বিহারের পর এবার পশ্চিমবঙ্গসহ একাধিক রাজ্যে শুরু হতে চলেছে SIR (Special Intensive Revision) voter list correction প্রক্রিয়া। ইতিমধ্যেই জাতীয় রাজনীতিতে এই বিষয় নিয়ে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ— বিপুল সংখ্যক ভোটার বাদ দেওয়া হচ্ছে। তবে নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, SIR হল একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে ভোটার তালিকায় সর্বাধিক স্বচ্ছতা ও শুদ্ধতা আনা সম্ভব।
SIR কী এবং কেন প্রয়োজন?
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমার স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন—
প্রতিবছর ভোটার তালিকা সংশোধন হয়, তবে তা অনেকটাই র্যান্ডম প্রক্রিয়ায়।
SIR হল সবচেয়ে ব্যাপক ও গভীর স্তরের ভোটার তালিকা সংশোধন, যা ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে একাধিকবার হয়েছে।
এখনও পর্যন্ত দেশে ১০ বারেরও বেশি SIR সম্পন্ন হয়েছে।
ভোটার তালিকায় মৃত, স্থানান্তরিত বা ডুপ্লিকেট নাম মুছে ফেলে প্রকৃত ভোটারদের অন্তর্ভুক্ত করা এ প্রক্রিয়ার মূল উদ্দেশ্য।
বিরোধীদের অভিযোগ ও কমিশনের জবাব
SIR নিয়ে উত্তাল জাতীয় রাজনীতি। বিরোধীরা দাবি করছে, এটি আসলে ভোটার বাদ দেওয়ার এক পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। সংসদ পর্যন্ত এই বিতর্কের আঁচ পৌঁছেছে।
এ প্রসঙ্গে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের অভিযোগ— “নির্বাচন কমিশনের কাঁধে বন্দুক রেখে ভারতের ভোটারদের নিশানা করা হচ্ছে। রাজনীতি করা হচ্ছে।”
তিনি আরও জানান, নির্বাচন কমিশন ধনী-দরিদ্র, প্রবীণ, মহিলা, যুবা, প্রত্যেক ধর্ম ও শ্রেণির ভোটারের পাশে নিরপেক্ষভাবে আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।
পশ্চিমবঙ্গের জন্য বড় বার্তা
CEC জানিয়েছেন, বিহারে ইতিমধ্যেই SIR শুরু হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ-সহ অন্যান্য রাজ্যে কবে এটি হবে, তা উপযুক্ত সময়ে ঘোষণা করা হবে।
তবে তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন—
১৮ বছর বয়স পূর্ণ হলেই নাগরিকের ভোটার হওয়া সাংবিধানিক অধিকার।
প্রত্যেকের জন্য কমিশনের দরজা খোলা আছে।
ভোটার তালিকার খসড়ায় কোনো ত্রুটি থাকলে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া মেনে অভিযোগ জানানোর সময়সীমা ১৫ দিন।
SIR প্রক্রিয়ার ধাপসমূহ
কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী—
প্রায় ১.৬ লাখ Booth Level Agent (BLA)-এর উপস্থিতিতে খসড়া ভোটার তালিকা তৈরি হয়েছে।
প্রতিটি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি (BLA) এতে সই করেছেন।
এখন ত্রুটি সংশোধনের সুযোগ রয়েছে ১৫ দিনের জন্য।
নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে ভোটাররা নিজের নাম, বয়স, ঠিকানা বা অন্য কোনও তথ্য সংশোধনের আবেদন করতে পারবেন।
কেন এত বিতর্ক?
বিহারে SIR-এর খসড়া প্রকাশের পর প্রায় ৬৫ লক্ষ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। এর মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গেও এই প্রক্রিয়া আসতে চলেছে শুনে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।
অনেকের মনে প্রশ্ন—
কি রাজনৈতিক কারণে ভোটার বাদ দেওয়া হচ্ছে?
গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী কি বিশেষভাবে প্রভাবিত হবে?
আগামী নির্বাচনে এই পরিবর্তনের প্রভাব কেমন হতে পারে?
যদিও কমিশন জানিয়েছে, এটি সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও ন্যায্য প্রক্রিয়া, এবং প্রতিটি আপত্তি যথাযথভাবে দেখা হবে।
SIR voter list correction এখন জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রে। পশ্চিমবঙ্গেও এই প্রক্রিয়া চালুর ঘোষণা রাজনীতিকে আরও উসকে দিয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশনের স্পষ্ট বক্তব্য— সাংবিধানিক কর্তব্য থেকে পিছিয়ে আসবে না কমিশন। ভুল থাকলে তা সংশোধনের জন্য সব নাগরিককে সুযোগ দেওয়া হবে।
গণতন্ত্রে ভোটাধিকারই হল সবচেয়ে বড় শক্তি। তাই SIR প্রক্রিয়াকে নিয়ে যতই বিতর্ক হোক না কেন, যদি তা স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হয়, তবে ভারতীয় গণতন্ত্র আরও শক্তিশালী হবে।