শৌভিক তালুকদার। কলকাতা সারাদিন।
ভারতীয় পুরাণ থেকে গ্রীক মিথোলজি , আশ্চর্য শক্তিতে পাথরে পরিণত করার উদাহরণ ছড়িয়ে রয়েছে। শুধু পুরাণ কেন, কল্পবিজ্ঞান কিংবা অ্যান্টিসায়েন্সে এমন আশ্চর্য ঘটনা ঘটতেই পারে। কিন্তু বাস্তবে কি সম্ভব? আমেরিকার গোপন নথি বলছে, এমনটাই হয়েছে নয়ের দশকে রুশ সেনার সঙ্গে। এলিয়েনের আশ্চর্য ক্ষমতায় দেহের হাড় মুহূর্তে চুনা পাথরে পরিণত হয়েছে ২৩ রুশ সেনার। যাদের দেহের ডিএনএ পরীক্ষায় পাওয়া গিয়েছে সেই প্রমাণ। বদলে গিয়েছে ডিএনএ স্ট্রাকচার। আমেরিকার গোপন নথিতে বিশ্বজুড়ে আলোড়ন পরে গিয়েছে।
এই চাঞ্চল্যকর খবর প্রকাশ করল আমেরিকার সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি (সিআইএ)।আমেরিকান গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-এর গোপন নথি প্রকাশ্যে আসার পরে তেমনটাই ধারণা একাংশের। সম্প্রতি প্রকাশ্যে এসেছে সিআইএর-এর ডিক্লাসিফায়েড নথি। যার মধ্যে একটি নথি বিশ্বব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
কানাডিয়ান উইকলি ওয়ার্ল্ড নিউজ এবং ইউক্রেনীয় সংবাদপত্র হলোস উক্রাইনি-তে এই খবর প্রকাশিত হয়েছিল। ‘দ্য জো রোগান এক্সপেরিয়েন্স’ পডকাস্টেও এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
প্রায় ৩৫ বছর আগে, ঠান্ডা লড়াইয়ের সময় তৎকালীন সোভিয়েত রাশিয়ার সেনার উপর নাকি হামলা চালিয়েছিল ভিনগ্রহীরা। যার জেরে মুহূর্তের মধ্যে পাথরে পরিণত হয়েছিল ২৩ জন সৈনিক। সময়টা ১৯৮৯ কিংবা ১৯৯০। সিআইএয়ের প্রকাশিত ২৫০ পৃষ্ঠার তথ্য অনুযায়ী, সে সময় সাইবেরিয়ার এক ঘন জঙ্গলে সোভিয়েত রাশিয়ার সেনার একটি ইউনিটের মহড়া চলছিল। হঠাৎই তাঁরা মাথার উপর একটি ফ্লাইং সসার দেখতে পান। সঙ্গে সঙ্গে কেউ কেউ গুলি করে বা মিসাইল ছুড়ে সেটিকে নামান।
রিপোর্টে দাবি, মাটিতে আছড়ে পড়ার পর দেখা যায়, সেটি ইউএফও। যার মধ্যে থেকে বেরিয়ে আসে পাঁচ ভিনগ্রহী। তারা একসঙ্গে মিলে একটি বলের আকৃতি ধারণ করে। তারপরেই কোনও একটি শক্তি প্রবাহ তৈরি হয়, যার ফলে ২৩ জন সেনা পাথরে পরিণত হন।প্রত্যক্ষদর্শী দুই সৈন্য জানান, এই প্রাণীরা একত্রিত হয়ে একটি উজ্জ্বল সাদা গোলক আকৃতি ধারণ করে। তীব্র শব্দ ও আলো সহ বিস্ফোরিত হয়। এই বিস্ফোরণের ফলেই নাকি ২৩ জন সৈন্য পাথরের মূর্তিতে পরিণত হয়ে যায়। শুধুমাত্র ছায়ায় এবং সেই আলোর রেঞ্জ থেকে দূরে থাকা দুই সৈন্য এই আক্রমণের হাত থেকে রক্ষা পান।
কেবল দু’জন সেনা সেই সময় ছায়ায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। এলিয়েনদের ওই এনার্জির সংস্পর্শে সেভাবে না আসায়, তাঁরা বেঁচে যান। ওই দু’জনই জানান, ওই পাঁচ ভিনগ্রহী ভেঙে পড়া যান থেকে বেরিয়ে একসঙ্গে মিশে বলের আকৃতি নিয়েছিল। তারপরে সাদা রঙের খুব উজ্জ্বল আলোয় চারপাশে যেন এক বিস্ফোরণ হয়। তারপরেই একাধিক সেনা পাথরে পরিণত হয়ে যান।

সিআইএয়ের তথ্য বলছে, ওই ঘটনার পরেই ভিনগ্রহীদের যান এবং পাথরে পরিণত হওয়া সৈন্যদের মস্কোর গোপন ডেরায় নিয়ে যাওয়া হয়। ওই সৈন্যদের আকৃতি কিছুটা চুনাপাথরের মতো হয়ে গিয়েছিল।
এই তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই নতুন করে হইচই পড়ে গিয়েছে। উল্লেখ্য, ১৯৪৭ সালে আমেরিকার রোজওয়েল অঞ্চলে প্রথমবার ভেসে উঠেছিল অজানা উড়ন্ত বস্তুর ধ্বংসাবশেষ মেলার দাবি। তারপর থেকেই গোটা বিশ্বে ক্রমশ বাড়তে থাকে ফ্লাইং সসার দেখার দাবিদারদের সংখ্যা।