদিয়ায় উকুন বেঠে বেছে নাম বাদ গেছে। মতুয়াদের নাম বাদ গেছে। শুনেছি আপনাদের নাম বাদ গেছে মতুয়াদের গাইঘাটায়। হরিণঘাটায় নাম বাদ গেছে। আমার ভবানীপুরেও ৪০ হাজার নাম বাদ গেছে। বাদ বাকিটা আমাদের চেষ্টা করতে হবে এবার দল আপনাদের আইনজীবী দেবে। আপনাদের সাহায্য করবে।’ সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরে সোমবার গভীর রাতে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের তরফে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পরে যেভাবে প্রায় সাতাস লক্ষ্য মানুষের নাম বাদ গিয়েছে তার প্রতিবাদে জনসভা থেকে তীব্র প্রতিবাদ জানালেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
চূড়ান্ত সাপ্লিমেন্টারি তালিকা নির্বাচন কমিশন প্রকাশ করার পরে দেখা গিয়েছে বিচারাধীন তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে ২৭ লক্ষ ১৬ হাজার ৩৯৩ নাম। আজ সেই তথ্য উল্লেখ করে মমতা বলেন, ‘আমার ভবানীপুর কেন্দ্র থেকেও ৪০ হাজারের নাম কেটে বাদ দিয়েছিল। এখন দেখতে হবে,কতজনের নাম রেখেছে, কতজনের বাদ দিয়েছে। ৩২ লক্ষ নাম উঠে গেছে । আর বাকিটা আমাদের চেষ্টা করতে হবে। ট্রাইব্যুনালে অ্যাপ্লাই করবেন, করেছেন নিশ্চয়ই সবাই। দল আপনাদের ল-ইয়ার দেবে ও আপনাদের সাহায্য করবে। একজনকেও বাংলা থেকে তাড়াতে দেব না। একদিকে নাম কাটছে, অন্যদিকে ভোট লুঠছে। একদিন লাইনে দাঁড়িয়ে আপনাদের সম্মান গেছে। একটা করে ভোট দিন আর বদলা নিন। যাতে আগামীদিনে আর কিছু করতে না পারে।’
‘বালু আমার ফেভারিট ক্যান্ডিডেট’
এদিন হাবড়ায় প্রচারে গিয়ে তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘বালু, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক আমার ফেভারিট ক্যান্ডিডেট। ওর প্রতি অবিচার করা হয়েছে। যেভাবে আপনাদের সঙ্গে এসআইআর নিয়ে অবিচার করা হয়েছে। আমি চাই বালু জিতুক।’ এভাবেই মঙ্গলবার উত্তর চব্বিশ পরগনার হাবরাতে প্রাক্তন খাদ্য মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক এর সমর্থনে নির্বাচনী জনসভা থেকে স্পষ্ট ভাষায় মমতা জানিয়ে দিলেন দুর্নীতির অভিযোগে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক গ্রেপ্তার হয়ে জেল খেটে আসলেও তাঁর প্রতি আস্থা রয়েছে আগের মতোই। মমতার দাবি, ‘বালুকে হিংসা করে গ্রেফতার করেছিল। আমার মন্ত্রিসভায় ও ভাল কাজ করেছিল। বালু পচা বামেদের ভুয়ো রেশন কার্ড ধরেছিল। তাই বিজেপির সাহায্য নিয়ে ওকে আটক করেছিল। কারও কথা শুনে, কুৎসা-অপপ্রচার শুনে ভোট দেবেন না। বালুর নামে কুৎসা করছে শুনছি। এর জবাব দিতে হবে আপনাদের। বালুর নামে বদনাম দিয়ে বেড়াচ্ছে শুনছি। হাবড়ার প্রার্থীর নামে। জেনে রাখুন, আমার গভর্নমেন্টে বালু যত ভাল কাজ করেছে, এ কেউ করতে পারেনি। ওকে হিংসে করে গ্রেফতার করেছিল। কোনও প্রমাণ পায়নি। কেন গ্রেফতার করেছিল? ওই পচা সিপিএম পার্টির দেড় লক্ষ নাম রেশন কার্ডে ঢুকিয়ে দিয়েছিল। সেগুলো ফল্স নামে রেশন দিত। এই চুরি ধরেছিল বালু। তাই ভুয়ো কেসে ফাঁসিয়েছে। ডিজিটাল রেশন কার্ডও বালু করেছিল। এই কাজটা এত সোজা ছিল না। পাচার হত আগে রেশনের মাল। প্রত্যেকটা গাড়ি দেখা, সব বালু করেছিল। সেই ছেলেটাকে ফাঁসানো হয়েছিল।’
চাকদহের সভা থেকে বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ‘আমি কথা দিলে কথা রাখি। বিজেপির শুধু কথা ফুলঝুরি। কথা দিয়ে যাচ্ছি, একটা লোককেও বাংলা থেকে তাড়াতে দেব না! লক্ষ লক্ষ সেন্ট্রাল ফোর্স পাঠাচ্ছে। আমাদের থাকতে দিতে হবে, খেতে দিতে হবে।’ নির্বাচনকে গণতন্ত্র ও সম্মানের লড়াই হিসেবে তুলে ধরে তাঁর বক্তব্য, ‘বাংলায় বিজেপিকে শূন্য করতে হবে, কোনও দলকে একটি ভোটও নয়। এ বারের ভোট ঠিকানা, গণতন্ত্র, ভাষা বাঁচাবার। সম্মান বাঁচানোর লড়াই।’

এছাড়াও, সভা থেকে সাম্প্রতিক হিংসার প্রসঙ্গ তুলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ‘কালকেও তিন জন মারা গিয়েছে। তাঁদের মেরে ফেলা হয়েছে। মুর্শিদাবাদ, কেশপুরের লোক। আমি এর প্রতিবাদ জানাই। আড়াইশো লোক মারা গেছে এসআইআর – এর কারণে। তাঁদের দিকে একটু তাকান। কারও নাম উঠেছে, কারও ওঠেনি। সে-ও আপনাদের প্রতিবেশী। আপনাদের লাইনে দাঁড় করিয়েছে। আপনারাও ভোটের লাইনে দাঁড়িয়ে এই অসম্মানের বদলা নিন। গণতন্ত্রের মাধ্যমে একটা করে ভোট দিন। একটা করে বদলা নিন। যাতে আগামী দিন বাংলাকে দখল করতে না পারে।’