প্রিয়াঙ্কা মান্না। কলকাতা সারাদিন।
রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বহুদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (DA) মেটানোর পথে বড় পদক্ষেপ করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘোষণার পরপরই এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে নবান্নের অর্থ দফতর। সেখানে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, বকেয়া ডিএ প্রথম পর্যায়ে দুই কিস্তিতে দেওয়া হবে।
অর্থ দফতরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারীরা প্রথম কিস্তির বকেয়া ডিএ পাবেন চলতি বছরের মার্চ মাসেই। আর দ্বিতীয় কিস্তির টাকা দেওয়া হবে আগামী সেপ্টেম্বর মাসে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা ডিএ সংক্রান্ত অনিশ্চয়তার কিছুটা হলেও অবসান ঘটতে চলেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
শুধু কর্মরত সরকারি কর্মচারীই নন, রাজ্যের পেনশনভোগীরাও এই সিদ্ধান্তের আওতায় থাকবেন। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, পেনশনভোগীদের বকেয়া ডিএ-র টাকা সরাসরি তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা করা হবে। এর ফলে আলাদা করে কোনও প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে না অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের।
এই ঘোষণা ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও চর্চা শুরু হয়েছে। কারণ, রবিবার বিকেল চারটেয় রাজ্যে নির্বাচনের দিন ঘোষণা হওয়ার কথা রয়েছে। ঠিক তার ৪০ মিনিট আগেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বকেয়া ডিএ মেটানোর বড় ঘোষণা করেন। তিনি জানান, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে রাজ্য সরকার সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ পরিশোধ করবে।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, ২০০৯ সালের ROPA (Revision of Pay and Allowances) অনুযায়ী যে বকেয়া ডিএ রয়েছে, সেটিই মেটানো হবে। মার্চ মাস থেকেই এই বকেয়া ডিএ দেওয়া শুরু হবে বলে তিনি জানান।
প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দেয়। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, রাজ্য সরকারকে ২৫ শতাংশ বকেয়া ডিএ এরিয়ারসহ দিতে হবে। পাশাপাশি বাকি ৭৫ শতাংশ বকেয়া ডিএ মেটানোর জন্য সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয় ৩১ মার্চ পর্যন্ত।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই আবার ২০২৬ সালের অন্তর্বর্তীকালীন বাজেটে রাজ্য সরকার সরকারি কর্মচারীদের জন্য আরও ৪ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধির ঘোষণা করেছে। এর ফলে বর্তমানে রাজ্য সরকারি কর্মীদের ডিএ ১৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ২২ শতাংশে পৌঁছবে। এই নতুন ডিএ বৃদ্ধি কার্যকর হবে ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে।
তবে এই ঘোষণার পর সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে কিছুটা বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছিলেন, নতুন ডিএ বৃদ্ধি এবং বকেয়া ডিএ—দুই বিষয় কীভাবে আলাদা করে বাস্তবায়ন করা হবে।
এই প্রসঙ্গে আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, সরকার মূলত বকেয়া ডিএ মেটানোর বিষয়েই ঘোষণা করেছে। অর্থাৎ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী যে বকেয়া ডিএ রয়েছে, সেটিই ধাপে ধাপে পরিশোধ করা হবে।

সব মিলিয়ে, দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা ডিএ ইস্যুতে এই ঘোষণা গুরুত্বপূর্ণ মোড় বলে মনে করা হচ্ছে। সরকারি কর্মচারীদের একাংশ আশা করছেন, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী যদি দুই কিস্তিতে টাকা দেওয়া হয়, তাহলে বহুদিনের একটি বড় আর্থিক জটিলতার অবসান ঘটবে।