শোভন গায়েন। কলকাতা সারাদিন।
‘অনেক জায়গায় তৃণমূল খাতাই খুলতে পারবে না, তাদের বিদায় নিশ্চিত।’ বাংলায় প্রথম দফা ভোটগ্রহণের দিনেই নদিয়ার কৃষ্ণনগরের নির্বাচনী জনসভার মঞ্চ থেকে হুঁশিয়ারি দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বৃহস্পতিবার দুটি জনসভা করেন তিনি -প্রথমটি কৃষ্ণনগরে এবং দ্বিতীয়টি মথুরাপুরে। পাশাপাশি বিকেলে হাওড়ায় একটি রোড শো-ও করেন তিনি। কৃষ্ণনগরে জনসভা থেকে নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘১৫ বছর আগে যেমন বামেদের বিরুদ্ধে জনতা বিউগল বাজিয়েছিল, আজ তৃণমূলের জঙ্গলরাজের বিরুদ্ধেও একই সুর শোনা যাচ্ছে। ৪ মে বাংলাতেও জয়ের উৎসব হবে, পদ্ম ফুটবেই।’
এই সভা থেকে তিনি রাজ্যের মা-বোনেদের জন্য ১০টি গ্যারেন্টির কথা ঘোষণা করলেন। তাঁর কথায়, এর আগে তিনি রাজ্যের মানুষের জন্য ৬ গ্যারেন্টির কথা বলেছিলেন। আর এবার ৬ নয়, রাজ্যের সব নারীর জন্য ১০টি গ্যারেন্টির কথা শোনা গেল নরেন্দ্র মোদির মুখে।
নির্বাচন কমিশন ও সরকারি কর্মীদের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, ‘গত ৫০ বছরে এটাই প্রথম নির্বাচন যেখানে হিংসা কমেছে এবং শান্তিপূর্ণ ভোট হয়েছে।’ বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের আবহে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে ঝাড়গ্রামের রাস্তার ধারের সেই ‘দশ টাকার ঝালমুড়ি’। প্রথম দফার ভোটের প্রচারে কৃষ্ণনগরের জনসভা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ঝালমুড়ি প্রসঙ্গ টেনে তৃণমূলকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে প্রধানমন্ত্রী রসিকতার ছলে বলেন, ‘ঝালমুড়ি খেলাম আমি, আর ঝাল লাগল তৃণমূলের।’ সম্প্রতি ঝাড়গ্রামে প্রচারের ফাঁকে কনভয় থামিয়ে সাধারণ এক বিক্রেতার কাছ থেকে ঝালমুড়ি কিনে খেয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই ঘটনাকে ‘পূর্বপরিকল্পিত নাটক’ বলে দাবি করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ ছিল, নিরাপত্তারক্ষীরাই সেই মুড়ি তৈরি করেছে এবং আগে থেকে ক্যামেরা বসানো ছিল। কৃষ্ণনগরের মঞ্চ থেকে মোদী পাল্টা দাবি করেন যে, সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাঁর এই সংযোগ তৃণমূল মেনে নিতে পারছে না বলেই তারা প্রমাদ গুনছে।

অন্যদিকে, ভোটের সকালেই হঠাৎ সল্টলেকের বিজেপির ‘ওয়ার রুমে’ চলে আসেন অমিত শাহ। শেষ মুহূর্তে সল্টলেক বিজেপি দফতরে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক সারেন তিনি। প্রথম দফা ভোট শুরু হওয়ার পরেই কোনও সিডিউল না থাকলেও সল্টলেকে দলীয় দফতরে পৌঁছন অমিত শাহ। ভোটের জন্য সল্টলেকের পার্টি অফিসে ওয়ার রুম খুলেছে বিজেপি। দুপুর পর্যন্ত নজরদারির পর বলাগড়ের সভায় যান অমিত শাহ। ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত এ রাজ্যেই থাকবেন অমিত শাহ।