সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
“আমরা এখনও মুখ্যমন্ত্রীর উপরে আস্থা রেখেছি। আর কত দিন! আমরা লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি, সে কারণে আমাদের প্রত্যেকটা দিন ভয়ের মধ্যে দিয়ে কাটাতে হয়। আমরা বেকার ভাতা চাই না।” সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বাংলার প্রায় ছাব্বিশ হাজার শিক্ষকের যেভাবে রাতারাতি চাকরি গিয়েছে তারপরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায় আর বেশি দিন আস্থা রাখা সম্ভব হবে না বলে আক্ষেপ প্রকাশ করে এভাবেই নবান্ন অভিযানের ডাক দিল চাকরিহারা শিক্ষকদের সংগঠনগুলি।
চাকরি প্রার্থীদের ১২-১৩ টি মঞ্চ সম্মিলিত ভাবে ২১ এপ্রিল এই নবান্ন অভিযানের ডাক দেওয়া হয়েছে। সাংবাদিক সম্মেলন করে চাকরিহারাদের তরফে এদিন এই ঘোষণা করা হয়। সংবাদিক বৈঠক থেকেই মঞ্চের নেতৃত্বের তরফে বলা হয়, কয়েকটি সংগঠন ইতিমধ্যে যোগাযোগ করেছে। আগামীতে তাঁরাও এই মঞ্চে সামিল হবে বলেই আশাবাদী তাঁরা। তবে এদিন সংবাদিক বৈঠকে বারেবারে প্রশাসনের উপরে ক্ষোভও উগরে দেন তাঁরা।
প্রসঙ্গত সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশে বাংলার ২৫ হাজার ৭৫২ জন শিক্ষকের চাকরি যাওয়ার নির্দেশের কিছুক্ষণের মধ্যেই নবান্নে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুকে পাশে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়ে দিয়েছিলেন চাকরিহারা শিক্ষকদের সংগঠনগুলির অনুরোধে তিনি তাদের সঙ্গে বৈঠক করতে রাজি হয়েছেন। তাদের অনুরোধেই আগামী ৭ এপ্রিল নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে দুপুর 12:30 নাগাদ বৈঠকে বসবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু মমতার এই আশ্বাসের পরেও যে খুব একটা তাতে ভরসা রাখতে পারছেন না চাকরি-হারা শিক্ষকেরা তা আজ আরও একবার স্পষ্ট করে দেন নিজেদের সাংবাদিক সম্মেলনে।
আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের জন্য এদিন কার্যত ডেডলাইনও দিয়ে দিয়েছেন চাকরিহারারা। সাফ বলছেন, “পয়লা বৈশাখ অর্থাৎ ১৫ এপ্রিলের মধ্যে প্রতিটি মঞ্চের সঙ্গে বসে যদি আলোচনা না করেন, সমস্যার সুষ্ট সমাধান না করেন তাহলে আমাদের এই কর্মসূচি বহাল থাকবে।”
অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রীর তরফে অথবা রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এই সমস্যার সমাধানের সত্যিই কোন সদিচ্ছা রয়েছে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে চাকরি হারা শিক্ষকদের একাংশ অভিযোগ করেন, “এর আগেও আমরা একাধিকবার সম্মিলিতভাবে কর্মসূচি নিয়েছি। কিন্তু প্রশাসনের কোনও সদর্থক ভূমিকা দেখতে পাইনি। আমরা ভেবেছিলাম মুখ্যমন্ত্রী মানবিক। কিন্তু উনি অমানবিক মুখ্যমন্ত্রী। সরকারের সদিচ্ছার অভাবে চাকরি হারিয়েছেন শিক্ষক শিক্ষকা ও শিক্ষা কর্মীরা। আমারও এই বঞ্চনার শিকার। আমরা আর প্রতিশ্রুতি নয়, স্পট বার্তা চাই, বাস্তবায়ন চাই।”
চাকরি হারা মঞ্চের আরেক সদস্য বলেন, ”আমরা সবাই বঞ্চিত। তাই এবার সময়ে হয়েছে একত্রিত হওয়ার। পরিযায়ী শ্রমিকদের বলব, আপনারাও আসুন, আওয়াজ তুলুন। যে কারনে আমরা মুখ্যমন্ত্রীকে এনেছিলাম সেটা পূরন হয়নি। আমাদের এখানে পরিচয় কী আমরা শুধু এখানে ভোট দেবো আর বাইরে গিয়ে চাকরি করবো। তাই আমরা সব বঞ্চিতরা একত্রিত হব। এখন আর রাজনীতি করার সময় নেই , যে অন্যায় মুখ্যমন্ত্রী করছে তা বন্ধ করতে হবে। কোনও চুনোপুঁটি না, আমরা মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করবো। জীবন যখন বিপন্ন সবাই চলো নবান্ন।” বলেও এদিন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

অন্যদিকে ২০০৯ সালের প্রাথমিক চাকরি প্রার্থী বলেন, ”আমরা ১৬ বছরের দুর্নীতির লড়াই করেছি। এখন করছি সুপ্রিম কোর্টে। আমাদের মা বাবা মারা গেছেন, সেখানে কাশফুল হয়েছে। বলা হচ্ছে সেই কাশফুল দিয়ে ব্যবসা করতে বলছে। লন্ডনের ঘটনায় উনি বলছেন ওনার মান সম্মানের ক্ষতি করেছে কিন্তু আমরা সেটা করিনি, এখনও ওনার ওপর আস্থা রেখেছি। ডায়মন্ড হারবারের আন্দোলন করেছিলাম। কালকে আমার ফোন ভেঙে দেওয়া হয়েছে, মারধর করা হয়েছে। এখান থেকে প্রেস কনফারেন্স করে আমরা বাড়ি ফিরে যেতে পারবো তো! সেই ভয়ও আমাদের আছে। আপনি অ্যাডভোকেটদের বলছেন না মামলাগুলো শেষ করুন। আমরা মুখ্যমন্ত্রী আর শিক্ষামন্ত্রীকে বলব চাকরিহারাদের যন্ত্রনা বুঝছেন, আমাদের টা বুঝলেন না। ওদের ৭ তারিখ ডাকলে আমাদের কেন ডাকবেন না।”