সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
কিছুদিন আগেই তাঁকে বলতে শোনা গিয়েছিল, ‘নীতি-নৈতিকতা ছাড়া, আর যাই হোক, কমিউনিস্ট পার্টি হয় না।’ এবারে বাংলার কমিউনিস্ট পার্টির নেতা ও কমরেডরা যে কমিউনিস্ট হিসেবে নিজেদের যোগ্যতা বিসর্জন দিয়েছে, তা প্রকাশ্যে এনে সিপিএমের রাজ্য কমিটি থেকে পদত্যাগ করলেন প্রতীক উর রহমান! একুশের বিধানসভা নির্বাচন এবং চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনে ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্রের প্রার্থী হয়েছিলেন প্রতীক উর। জিততে না পারলেও তাঁর লড়াকু মনোভাব সবার নজর কেড়েছিল। তাঁর এই লড়াকু মনোভাবের জন্যই তিনি জনপ্রিয়।
এবার ছাব্বিশের ভোটেও প্রতীক উরকেই ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করানোর জোরালো সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু আচমকা দল ও পার্টির রাজ্য কমিটি থেকে প্রতীক উরের ইস্তফা সবকিছুর উপর এখন প্রশ্নচিহ্ন ফেলে দিয়েছে। একদিন আগেই গতকাল দল ছাড়ার কথা বলে চিঠি পাঠিয়েছিলেন প্রতীক উর।
সেই চিঠি-ই এখন ভাইরাল সোশ্যাল মিডিয়ায়। চিঠিতে লেখা, ‘সাম্প্রতিক সময়ে পার্টির ভাবনা ও কর্মপদ্ধতির সঙ্গে আমি নিজেকে খাপ খাওয়াতে পারছি না। এমতাবস্থায় আমি পার্টির প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে অব্যাহতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ সাম্প্রতিক সময়ে পার্টির জেলা ও রাজ্য নেতৃত্বের বেশ কিছু ভাবনা এবং কর্মপদ্ধতির সঙ্গে তিনি নিজেকে খাপ খাইয়ে নিতে পারার কারণে তাঁকে মানসিক দ্বন্দ্বের মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে, আর সেই কারণেই তিনি পার্টির জেলা ও রাজ্য কমিটির দায়িত্ব-সহ পার্টির প্রাথমিক সহাস্য পদ থেকেও অব্যাহতির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে স্পষ্ট উল্লেখ চিঠিতে।
যদিও প্রতীক-উর এই বিষয়ে প্রকাশ্যে এখনও মুখ খোলেননি। নিজের সোশ্যাল মিডিয়াতেও কিছু জানাননি। একটি সংবাদ মাধ্যম এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া নিতে তাঁর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, ‘যা বলার দলের ভিতরে বলেছি। মিডিয়ার সামনে এখনই কোনও কথা বলছি না।’

জেলায় জট সিপিএমের
সিপিএমের এককালের লাল দুর্গ বলে পরিচিত দক্ষিণ ২৪ পরগনাতেই ২০০৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে প্রথম ধ্বস নেমেছিল। এরপর থেকে দক্ষিণ ২৪ পরগনায় কার্যত মুছে গিয়েছে সিপিএম। তার উপরে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার মত জেলায় যেখানে আরএসপি এবং সিপিআই এর মত শরিক দলের ভরসায় দীর্ঘকাল বামফ্রন্ট সরকারের ছিল তাদের গুরুত্ব দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে আলিমুদ্দিন স্ট্রিট। সোনারপুর উত্তর, সোনারপুর দক্ষিণ, পাঁশকুড়া পশ্চিম নিয়ে জটিলতা তুঙ্গে। বিশেষ করে সোনারপুর উত্তর ও দক্ষিণ। সোনারপুর দক্ষিণ থেকে সিপিআই প্রার্থী দিতে চাইলেও সিপিএম-এর ওই বিধানসভার নেতারা অনড় তাদের দলের প্রার্থী না হলে কোনওভাবেই মানবেন না তারা। (Sonarpur dakshin)
এমনকি জেনারেল বডির বৈঠকেও গতকাল সোচ্চার হয়েছেন তারা। অন্যদিকে, সূত্রের খবর, সোনারপুর উত্তর থেকে মোনালিসা ব্যানার্জিকে প্রার্থী করতে চাইলেও তা নিয়ে ক্ষোভ চরমে।
প্রতীক-উরের ইস্তফাপত্রের ছবি নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষও। তিনি লেখেন, ‘সিপিএমের বায়োলজিকাল ফেরেব্বাজ নেতৃত্বের অংশ ও ফেসবুকের সভ্যতাহীন ফুটেজ বিপ্লবীদের দাপটে সিপিএমেরই প্রথম সারির যুবনেতাদের অবস্থা ও সিদ্ধান্ত এরকম। এসএফআই শীর্ষনেতা, জেলা নেতা, রাজ্য কমিটির কিছু দায়িত্বে থাকা ও গত লোকসভায় ডায়মন্ডহারবারে সিপিএম প্রার্থী প্রতীক উর। সিপিএমকে সর্বস্তরে 0 তে নামানো সম্পাদক ও তাঁর কিছু অযোগ্য বাতেলাবাজের কাঠিবাজিতে এই সিদ্ধান্ত বলে খবর। চিঠির সত্যতা যাচাই করতে পারিনি। ভুল হলে ডিলিট করে দেব।’