সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
‘এবার ওরা ঠিক করে দেবে কবে কে বিয়ে করবে? প্রেমটা ওরা ঠিক করে দেবে? কে কী খাবে, কী পরবে, বাচ্চা জন্মানোর আগেও অনুমতি নিতে হবে?’ এভাবেই বাংলার ভোটার তালিকায় স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর প্রক্রিয়ার আবহে বিজেপি ও জাতীয় নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
শুক্রবার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বোসের জন্মজয়ন্তী উদযাপনের মঞ্চ থেকে একের পর এক আক্রমণ করলেন তিনি। বাংলায় এসআইআরের শুনানি পর্ব চলছে। বহু মানুষ তাতে ডাক পাচ্ছেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে নামের বানানে সামান্য ভুল বা বাবা-মায়ের সঙ্গে বয়সের ফারাকের কারণেই হিয়ারিংয়ে যেতে হচ্ছে। নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনকেও শুনানিতে ডাকা হয়েছিল বাবার সঙ্গে বয়সের পার্থক্য মাত্র ১৫ বছর হওয়ায়। সেই প্রসঙ্গ তুলেই এদিন মঞ্চ থেকে একরাশ ক্ষোভ উগরে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এখন শুনানিতে গেলে প্রশ্ন করা হচ্ছে, ৫ ছেলেমেয়ে কীভাবে? বাবার সঙ্গে বয়সের ফারাক এত কম কী করে? জন্মশংসাপত্র কোথায়? আরে ২০০২ সালের আগে তো হোম ডেলিভারি হতো। দেখছি ৯০ বছরের বৃদ্ধাকে অ্যাম্বুল্যান্সে করে হিয়ারিংয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এটা মায়েদের, বয়স্কদের অপমান।’
নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনকেও শুনানিতে ডাকা হয়েছিল বাবার সঙ্গে বয়সের পার্থক্য মাত্র ১৫ বছর হওয়ায়। সেই প্রসঙ্গ তুলেই এদিন মঞ্চ থেকে একরাশ ক্ষোভ উগরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এখন শুনানিতে গেলে প্রশ্ন করা হচ্ছে, ৫ ছেলেমেয়ে কীভাবে? জন্মশংসাপত্র কোথায়? আরে ২০০২ সালের আগে তো হোম ডেলিভারি হতো।’ মমতা এই প্রশ্নও তুললেন, ‘নেতাজি বেঁচে থাকলে তাঁকেও কি হিয়ারিংয়ে ডাকা হত?’ ইতিমধ্যেই নেতাজির পরিবারের সদস্য চন্দ্রকুমার বসু শুনানিতে ডাক পেয়েছেন। সেই প্রসঙ্গও জুড়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী। দেশের ইতিহাসকে বদলে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ‘ভারতের ইতিহাস গুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। মনীষীদের অসম্মান করা হচ্ছে। ভাষার প্রতি অসম্মান চলছে।’ সেই সঙ্গেই জুড়ে দেন নেতাজির প্রসঙ্গ। মমতা বলেন, ‘নেতাজি প্ল্যানিং কমিশন তৈরি করেছিলেন। জেনেবুঝে সেটা তুলে দেওয়া হয়েছে। তার বদলে তৈরি করা হয়েছে নীতি আয়োগ। সেটা খায় না মাথায় দেয় কেউ জানে না।’

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘এবার ওরা ঠিক করে দেবে কবে কে বিয়ে করবে? প্রেমটা ওরা ঠিক করে দেবে? কে কী খাবে, কী পরবে, বাচ্চা জন্মানোর আগেও অনুমতি নিতে হবে?’ এদিন ফের এসআইআর আতঙ্কে মৃত্যু নিয়ে কেন্দ্র ও কমিশনকে নিশানা করে মমতা বলেন, ‘রোজ ৩-৪ জন করে আত্মহত্যা করছে। কত লোক হাসপাতালে ভর্তি। এই মৃত্যুর দায় কমিশন ও কেন্দ্রকে নিতে হবে। আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, এতবছর প্রমাণ করতে হবে আমি ভোটার কি না। বাংলা ও ইংরেজি বানানের ফারাকই তো ওরা বোঝে না।’