শোভন গায়েন। কলকাতা সারাদিন।
“আগামী এক বছরের মধ্যে বাংলার প্রত্যেকটি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের শাখা সংগঠন গড়ে তুলুন।” আজ পূর্ব বর্ধমানের সভা থেকে এভাবেই বাংলার আরএসএস কর্মী সমর্থকদের দায়িত্ব বেঁধে দিলেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের প্রধান মোহন ভাগবত। ১০ দিনের বাংলা সফরে সংঘ প্রধান মোহন ভাগবত। আজ তিনি পূর্ব বর্ধমানে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের এক সভায় ভাষণ দেন। আদালতের অনুমোদনের পর আজকের এই সভার আয়োজন করা হয়। একদিকে যেমন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের ট্রেডমার্ক টুপি পড়ে দর্শক আসনে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী তথা বঙ্গ বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার, পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ, বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ সরকার সহ বঙ্গ বিজেপির প্রথম সারির নেতারা।
এই সভা থেকে সংঘ প্রধান বিশ্বের বৈচিত্র্যকে আলিঙ্গন করার গুরুত্বের উপর জোর দিয়ে বলেন, ‘হিন্দু সমাজ বিশ্বাস করে যে বৈচিত্র্য ঐক্যের মধ্যে নিহিত। সংঘের লক্ষ্য সমগ্র হিন্দু সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করা’। মোহন ভাগবত এদিন তাঁর ভাষণে আরও বলেন, ” সারা দেশে সংঘের ১ লক্ষ ৩০ হাজারেরও বেশি স্বেচ্ছাসেবক রয়েছেন। ভারতের অগ্রগতিতে অর্থপূর্ণ অবদান রাখাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য” । বাংলায় এদিনের সমাবেশে ভাষণ দেওয়ার সময়, মোহন ভাগবত বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের গুরুত্বকে তুলে ধরেন।
আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত বলেন, “সঙ্ঘকে একটাই কাজ করতে হবে – সমাজকে একত্রিত করা, একে একতাবদ্ধ রাখা এবং এমন মানুষ তৈরি করা যারা তাদের জীবন এভাবে যাপন করে, এটি সঙ্ঘের কাজ। সংঘের কাজ বোঝা উচিত। কারণ বহু শতাব্দী পর ভারতে এমন কাজ হয়েছে। আমার অনুরোধ সংঘকে বুঝতে হলে সংঘের ভিতরে আসা উচিত। কোনও ফি নেই, কোনও আনুষ্ঠানিক সদস্যপদ নেই এবং আপনি যখনই চান বাইরে যেতে পারেন।”
তিনি বলেন, “সঙ্ঘ কি করতে চায়? এই প্রশ্নের উত্তর যদি এক বাক্যে দিতে হয়, তাহলে সঙ্ঘ সমগ্র হিন্দু সমাজকে একত্রিত করতে চায়। কেন হিন্দু সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করবে? কারণ এই দেশের জন্য দায়ী সমাজ হিন্দু সমাজ। ভারতবর্ষের একটা স্বভাব আছে, আর যারা ভেবেছিল সেই প্রকৃতি নিয়ে বাঁচতে পারবে না, তারা নিজেদের আলাদা দেশ বানিয়েছে। হিন্দুরা বিশ্বের বৈচিত্র্যকে মেনে নিয়ে এগিয়ে যায়।”
সংঘ প্রধান বিশ্ব বৈচিত্র্যকে গ্রহণ করার গুরুত্বের উপরও জোর দেন এবং বলেন যে হিন্দুরা বিশ্বের বৈচিত্র্যকে গ্রহণ করেই বিকশিত হছে। হিন্দু ঐক্যের প্রয়োজনীয়তার কথা পুনর্ব্যক্ত করে ভাগবত বলেন, “ভালো সময়েও চ্যালেঞ্জ সবসময়ই দেখা দেবে। সমস্যার প্রকৃতি অপ্রাসঙ্গিক। সেই সমস্যাকে মোকাবেলা করার জন্য আমরা কতটা প্রস্তুত তা গুরুত্বপূর্ণ”।
এই সময়, জনগণের কাছে আবেদন জানাতে গিয়ে মোহন ভাগবত বলেন- ‘আমার অনুরোধ, সংঘকে বুঝতে হলে, আপনাকে সংঘের ভেতরে আসতে হবে।’ কোনও ফি নেই, কোনও আনুষ্ঠানিক সদস্যপদ নেই এবং আপনি যখন খুশি নিজেকে সরিয়েও নিতে পারবেন । তিনি আরও বলেন, আমরা বলি ‘বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য’, কিন্তু হিন্দু সমাজ বিশ্বাস করে যে বৈচিত্র্য নিজেই ঐক্য”।