সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
দিল্লিতে চলছে সংসদের অধিবেশন। তার মধ্যেই দলের লোকসভা এবং রাজ্যসভার সাংসদদের জরুরী বৈঠকে ডাকলেন তৃণমূলের পার্লামেন্টারি কমিটির চেয়ারপার্সন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
সোমবার বিকেল সাড়ে চারটেয় তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভার্চুয়াল বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। এই বৈঠকে রাজ্য থেকে নির্বাচিত সমস্ত লোকসভা ও রাজ্যসভার সাংসদরা উপস্থিত থাকবেন। সংসদ অধিবেশনের সময়েই এই বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে রাজনৈতিক মহলে।
বাংলায় ২০২৬ সালের আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যে শুরু হতে চলেছে বিশেষ ভোটার তালিকা পুনঃপরীক্ষণ। ইতিমধ্যেই একাধিক জেলার বুথ লেভেল অফিসারদের প্রশিক্ষণ শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। তৃণমূল কংগ্রেসের স্পষ্ট বার্তা, কোনও যোগ্য ভোটারের নাম যেন তালিকা থেকে বাদ না যায়। এই ইস্যুতে সাংসদদের সংসদে জোরদার সওয়ালের বার্তা দিতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী।
সম্প্রতি একাধিক রাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর হামলা ও হেনস্তার ঘটনা সামনে এসেছে, যেখানে আক্রান্তরা বাংলাভাষী। তৃণমূল এই ইস্যুতে আগেই প্রতিবাদ জানিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বৈঠকে এই বিষয়টি তুলে ধরে সাংসদদের দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বাংলা ভাষাভাষীদের নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষার জন্য কেন্দ্রকে চাপে রাখার নির্দেশ দিতে পারেন। এমনকি দেশের বিভিন্ন বিজেপি শাসিত রাজ্যের বাংলা ভাষায় কথা বলার অপরাধে বাঙ্গালীদের হেনস্থার অভিযোগের পাশাপাশি রবিবার সামনে এসেছে কিভাবে রাজধানীর দিল্লিতে বাংলায় কথা বলা বাঙালি শ্রমিকদের কাছ থেকে বাংলায় লেখা কাগজপত্র এবং বই দেখে সেগুলিকে বাংলাদেশী ভাষায় লেখা বলে উল্লেখ করে দিল্লি পুলিশ চিঠি দিয়েছে দিল্লির বঙ্গভবনে। দলীয় সাংসদদের সঙ্গে বৈঠকে এই বিষয়টি নিয়েও দিল্লিতে জোরদার আন্দোলনে নামার নির্দেশ দিতে পারেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
দেশের রাজধানীতে উপ-রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে নানা জল্পনা চলছে। বিজেপি শিবিরে ইতিমধ্যেই একাধিক হেভিওয়েট নেতার নাম ঘুরপাক খাচ্ছে। এই অবস্থায়, দলীয় সাংসদদের কোন পথে চলা উচিত তার রূপরেখা স্পষ্ট করতে পারেন তৃণমূল সুপ্রিমো।
আবাস যোজনা, ১০০ দিনের কাজ, স্বাস্থ্য পরিকাঠামো, রাস্তা প্রকল্প সহ বহু কেন্দ্রীয় প্রকল্পে আর্থিক বঞ্চনার অভিযোগ তুলেছে রাজ্য।
এই বঞ্চনার বিরুদ্ধে সাংসদদের সংসদে জোরদারভাবে বিষয়টি তুলে ধরার নির্দেশ দিতে পারেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা এই ভার্চুয়াল বৈঠক শুধুমাত্র সাংসদদের সংগঠনিক বার্তা দেওয়ার সভা নয়, বরং কেন্দ্রীয় নীতির বিরুদ্ধে সংসদে এককাট্টা হওয়ার কৌশল নির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ। নির্বাচন, ভাষা-নির্যাতন, আর্থিক বঞ্চনা ও সাংবিধানিক পদে দলের অবস্থান — সব মিলিয়ে বৈঠক ঘিরে চূড়ান্ত রাজনৈতিক গুরুত্ব তৈরি হয়েছে।