সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
দিনভর তৃণমূলের ওয়ার রুমে চোখ রাখার পর বিকেলে চৌরঙ্গীতে সভা করেন মমতা। সেখান থেকে তিনি দাবি করেন, “আমার চোখ যদি মানুষের ভাষা বোঝে, অলরেডি আমরা জেতার জায়গায় আজকের ভোটেই। বাংলার মানুষ ভালো করেই জানে এই ভোট তাদের অস্তিত্বের জন্য। তাই নাকি তারা তৃণমূলকে ভোট না দিয়েছে, নাহলে তাদের সমস্ত অধিকার হারাবে।”
‘ভোটের দিন এখানে এসে বলছেন আপনারা জিতছেন! কী ভাবে বলছেন? এটা তো জনগণ ঠিক করবেন। মহামুর্খ হন কী ভাবে। তা হলে কি ইভিএম মেশিন ফিট করে রেখে দিয়েছেন? না হলে বলেন কী ভাবে যত ভোট পড়ছে সব আপনার?’ বাংলায় প্রথম দফা ভোটগ্রহণের দিনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ যেভাবে বিজেপির নিরঙ্কর সরকার গঠনের দাবি করেছেন তার প্রেক্ষিতে এভাবেই তীব্র আক্রমণ করলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
প্রথম দফার ভোটগ্রহণের দিন সকাল থেকে নির্বাচনী কোন প্রচারের কর্মসূচি না রেখে মমতায় এবং অভিষেক কালীঘাটে তৃণমূলের ওভার রুম থেকে রাজ্যের যে ১৬ জেলার ১৫২ বিধানসভা কেন্দ্রে ভোট রয়েছে তার উপরে প্রতিনিয়ত নজরদারি চালান।
Amit Shah on Dirty Kolkata : ‘কলকাতা এখন বস্তির শহরে পরিণত হয়েছে’ তীব্র বিতর্ক অমিত শাহের মন্তব্যে
বৃহস্পতিবার বিকেলে বউবাজারের তৃণমূল প্রার্থী নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থনে নির্বাচনী জনসভা থেকে মমতা বলেন, ‘আজ সকাল থেকে এসেছিল গরম করতে। বিজেপির এজেন্ট তো নেই। ও তো এজেন্সি। চমকাতে এসেছিল প্রশাসনকে, যাঁরা এখন ওঁদের হয়ে কাজ করছেন তাঁদের। বৌবাজার সোনার হাব। যখন মেট্রোর জন্য সব ভেঙে পড়েছিল, তখন আমি পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলাম। পুনর্বাসন দিতে মেট্রোরেল বাধ্য করেছিল। ওদের ভুল পরিকল্পনার জন্য হয়েছিল। আমি এলাকায় এলাকায় ঘুরেছি। ভুলে যাবেন না, কোভিডের সময় বড়বাজার থেকে কোলে মার্কেট বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, তখন আমি রাস্তায় নেমেছিলাম। বাজার খুলিয়েছিলাম। যখন বড়বাজার থেকে শুরু করে সব জায়গায় ব্যবসায়ীদের তল্লাশি করা হচ্ছিল, কারা ছিল না, ইডি, সিবিআই, আয়কর। তখন আমি পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলাম। আপনাদের দোকান, পাড়ায় ঘুরে বেরিয়েছিলাম।’
অন্যদিকে ঝাড়গ্রামের রাস্তায় ঝাল মুড়ি খাওয়া নিয়েছে বিতর্ক তৈরি হয়েছে তার প্রেক্ষিতে নরেন্দ্র মোদী কৃষ্ণনগরের জনসভা থেকে মমতাকে যে ব্যঙ্গ করেছেন তার পাল্টা দিয়ে মমতা বলেন, ‘আমি যদি কোনও দোকানে যাই তবে স্বতস্ফূর্ত ভাবে যাব। আগে থেকে নিশ্চয় টিভি ক্যামেরা ফিট করা থাকবে না। দোকানে আগে থেকে টিভি ক্যামেরা ফিট রেখেছিল। সিকিউরিটি দিয়ে ঝালমুড়ি বাড়ি থেকে বানিয়ে এনেছিল। পকেট থেকে সাজানো চকচকে নোট বার করেছিল। আমার কাছেও নেই।’ তার পরেই মোদীর উদ্দেশে মমতা বলেন, ‘এখন বলছে জিতে ঝালমুড়ি খাবেন। আপনাকে ভেলপুরি পাঠাব। দিল্লিতে পাওয়া যায়। ওখানে ঝালমুড়ি পাওয়া যায় না। আপনি ১০ টাকা নিয়ে এসেছেন। আগের বার বলেছিলেন চায়েওয়ালা, এখন ঝালমুড়ি দেখাচ্ছেন? ঝালমুড়ির ঝাল খেয়ে তো আমরা অভ্যস্ত। আপনি কখনও মাছভাত খেয়েছেন?’

প্রথম দফার ভোটগ্রহণের দিন বিপুল হারে ভোট দানের প্রেক্ষিতে মমতা বলেন, ‘জানেন এত কেন ভোট পড়ছে? ৬০ লক্ষের মধ্যে ৩২ লক্ষের নাম আমি সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে তুলেছি। ট্রাইবুনাল কিচ্ছু তুলতে পারেনি। সেটা ওদের নির্দেশে কাজ হয়েছে কি না জানি না। তবে মানুষ জানেন এটা তাঁদের অধিকার রক্ষার লড়াই। তৃণমূলকে ভোট না-দিলে আমও যাবে ছালাও যাবে। তার অধিকার, সম্পত্তি, ঠিকানা, ব্যবসা যাবে। বিজেপির অত্যাচারের বিরুদ্ধে কেন ভোট দেবে? মানুষ জানে এর পরে এনআরসি করার পরিকল্পনা করবে। ডিলিমিটেশন বিল নিয়ে এসেছিল।’