ভারতের আবাসন বাজারে আসতে চলেছে বড় সুখবর। এবার বাড়ি কেনার স্বপ্ন পূরণ হতে পারে আরও সহজে। কেন্দ্রীয় সরকার জিএসটি (Goods and Services Tax) কাঠামো সহজ করার প্রস্তাব দিয়েছে। বর্তমানে জিএসটি-তে চারটি করের স্তর আছে – ৫%, ১২%, ১৮% এবং ২৮%। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, এই চারটি স্তরকে কমিয়ে দুটি স্ল্যাব রাখা হবে – ৫% এবং ১৮%।
কী বদল আনতে পারে নতুন GST কাঠামো?
নতুন কাঠামো কার্যকর হলে বেশ কিছু খাতে করের বোঝা হালকা হবে। বিশেষ করে রিয়েল এস্টেট বা আবাসন খাত সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে। বর্তমানে সিমেন্ট, ইস্পাত, টাইলস এবং পেইন্টের মতো নির্মাণ সামগ্রীর ওপর ২৮% পর্যন্ত জিএসটি বসে। এই হার যদি ১৮%-এ নামানো হয়, তবে প্রতি বর্গফুটে ফ্ল্যাটের দাম প্রায় ₹150 কমতে পারে।
অর্থাৎ, ১,০০০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট কিনতে গেলে ক্রেতারা প্রায় ₹1.5 লক্ষ টাকা পর্যন্ত সাশ্রয় করতে পারবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য একটি বড় স্বস্তির খবর।
বর্তমান নিয়মে কী আছে?
রেডি-টু-মুভ ফ্ল্যাট: এর ওপর কোনো জিএসটি নেই।
নির্মাণাধীন ফ্ল্যাট: এর ওপর ৪%-৫% জিএসটি দিতে হয়।
নির্মাণ সামগ্রী: সিমেন্ট, ইস্পাত, টাইলস ইত্যাদির ওপর আলাদা কর যুক্ত হয়, যা ফ্ল্যাটের মূল্যে প্রভাব ফেলে।
এই কারণেই অনেক মধ্যবিত্ত পরিবার ফ্ল্যাট কেনার আগে ভেবে দেখেন, কারণ অতিরিক্ত কর দিতে গিয়ে বাজেট ছাড়িয়ে যায়। নতুন জিএসটি কাঠামো চালু হলে এই সমস্যার সমাধান হতে পারে।
Luxury Sector-এ কী হবে?
নতুন প্রস্তাবে বলা হয়েছে, বিলাসবহুল পণ্য ও পরিষেবার ক্ষেত্রে ৪০% জিএসটি বসানো হতে পারে। ফলে সাধারণ মানুষ কম করের সুবিধা পেলেও উচ্চবিত্ত বা বিলাসবহুল সেক্টরে খরচ বাড়বে।
Real Estate Sector-এর জন্য বড় সুবিধা
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নতুন new GST structure real estate সেক্টরে এক নতুন প্রাণসঞ্চার করবে।
নির্মাণ খরচ কমবে।
ক্রেতাদের কাছে ফ্ল্যাট কেনা আরও সাশ্রয়ী হবে।
বিক্রেতা ও ডেভেলপাররা বাজারে প্রতিযোগিতামূলক দামে ফ্ল্যাট বিক্রি করতে পারবেন।
রিয়েল এস্টেটে বিনিয়োগ বাড়বে।
মধ্যবিত্তদের জন্য আশীর্বাদ
ভারতের শহর ও শহরতলিতে বাড়ি কেনার স্বপ্ন অনেকেরই থাকে। তবে করের অতিরিক্ত চাপ ও নির্মাণ খরচ বেড়ে যাওয়ায় স্বপ্ন অপূর্ণ থেকে যায়। নতুন জিএসটি কাঠামো চালু হলে মধ্যবিত্তরা সরাসরি লাভবান হবেন।
কবে আসতে পারে নতুন কাঠামো?
আগামী ৩-৪ সেপ্টেম্বর জিএসটি কাউন্সিলের বৈঠকে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। যদি অনুমোদন মেলে, তাহলে দীপাবলির আগেই মধ্যবিত্তরা বড় স্বস্তির খবর পেতে পারেন।
নতুন জিএসটি কাঠামো কেবল করের সরলীকরণ নয়, বরং এটি সাধারণ মানুষের স্বপ্ন পূরণের এক নতুন দিক খুলে দিতে পারে। মধ্যবিত্তরা যেমন উপকৃত হবেন, তেমনি দেশের আবাসন খাতও নতুন গতি পাবে।