কলকাতা হাই কোর্ট এবার স্পষ্ট জানিয়ে দিল, ভবিষ্যতে মিছিল বা মিটিং করার অনুমতি চেয়ে ব্যক্তিগত মামলা একক বেঞ্চে শুনানি হবে না। এ ধরনের অনুমতি চাইলে তা জনস্বার্থ মামলা (PIL) হিসেবে ডিভিশন বেঞ্চে করতে হবে।
ঘটনার পটভূমি
তারাতলার শিবমন্দির এলাকায় একটি জনসভা আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল, যেখানে উপস্থিত থাকার কথা রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর। জনসভা আয়োজনের জন্য মামলা দায়েরের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন আইনজীবী ময়ূখ মুখোপাধ্যায়। কিন্তু বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ সেই আবেদন খারিজ করে দেন।
বিচারপতির মন্তব্য ছিল— “মিছিল-মিটিং নিয়ে অনুমতি চাইলে এ বার থেকে জনস্বার্থ মামলা করুন। ডিভিশন বেঞ্চে যান। একক বেঞ্চে এ ধরনের মামলা আর শোনা হবে না।”
শুভেন্দুর পূর্ববর্তী মামলার ইতিহাস
এর আগে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় সভা করার অনুমতি চেয়ে বহুবার কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর অভিযোগ ছিল, রাজ্য পুলিশ রাজনৈতিক কর্মসূচি আয়োজনের অনুমতি দিতে বাধা দিচ্ছে।
মার্চ ২০২৫-এ পূর্ব মেদিনীপুরের হলদিয়ায় মিছিলের অনুমতি দেয় হাই কোর্ট।
আরও কয়েকটি ক্ষেত্রে আদালতের নির্দেশে সভা আয়োজন করতে পেরেছিলেন শুভেন্দু। তবে এবার তাঁর উপস্থিতিতে হতে যাওয়া সভা নিয়ে মামলার অনুমতি হাই কোর্ট দেয়নি।
হাই কোর্টের এই অবস্থান রাজনৈতিক কর্মসূচি আয়োজন সংক্রান্ত মামলার প্রক্রিয়ায় বড় পরিবর্তন আনতে পারে। ভবিষ্যতে রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তি সভা-মিছিলের অনুমতি না পেলে সরাসরি PIL হিসেবে আবেদন জানাতে হবে। এতে মামলার সংখ্যা কমবে এবং আদালতের সময় বাঁচবে বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।
এই নির্দেশ রাজ্য রাজনীতিতে মিছিল-মিটিং ইস্যুতে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে। বিরোধীরা দাবি করতে পারে যে, সরকার প্রশাসনিকভাবে অনুমতি না দিয়ে গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করছে, আর রাজ্যপক্ষ বলতে পারে আদালতের নির্দেশে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের মর্যাদা দেওয়া হচ্ছে।
শুভেন্দু অধিকারীর সভা সংক্রান্ত মামলা খারিজের মধ্য দিয়ে কলকাতা হাই কোর্ট একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করল। ভবিষ্যতে সভা-মিছিলের অনুমতি সংক্রান্ত মামলা ডিভিশন বেঞ্চে জনস্বার্থ মামলার মাধ্যমে হবে—এটি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক উভয় ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয়ে উঠতে পারে।