সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
পহেলগাঁও-র বৈসরণ ভ্যালিতে জঙ্গি হামলায় ২৬ প্রাণহানির ঘটনায় শোকাচ্ছন্ন দেশ। কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে পর্যটকদের হত্যা করার ঘটনায় গোটা দেশ তেতে উঠেছে। নির্মমভাবে গুলি করে জঙ্গিরা হত্যা করেছে পর্যটকদের। আর তাতেই শান্ত শুভ্র ভূস্বর্গ রক্তাক্ত হয়ে যায়। হাহাকার নেমে আসে একের পর এক পরিবারে। এবার জঙ্গি হামলায় ২৬ জন পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে বলে ভারত সরকার জানিয়েছে।
এই ঘটনার প্রতিবাদে আজ, বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার গেটে পাকিস্তানের জাতীয় পতাকা পোড়ালেন বিজেপি বিধায়করা। যার নেতৃত্বে ছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। আর এখান থেকেই ছাড়লেন পাকিস্তানের বিরুদ্ধে হুঙ্কার। আজ বিধানসভার গেটে পাকিস্তানের জাতীয় পতাকা পুড়িয়ে শুভেন্দু অধিকারী হুঙ্কার ছাড়েন, ‘আমরা এর বদলা চায়। ২৬ এর বদলে ২৬০টা মুন্ডু চাই।’
এই পরিস্থিতিতে বিধানসভার সামনে পাকিস্তানবিরোধী স্লোগান দিতে গিয়ে বিতর্কে জড়ালেন বাংলার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সর্বভারতীয় তৃণমূলের ভেরিফাইড সোশ্যাল মিডিয়া একাউন্ট থেকে এবং তৃণমূলের অন্যতম রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে পোস্ট করা হয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর একটি ভিডিও। সেই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, ‘পাকিস্তান মুর্দাবাদ’ বলার পরিবর্তে তিনি বলে ফেলেন ‘হিন্দুস্তান মুর্দাবাদ’, যা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে।
কাশ্মীরের পহেলগাঁওতে শুধু ধরে ধরে হিন্দুদের হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করল বিজেপি। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তোলপাড় গোটা দেশ। হিন্দুদের উপর এই আক্রমণ নামিয়ে আনা হয়েছে অভিযোগ তুলে তা নিয়ে ফুঁসে উঠেছেন শুভেন্দু অধিকারী। মৃত বৈষ্ণবঘাটার বাসিন্দা বিতান অধিকারীর স্ত্রীকে তিনি কথা দিয়েছেন, এটার বিচার হবেই। তাঁর ছোট্ট ছেলের পড়াশোনার দায়িত্বও নিয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার বিধানসভার গেটে পাকিস্তানের পতাকা পোড়ালেন বিরোধী দলনেতা। আর বললেন, ‘মোদী হ্যায় তো মুমকিন হ্যায়! ভরসা রাখুন। গাজার মতো পাকিস্তানকে ধুলিস্যাৎ করতে হবে। এবারেও ওদের ভিতরে ঢুকে সাইজ করে আসবে ভারতীয় সেনাবাহিনী।’
সোশাল মিডিয়ায় সেই ভিডিও পোস্ট করে খোঁচা দিলেন তৃণমূলের অন্যতম রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ। লিখলেন, “এই সেরেছে! গুলিয়ে লাট।”
তৃণমূল এই ঘটনায় কঠোর সমালোচনা করে ফেসবুকে লিখেছে, “শুভেন্দু অধিকারী একজন দেশবিরোধী! মুখে দেশপ্রেমের বুলি, হৃদয়ে বিষের ঝুলি। মুখোশ খুলে গেছে।” দলটি দাবি করেছে, ভিডিও মুছে ফেললেও জনগণের কাছে শুভেন্দুর ‘আসল চেহারা’ প্রকাশিত। তবে বঙ্গ বিজেপির পক্ষ থেকে দাবি, এটি ‘মুখ ফসকানো’ মাত্র।

এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করেন শুভেন্দু অধিকারী, যা নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের আইটি সেলের ইনচার্জ দেবাংশু ভট্টাচার্য তাঁকে চরম কটাক্ষ করেছেন। এর ফলে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে এবং বিজেপি কিছুটা অস্বস্তিতে পড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।