সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
২০২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনে তার দলের সমর্থন ছাড়া বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হওয়া সম্ভব নয় বলে দাবি করেছিলেন মঙ্গলবার। আর এবারে বুধবার সকালে আরও তাৎপর্যপূর্ণ জারি করে জানিয়ে দিলেন। আগামী বছরের বিধানসভা নির্বাচনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে সরাসরি ভোটে লড়াই করবে হুমায়ুনের নতুন দলের প্রার্থীরা। বুধবার হুমায়ুন জানিয়ে দিলেন, ‘কোনও দলের বিধায়ক ভাঙিয়ে প্রার্থী করব না। টিকিট দেব না। অন্য ধর্মনিরপেক্ষ দল থেকে ভালো মুখ বেছে নেব। ভবানীপুরেও প্রার্থী দেব। নন্দীগ্রামেও প্রার্থী দেব। মানুষ ইচ্ছা করলেই সরকার সরে যাবে। বিজেপি, তৃণমূলকে জব্দ করব। সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীকেও পরে বুঝে নেব। ২২ তারিখ দল ঘোষণা করব। ন্যাশনাল কংগ্রেস, সিপিএম, মিম এর মধ্যেও প্রার্থী বেছে নেব।’
মুর্শিদাবাদের বেলডাঙার বহিষ্কৃত তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর আগেই দাবি করেছিলেন তার সঙ্গে জোট গড়া নিয়ে কথা হয়েছে সিপিএম নেতা মোহাম্মদ সেলিমের। এবারে জানিয়ে দিলেন জোটের ক্ষেত্রে তার কাছে এগিয়ে রয়েছেন মিম নেতা আসাদ উদ্দিন ওয়াইসি।
বুধবার পাঁচ তারা হোটেল থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে স্পষ্ট করলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধেও প্রার্থী দেবেন তিনি। অর্থাৎ তাঁর দল ছাব্বিশের নির্বাচনে প্রার্থী দেবে ভবানীপুর- নন্দীগ্রামেও। তবে এক্ষেত্রে তিনি আরও একবার জোটে লড়ার ক্ষেত্রেই সওয়াল করলেন তিনি। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের জন্য পশ্চিমবঙ্গের সংগঠনের গতি আনতে চাইছেন ওয়েইসি। তাই গত মাসেই সদস্য সংগ্রহ অভিযান শুরু করা হয়েছে মিমের তরফে। ওয়েইসির তরফ থেকে হুমায়ুনকে প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তার মধ্যেই নিজের দল গড়ার কথা ঘোষণা করে দিলেন হুমায়ুন। হুমায়ুন এর আগেও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, তাঁর কাছে আগে জাতিসত্তা, তার পর রাজনৈতিক দল। তৃণমূল থেকে সাসপেন্ড হওয়ার দিনই ঘোষণা করে দেন ২২ ডিসেম্বরই নতুন দল গড়ছেন তিনি। তবে তাঁর লক্ষ্য, সরকার গঠন নয়, বিধানসভায় বিরোধী আসনে বসতে চান সদ্য তৃণমূল থেকে সাসপেন্ডেড ভরতপুরের বিধায়ক।১৩৫ টি আসনে প্রার্থী দেওয়ার কথা আগেই বলেছিলেন তিনি। তবে তাঁর টার্গেট ৯০ টি আসন! হুমায়ুনের এ সব ‘লক্ষ্য’ ‘বাবরি’ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর থেকে একাধিকবার সামনে এসেছে। কিন্তু এবার হুমায়ুনের দাবি, ‘২০২৬ এ তৃণমূল বা বিজেপি কেউই একক ভাবে সরকার গড়তে পারবে না। যিনিই মুখ্যমন্ত্রী হোন না কেন হুমায়ুন কবীরের সাহায্য নিতে হবে । আমাকে না নিয়ে কেউ মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে পারবেন না। কংগ্রেস সাইন বোর্ডে পরিণত হয়েছে । ছাব্বিশে ওদের চিহ্ন থাকবে না। কেউই এককভাবে সরকার গঠন করতে পারবে না। নির্ণায়ক শক্তি হব আমরাই।’

তিনি হুঁশিয়ারির সুরে আরও বলেন, ‘বাংলার সরকারের যে দুরবস্থা। পার্থ চ্যাটার্জি, জীবন সাহা জেল খেটেছে। এইসব ইস্যু নিয়ে মানুষের কাছে যাবো। মানুষ ইচ্ছা করলেই সরকার সরে যাবে। যেদিন আমার সব বিধায়ক নিয়ে আসব, সেদিন বোঝা যাবে আমার নির্ণায়ক শক্তি কতটা। অনেক স্বচ্ছ ভাবমূর্তির লোক আছে, তাদের মধ্যে বেছে বেছে প্রার্থী করব। আগামী ২২ ডিসেম্বর মুর্শিদাবাদ বহরমপুরের টেক্সটাইল মোড়ে তৃণমূলের কার্যালয়ের সামনে লক্ষাধিক মানুষের সমাবেশ করে নতুন দলের ঘোষণা করব। কলকাতাতেও নতুন দলের দুটি কার্যালয় হবে। একটি পার্ক সার্কাসে এবং আরেকটি সল্টলেক সেক্টর ফাইভে।’