সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
‘আমারটা টুকলি করে মোদীবাবু বলছেন আমি ২৯৪টা কেন্দ্রের প্রার্থী। আরে আপনি তো বাংলার ভোটারই নন! আপনি তো বহিরাগত। আগে আপনি প্রধানমন্ত্রিত্ব থেকে পদত্যাগ করুন। তার পর বলুন আমি বাংলার ভোটে দাঁড়াব। তার পর আপনি তো জিতবেন না। কারণ আপনি বহিরাগত।’ রবিবার হুগলির তারকেশ্বরের নির্বাচনী জনসভার মঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে তীব্র আক্রমণ বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
২০১৬ সালের পরে এবারে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে প্রচারে বেরিয়ে পুরুলিয়ার রঘুনাথপুরের জনসভা থেকে মমতা আরো একবার নিজের দশ বছর পুরনো স্লোগান ফিরিয়ে এনে বলেন, ‘আপনার এলাকায় কে প্রার্থী দেখতে হবে না। আপনারা আমার মুখ দেখে ভোট দেবেন। আমি ২৯৪ কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী।’
ঘটনাচক্রে এবারের বাংলার বিধানসভা নির্বাচনে প্রচারে বেরিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও বারে বারে নিজের নামেই ভোট চেয়েছেন বিজেপি প্রার্থীদের জেতানোর জন্য। রবিবার তারকেশ্বরের জনসভা থেকে তারই জবাব দিয়ে মমতা বলেন, ‘আপনি যদি এমনি ভোটে জিততেন, তা হলে ইডি, সিবিআই, আইটি কেন, গাঁজার কেস কেন, এনআইএ কেন? ভোটে লড়তেন সরাসরি। আপনিও প্রচার করতেন। আমরাও করতাম। গদি মিডিয়াকে দিয়ে খাওয়াল, মহিলা বিল করতে দিচ্ছে না, তা কি সত্যি? তা নয়। পিছনে ময়লা। মহিলা বিল আগেই পাশ হয়ে গেছে। এটা গদি মিডিয়া খবরও রাখে না। আমি সাংবাদিকদের দোষ দিই না।’
Abhishek against BJP: ‘সব হিসেব হবে, মমতা ব্যানার্জী উদার, আমি অত উদার নই’ হুঁশিয়ারি অভিষেকের
বাংলা এবারের বিধানসভা নির্বাচন ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই যেভাবে একের করেন তৃণমূলের নেতা মন্ত্রীদের বাড়িতে কেন্দ্রীয় এজেন্সি তল্লাশি চালাচ্ছে এবং এজেন্সির চাপ তৈরি করা হচ্ছে তার প্রেক্ষিতে মমতা বলেন, ‘যারাই অত্যাচার করেছ তাঁদের নাম, ঠিকানা রেখে দিন। যে যেখান থেকেই আসুক। ভোটের পর আমরা ওদের একটু মিষ্টি পাঠাব। ইশারাই কাফি। একটু নাড়ু করে পাঠাব। তৃণমূলের বাড়ি রেড হবে, বিজেপির বাড়িতে কেন হবে না? সবচেয়ে বড় চোর তো গদ্দার, তার বাড়ি রেড হবে না কেন, তার ভাইয়ের বাড়ি রেড হবে না কেন, তার বাবার বাড়িতে রেড হবে না কেন? চালাকি? চালাকির দ্বারা কোনও মহৎ কাজ হয় না। ধর্মের কল বাতাসে নড়ে। নয়ডাতে আগুন জ্বলছে। ওখানকার ডিএম কে? কোশ্চেনটা ছুড়ে দিয়ে গেলাম। খোঁজ নিয়ে দেখবেন। মা-বোনেরা কোনও ফর্মে সই করবেন না। ইভিএম মেশিন ভাল করে চেক করতে হবে। একটু করে ছেড়ে দিলে হবে না। ভিভিপ্যাট চেক করতে হবে। ওরা আমাদের জায়গাগুলিতে ভোটিং মেশিন খারাপ করবে। ওই মেশিনে ভোট করবেন না। কাউন্টিংয়ে নজর রাখবেন। এমন ছেলেমেয়েদের দেবেন যাঁরা ঘুষ খাবে না। টাকায় বিক্রি হবে না। ওরা রাবড়ী, চা নিয়ে এলে খাবে না। ঘরের খাবার নিয়ে যাবে। কিন্তু ওরা যেন খাবারে কিছু মিশিয়ে ঘুম পাড়িয়ে না ফেলতে পারে। ওদের পলিসি স্লো কাউন্টিং। আর স্লো ভোটিং। জেনে গেছি সব। ভোটের কাউন্টিংয়ের দিন সকালবেলায় দেখবেন, বিজেপি জিতছে বলে রটাবে। ওটা দিয়ে সূর্যোদয় হবে। আর তৃমূল জিতছে, এটা দিয়ে হবে সূর্যাস্ত। এরা চাইছে মধ্যরাত পর্যন্ত কাউন্টিং টেনে নিয়ে যাও। লোডশেডিং করে দাও। সবাই অলটারনেটিভ ব্যবস্থা রাখবেন। যাতে মেশিন সরিয়ে দিতে না পারে। লুট করতে না পারে। ওদের অনেক রকম পরিকল্পনা। এই সরকার টিকবে না। যাব যাব যাব করছে। পরশু দিন আমাদের আট জন যেতে পারেনি। কারণ ইলেকশনের কাজে ব্যস্ত ছিল। শিবসেনাও যেতে পারেনি। আরও ২৫-৩০ জন যেতে পারেনি। সবাই গেলে বিজেপি গো হারা হারবে। পরশু দিন যেমন হারিয়েছি। আগামী দিন আবার হারাব। বাংলাকে শুধু জিতিয়ে দিন। আমি বলেছিলাম বাংলাকে টার্গেট করলে আমরা দিল্লি টার্গেট করব। পরশু দিন আমার মা-বোনেদের শুভেচ্ছায় আমরা জিতেছি। আমি কিছুই করিনি। আগামী দিন তো বুঝে নেব। ডিলিমিটেশন কেন আটকেছি? বেশ করব, হাজার বার করব। মহিলা বিল পাশ হয়ে গেছে। বলুন নোটিফিকেশন করতে। সামনে মহিলা, পেছনে ময়লা। আবার জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিচ্ছেন! কত বড় নেতা!

আমাদের তো রোজই ইডি রেড করছে। ইলেকশনের সময় মনে পড়ল? যারা আমাদের পার্টির কাজ করে তাদের বলছে বাংলা ছেড়ে চলে যাও। তোমাদের তো পঞ্চাশটা আছে। আমাদের একটা আছে। শুনুন ওদের ভয় দেখালে, ওরা আমাদের দলের সঙ্গে যুক্ত হবে। আমরা ওদের চাকরি দেব। আমি একটি ছেলেকেও চাকরিছাড়া করব না। সকালে আমি অভিষেকের সঙ্গে কথা বলেই এসেছি। পরিষ্কার বলি আপনাদের এই চক্রান্ত মেনে নেব না। আর কত অত্যাচার করবেন? আর কত ভোট কাটবেন? এর পর তো এনআরসি করবেন।’