সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
বাংলায় ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতে এখনও বাকি রয়েছে বেশ কয়েক দিন। তার আগেই তৃণমূলে যোগ দিলেন পাহাড়ের বিক্ষুব্ধ বিজেপি বিধায়ক বিষ্ণুপ্রসাদ শর্মা। বৃহস্পতিবার কলকাতায় তৃণমূল ভবনে এসে দলের পতাকা হাতে তুলে নিয়েছেন তিনি। তাঁর যোগদানে উপস্থিত ছিলেন শশী পাঁজা এবং ব্রাত্য বসু। তৃণমূলে যোগদান করে বিষ্ণুপ্রসাদ বলেন, ‘টিকিটের জন্য তৃণমূলে যোগদান করিনি। দল টিকিট না দিলেও কোথাও যাব না।’
কার্শিয়াং-এর বিক্ষুব্ধ বিজেপি নেতা। তিনি দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করে আসছিলেন পাহাড়ের উন্নয়নের জন্য বঙ্গভঙ্গের প্রয়োজন রয়েছে। উত্তরবঙ্গে আর দক্ষিণবঙ্গে আলাদা হওয়া জরুরি। কিন্তু বিজেপি তাঁর পালে হাওয়া দিলেও দুই বঙ্গকে ভাগ করার জন্য তেমন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়নি। তাতেই রীতিমত বিরক্ত ছিলেন বিষ্ণুপ্রসাদ শর্মা। আর সেই কারণেই বৃহস্পতিবার তৃণমূল ভবনে গিয়ে হাতে তুলে নেন তৃণমূলের পতাকা। বিজেপির টিকিটে জেতা কার্শিয়াঙের বিধায়ক বিষ্ণুপ্রসাদ বছর দুয়েক ধরেই বিক্ষুব্ধ। একাধিক বার দলের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন।
২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে দার্জিলিঙে রাজু বিস্তাকে ফের প্রার্থী করার প্রতিবাদে নির্দল হিসাবে ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। দলের সঙ্গে তার পর থেকেই দূরত্ব বাড়ছিল। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে কেবল তাঁর যোগাযোগ ছিল। মাঝে বিষ্ণুপ্রসাদ অসুস্থ হয়ে পড়লে ব্যক্তিগত ভাবে তাঁর চিকিৎসাও করিয়েছিলেন শুভেন্দু। বিক্ষুব্ধ বিধায়ককে নিয়ে শুভেন্দু বলেছিলেন, ‘দলের সঙ্গে ওঁর হয়তো অভিমান হয়েছে। কিন্তু উনি তৃণমূলে যাবেন না।’
বরাবর গোর্খাল্যান্ডের সমর্থক বিষ্ণুপ্রসাদ ঘনিষ্ঠমহলে বলতেন, বিজেপি তাঁকে ‘ধোঁকা’ দিয়েছে। পৃথক গোর্খাল্যান্ডের প্রতিশ্রুতি দল থেকে তাঁকে দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করতেন এই বিধায়ক। সূত্রের খবর, গত এক বছর ধরে বিধানসভায় বিজেপির পরিষদীয় দলের ঘরে ঢুকতেন না বিষ্ণুপ্রসাদ। সাংবাদিকেরা প্রশ্ন করলে বলতেন, ‘যাঁদের সঙ্গে আমার মতের মিল নেই, তাঁদের কাছে যাব না।’ তৃণমূলে যোগ দিয়ে বিষ্ণুপ্রসাদ জানিয়েছেন, মমতা বন্দ্যোপাদ্য়ায়ের উন্নয়নের নীতির অধীনে কাজ করার জন্যই তিনি দল বদল করেছেন। তিনি আরও জানিয়েছেন, দল যে দায়িত্ব দেবে সেই দায়িত্বই তিনি পালন করবেন। তিনি বলেন, ‘আমি গোর্খা ভাইবোনেদের দ্বারা নির্বাচিত হলেও তাদের জন্য কাজ করতে পারছি না। বিজেপি কথা দিয়েও কোনও কাজ করেনি। বারবার টর্চ লাইট দেখিয়ে বলেছে সেটাই নাকি সূর্য। ওখানে কোনও কাজ হয়নি।’

বিধানসভা ভোটের আগে পাহাড় রাজনীতির নিরিখে বিষ্ণুপ্রসাদ শর্মার তৃণমূলে যোগদান রাজনৈতিক ভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই নেতার পাহাড়ে পোক্ত ভিত রয়েছে। অন্যদিকে, গত বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল বলছে, পদ্ম শিবিরের অন্যতম ভরসার জায়গা পাহাড়। সেই রাজনৈতিক অঙ্কের নিরিখে বিষ্ণুপ্রসাদের তৃণমূলে যোগদান কি হিসাব বদলে দেবে? উঠছে প্রশ্ন।