সুষমা পাল মন্ডল। কলকাতা সারাদিন।
বিজেপির সনাতনী হিন্দুত্ব বনাম তৃণমূলের সনাতনী সংস্কৃতি। একুশের বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই বাংলায় বিজেপি নেতার শুভেন্দু অধিকারী যেভাবে নিজেকে সনাতনী হিন্দুত্বের প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, এবারে তার পাল্টা দিতে মাঠে নামল তৃণমূল। আর এই প্রচেষ্টায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সনাতনী অস্ত্র শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গেই একুশের বিধানসভার নির্বাচনের আগে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যাওয়া রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়।
কয়েকদিন আগেই শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছিলেন আমি শুধুমাত্র হিন্দুদের বিধায়ক। কারণ হিন্দুরা আমাকে ভোট দিয়েছেন। এমনকি একুশের বিধানসভা নির্বাচনের সময়েও শুভেন্দু অধিকারী কে প্রকাশ্য জনসভা থেকে সংখ্যালঘু মুসলিমদের উদ্দেশ্যে পাকিস্থানে ফিরে যাওয়ার পরামর্শ দিতেও শোনা গিয়েছিল। যা নিয়ে বিতর্ক কম দানা বাঁধেনি।
এবারে বছর ঘুরলেই যেখানে 2026 সালের বাংলার বিধানসভা নির্বাচন সেই সময় বাংলায় হিন্দু এবং মুসলিম ভোটারদের মধ্যে স্পষ্ট ব্যবধান তৈরি করে ভোটে বাজিমাত করতে চাইছে বিজেপি। তাই বাংলাদেশে ইউনুসের নেতৃত্বাধীন উপদেষ্টা সরকার সেখানকার হিন্দুদের উপরে অত্যাচার করছে বলে অভিযোগ প্রকাশে আসার পরেই আন্তর্জাতিক সম্পর্কের কথা মাথায় না রেখেই বাংলায় বিজেপি ক্রমাগত ইউনুসের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেমেছে প্রকাশ্য রাস্তায়। যার নেতৃত্ব দিয়ে চলেছেন শুভেন্দু অধিকারী।
পশ্চিমবঙ্গে ‘হিন্দু জাগছে’ বলে মনে করছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তার আশা যে আর ৪ থেকে ৫ শতাংশ হিন্দু ভোটকে বিজেপির পক্ষে আনতে পারলে এরাজ্যে ১৫ বছরের তৃণমূলের শাসনের অবসান ঘটানো সম্ভব। আর শুভেন্দুর এই সমীকরণই ভাবাচ্ছে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। হিন্দু মুসলিম ভোটারদের ভাগাভাগি হয়ে গেলে একদিকে যেমন ভোট ব্যাঙ্কে হাত পড়বে ঠিক তেমনি বাংলায় আরো বেশি সাম্প্রদায়িক বিভাজন প্রকাশ্যে চলে আসবে।
মূলত এই লক্ষ্যে হিন্দুদের আকর্ষণ করতে ‘সনাতনীয় পথসভা’র আয়োজন করতে শুরু করেছে রাজ্যের শাসকদল ।
শুক্রবার(২৮ ফেব্রুয়ারী) বিকেল ৪ টা থেকে কলকাতা শহরতলি মেচেদার পাঁচ মাথার মোড়ে ‘সনাতনীয় পথসভা’র আয়োজন করা হয়েছিল । গলায় গেরুয়া উত্তরীয় ঝুলিয়ে মঞ্চে উপিস্থিত ছিলে তৃণমূলের মন্ত্রী থেকে তাবড় নেতারা। উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী রাজীব ব্যানার্জি, প্রবীর ঘোষাল প্রমুখ।
তৃণমূলের সোশ্যাল মিডিয়া পেজে বলা হয়েছে যে পশ্চিমবঙ্গ ব্রাহ্মণ ট্রাস্টের উদ্যোগে এই পথসভা আয়োজিত হচ্ছে এবং মেচেদার পথসভায় সনাতনীয় ব্রাহ্মণ ট্রাস্টের রাজ্য সম্পাদক শ্রীধর মিশ্রও উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু তৃণমূলের ‘সনাতনীয় পথসভা’কে ‘এক নির্লজ্জ ভণ্ডামির প্রদর্শনী’ বলে অবিহিত করেছেন রাজ্য বিজেপির যুব মোর্চার সহ সভাপতি তথা কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী তরুনজ্যোতি তিওয়ারি।
তিনি আজ এনিয়ে এক্স-এ লিখেছেন,’তৃণমূলের ‘সনাতনীয় পথসভা’ – এক নির্লজ্জ ভণ্ডামির প্রদর্শনী! দিনরাত সনাতন ধর্মের অপমান, কটাক্ষ আর ভোট ব্যাংকের রাজনীতি করা তৃণমূল কংগ্রেসের হঠাৎ করে ‘সনাতনী পথসভা’ আয়োজন দেখে গোটা পশ্চিমবঙ্গের মানুষ হতবাক। এটা কি শুধুই নির্বাচনী মৌসুমের হঠাৎ হিন্দু সাজার নাটক, নাকি ভোটের সময় এসে সনাতনীদের বিভ্রান্ত করার Al-Taqiya রাজনীতি?’

তিনি লিখেছেন,’যে দল মহাকুম্ভ মেলার মতো পবিত্র সনাতন ধর্মীয় আয়োজনকে মৃত্যুকুম্ভ বলে অপমান করেছিল, যেই দলের নেত্রী সরাসরি দুর্গাপুজো, সরস্বতী পুজোর ওপরে একের পর এক বিধিনিষেধ আরোপ করেছে, সেই দল আজ সনাতনীদের পাশে থাকার নাটক করছে! রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘সনাতনী পথসভা’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ অনুগামী রাজীব ব্যানার্জিকে দিয়ে হিন্দু ভোট টানার এই ভণ্ডামি এবার আর কাজ করবে না। আজ যারা ‘সনাতনী পথসভা’ করছে, তারাই কাল বলত “রামনাম সত্য নয়”।’