লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের মুখ্য সচেতকের পদ থেকে পদত্যাগ করলেন দলের প্রবীণ সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার বিকেলে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পরে নিজের এক্স হ্যান্ডেলে বিস্ফোরক অভিযোগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করলেন তিনি। তৃণমূল নেতৃত্ব এবং বিশেষ করে দলের মহিলা সাংসদ মহুয়া মৈত্রকে নিশানা করে যে মন্তব্য করেছেন কল্যাণ, তাতে দলের অন্দরে নতুন করে বিতর্কের আগুন জ্বলতে শুরু করেছে।
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, লোকসভায় দায়িত্ব পালন সংক্রান্ত ত্রুটির অভিযোগ তাঁর দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে। TMC internal conflict এবং Kalyan Banerjee resignation এই মুহূর্তে রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রে। কল্যাণ বলেন, “মমতাদি বলেছেন কো-অর্ডিনেশন নেই। আমি বুঝে গিয়েছি, সেই মন্তব্য আমার দিকেই। তাই পদত্যাগ করলাম।”
এরপরে কল্যাণ ঘোষিতভাবে বলেন, তিনি কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে মুখ্য সচেতকের দায়িত্ব নিতে অনুরোধ করেছেন। পরে জানা যায়, তৃণমূল কংগ্রেস লোকসভায় মুখ্য সচেতক হিসেবে কাকলিকেই মনোনীত করেছে।
Mahua Moitra vs Kalyan Banerjee controversy আবার নতুন করে প্রকাশ্যে আসে এই পদত্যাগের পরপরই। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “কেউ কেউ শুধু শাড়ি পরে সেজে গুজে লোকসভায় আসেন, কাজের কিছু নেই।’’ যা পরিষ্কারভাবেই মহুয়া মৈত্রকে লক্ষ্য করে বলা, এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
এক এক্স পোস্টে কল্যাণ অভিযোগ করেন, এক পডকাস্টে মহুয়া তাঁকে “শুয়োর” বলে আক্রমণ করেছেন, যা নাগরিক সমাজের পরিপন্থী। Parliament ethics ও TMC leadership crisis নিয়ে এবার দলের অন্দরে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কল্যাণ বলেন, “একজন পুরুষ জনপ্রতিনিধিকে এভাবে অপমান করলে তা গুরুত্ব পায় না, উল্টে প্রশংসিত হয়। কিন্তু একজন নারী হলে গোটা দেশ প্রতিবাদে মুখর হত।”
তিনি আরও বলেন, “আমার বক্তব্য কোনও নারীবিদ্বেষ নয়। আমি যুক্তির ভিত্তিতে সমালোচনা করেছি। জনসাধারণের কাছে যারা দায়বদ্ধ, তাদের প্রশ্নের মুখোমুখি হতেই হবে।’’ এই প্রসঙ্গে আবারও উঠে এসেছে সেই বিতর্ক, যেখানে মহুয়া মৈত্রর বিরুদ্ধে প্রশ্নের বিনিময়ে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। তখনও কল্যাণ প্রকাশ্যে তাঁকে কটাক্ষ করেছিলেন।

Mamata Banerjee on coordination issues এই বৈঠকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, সাংসদদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন না করলে দল কঠোর হবে। এই বার্তার প্রেক্ষিতেই কল্যাণের পদত্যাগ, মনে করছেন অনেকেই।
তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে কল্যাণ বনাম মহুয়া দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনার বিষয় ছিল। তবে এই প্রথমবার এত খোলাখুলি আক্রমণ ও ইস্তফার ঘটনায় বিষয়টি দলের ভাবমূর্তিতেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।