সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
‘সীমান্তের নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে বিএসএফ, যা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের অধীনে। অন্যদিকে দিল্লি পুলিশ, জম্মু-কাশ্মীরের পুলিশও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের অধীনে। ফলে এর দায় কার?’ অমিত শাহের বাংলা সফরের দিনে তাঁকে দেশের ব্যর্থতম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলে অভিযোগ করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
তৃণমূল সাংসদের আরও কটাক্ষ, ‘বিজেপির সাংসদরাই বলেন, দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একজন ঘুসপেটিয়া। ২০১৪ সাল থেকে বিজেপি কেন্দ্রে ক্ষমতায়, আর গত ছয় বছর ধরে অমিত শাহ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এত বছর পরও যদি অনুপ্রবেশ বন্ধ না হয়, তার দায় তো তাঁকেই নিতে হবে। আগে পদত্যাগ করুন, তারপর কথা বলুন।’
অমিত শাহকে দেশের ব্যর্থতম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলে তোপ দাগেন শাহ। বলেন, ‘ভারতবর্ষ স্বাধীন হওয়ার পর সারা দেশের সবথেকে ব্যর্থতম এবং অপদার্থতম যদি কোনও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থেকে থাকেন, তিনি অমিত শাহ।’ বুধবার একাধিক দাবিতে দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হবেন তিনি। তার আগে আজ মঙ্গলবার কলকাতা বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। আর সেখান থেকে অনুপ্রবেশ ইস্যুতে অমিত শাহকে জবাব দিতে গিয়ে এদিন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপিরই দুই সাংসদ অর্থাৎ অনন্ত মহারাজ এবং জগন্নাথ সরকারের বক্তব্যকেও হাতিয়ার করেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘গত কয়েকদিন আগেই রাজ্যসভার সাংসদ অনন্ত মহারাজ বলেন দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সবথেকে বড় অনুপ্রবেশকারী এবং পাকিস্তানি। দু’মাস আগে রানাঘাটের লোকসভার সাংসদ জগন্নাথবাবু ক্ষমতায় আসলে বর্ডার বলে কিছু থাকবেন না বলছেন। সেই বর্ডার সিকিউর করতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে দায়ী করছেন অমিত শাহ।’ শুধু তাই নয়, এহেন মন্তব্যের পরেও দুই সাংসদকে বিজেপিকে কোনও শোকজ নোটিশ দেয়নি বলে মন্তব্য ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। এই প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে দিল্লি বিস্ফোরণ, পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার প্রসঙ্গ তুলেও বিজেপির বিরুদ্ধে তোপ দাগেন।
মতুয়াদের নাগরিকত্ব নিয়ে ‘গাজর ঝোলানো’ হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন সাংসদ। নাম না করে কেন্দ্রীয়মন্ত্রী তথা বিজেপি সাংসদ শান্তনু ঠাকুরকেও আক্রমণ শানান। তিনি বলেন, ‘মতুয়াদের নাগরিকত্ব দেখিয়েগাজর দেখিয়েছেন, এদিকে মতুয়াদের প্রতিনিধি, লোকসভার সাংসদ বলছেন, মতুয়াদের নাম বাদ গেলে বাদ যাবে।’ আর এটাই বিজেপির রাজনীতি বলেও কটাক্ষ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের।