সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
দলের রাশ তাঁরই হাতে, পরিষদীয় দলের বৈঠকে আরও একবার বুঝিয়ে দিলেন মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়। পাশাপাশি, গ্রামীণ এলাকার জন্য অঞ্চল ও ব্লক কমিটি এবং শহরাঞ্চলের জন্য টাউন কমিটি নতুন করে গঠনের বার্তা দিলেন তৃণমূলনেত্রী। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়, ২১ জুলাইয়ের মঞ্চে থেকে রদবদলের প্রথম বার্তা দিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক উত্তরাধিকারী নিয়ে জল্পনার মধ্যেই সোমবারের বৈঠকে তিনি বলেন, “আমার কোনও পরিবার নেই। দলই হচ্ছে আমার পরিবার। মানুষই আমার পরিবার। তৃণমূলের শাখা সংগঠনগুলিতেও রদবদলের ইঙ্গিত দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।” পাশাপাশি একাধিক নেতা-মন্ত্রী-বিধায়কদের উদ্দেশ্য়ে বার্তা দিলেন তৃণমূল নেত্রী। বললেন, দল-বিরোধী মন্তব্য কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। একই ভুল বারবার করলে ক্ষমা করা যায় না। পাশাপাশি, দলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নিয়েও একাধিক নেতাকে কড়া বার্তা দিলেন তৃণমূলনেত্রী।
বিধানসভা ভবনে তৃণমূলের পরিষদীয় দলের বৈঠক ডাকেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই বৈঠকে তিনি বিধায়কদের উদ্দেশে বলেন, অঞ্চল ও ব্লক স্তরে সভাপতি পদে বদলের দরকার রয়েছে বলে যদি মনে করেন, তাহলে তিন জন করে নাম পাঠান। ২৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে অরূপ বিশ্বাসের কাছে ওই নামের তালিকা পাঠাতে হবে।
এছাড়াও দিদি এদিনও বলেন, দলের রাশ এখন আমার হাতে। যেভাবে আলোচনার মাধ্যমে এখন দল চলছে, সেভাবেই চলবে। কোনও সমস্যা হলে আমি রয়েছি, আমাকে বলবেন। আর বক্সীদা তো আছেনই।
অর্থাৎ এক, তৃণমূল স্তর থেকে সাংগঠনিক রদবদল হবে। কিছু জেলায় জেলা সভাপতি পদে বদল অনিবার্য। সেই সঙ্গে অঞ্চল ও ব্লকের সভাপতিও অনেক জায়গায় বদল করবেন তিনি।

দুই, ২৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে তালিকা জমা করতে বলা হয়েছে। তার মানে এ মাসে রদবদলের সম্ভাবনা ক্ষীণ। মার্চ মাসের আগে কিছু হবে না। এবং তিন, নেতাজি ইনডোরে একটা কর্মিসভা হওয়ার কথা ছিল। যা এ মাসে হবে না। কারণ, বিধানসভা অধিবেশন তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত চলবে। তার পর আবার শিবরাত্রির তিথি রয়েছে। তা নিয়ে অনেক জেলা পূজার্চনায় ব্যস্ত থাকেন মহিলানেত্রীরা। তাই সম্ভবত সেই কর্মিসভা হবে মার্চে। হতে পারে সেই সভাতেই বা তার পর সাংগঠনিক রদবদলের ঘোষণা হবে।
চার, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেরকম ধারাবাহিক ভাবে বলছেন যে দলের রাশ তাঁর হাতে, তার মানে সাংগঠনিক রদবদলে ক্যামাক স্ট্রিট বা আই প্যাকের ভূমিকা হয়তো কমই থাকবে। দলের মধ্যে থেকেই রিপোর্ট নিয়ে রদবদল করবেন মমতা।