সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
‘এমনি এমনি নির্বাচন জেতে না বিজেপি। বিরোধীদের ভোট কেটে জেতে। আর ওদের সুবিধা করে দিচ্ছে কে? বাংলায় বিজেপি-কে সুবিধা করে দিচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস।বিজেপি বাংলাকে টাকা দেয় না, ২ লক্ষ কোটি দেয়নি বাংলাকে। ১০০ দিনের কাজের টাকা কেটে নিয়েছে। কেন্দ্রীয় বাজেটে বাংলার জন্য কোনও প্রকল্প নেই।’ মঙ্গলবার রায়গঞ্জে কংগ্রেস প্রার্থীর হয়ে প্রচারে এসে এভাবেই একযোগে মোদি ও মমতাকে তীব্র আক্রমণ করলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী।
প্রথমে এসে এদিন সাধারণ মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। তারপরেই উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে একের পর এক প্রশ্ন করে রাহুল গান্ধী জানতে চান, ‘কেমন আছেন? বিজেপি থেকে বেশি বিরক্ত নাকি তৃণমূল থেকে? নাকি দুজনের থেকেই? দেশের প্রধান যে লড়াই চলছে, তা হল কংগ্রেস পার্টি, বিজেপি-আরএসএস এর মধ্যে চলছে। দেশে আমরা লড়ি বিজেপির বিরুদ্ধে। আরএসএস-র বিরুদ্ধে। একদিকে আমরা বলি, দেশের থেকে হিংসা মিটে যাক, অপরদিকে বিজেপি-আরএসএস-র সদস্যরা বলেন, ভয়, হিংসা হিন্দুস্থানে থাকুক।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই মুহূর্তে আপনারা নরেন্দ্র মোদির চেহারা দেখেছেন? চোখ মেলাতে পারেন না। আমি ওনার চোখে দিকে যখন তাকাই উনি তখন নিচের দিকে তাকান। দেশকে বেচে দিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। তৃণমূল বিজেপির মোকাবিলা করতে পারবে না। যদি কোনও দল বিজেপির বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পারে, এবং বিজেপিকে হারাতে পারে, তার নাম কংগ্রেস।’
এর পাশাপাশি দুর্নীতি ইস্যুতে এদিন তৃণমূলকেও আক্রমণ করে রাহুল বলেন, ‘আপনারা বলেন, ছোট-মাঝারি কারখানা মমতাজীই ধ্বংস করেছেন! বাংলায় ডাবল ক্ষতি আপনাদের। বাংলার শিল্পকে ধ্বংস করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দেশের শিল্পকে ধ্বংস করেছেন নরেন্দ্র মোদি।’
তৃণমূল হিংসা ছড়ায়, মারামারি করে এবং মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দেয় বলেও অভিযোগ তোলেন রাহুল। বলেন, ‘আমার মনে আছে, ২০২১ সালে তৃণমূল বাংলাকে কথা দিয়েছিল যে, ৫ লক্ষ কর্মসংস্থান হবে। ওদের প্রতিশ্রুতি ছিল। কত জন চাকরি পেয়েছেন? কত কারখানা, উৎপাদন কেন্দ্র বন্ধ হয়ে গিয়েছে? এখন ৮৪ লক্ষ যুবক-যুবতী বেকারভাতার জন্য আবেদন করেছেন। মমতাজী বলেন, ‘৫ লক্ষ যুবক-যুবতীকে চাকরি দেব’। আর ৮৪ লক্ষ বেকারত্ব ভাতার জন্য আবেদন করেছেন। বাংলার সঙ্গে এটা কি ছেলেখেলা হচ্ছে? বাংলা আগে শিল্পকেন্দ্র ছিল, এখানে শিল্প-কারখানা ছিল।

নরেন্দ্র মোদি যদি দুর্নীতিগ্রস্ত হন, তৃণমূলও দুর্নীতির দৌড়ে পিছিয়ে নেই। সারদা চিটফান্ডে ১৭ লক্ষ বিনিয়োগকারীর টাকা, ১৯০০ কোটি টাকা ফের দেওয়া হয়নি। রোজভ্যালি দুর্নীতিতে ৩১ লক্ষ বিনিয়োগকারীর ৬৬০০ কোটি টাকা ফেরত দেয়নি। কয়লা দুর্নীতি…বাংলার মানুষের কোনও ফায়দা নেই। শুধু তৃণমূলের সিন্ডিকেটকে ২৪ ঘণ্টা টাকা দিতে হয়।প্রথমে কমিউনিস্ট এবং তার পর মমতাজী বাংলার শিল্প শেষ করে দিয়েছেন।’