সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
এসএসসি ভবনের সামনে থেকে অনশন আন্দোলন প্রত্যাহার করে নিলেন সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে চাকরি হারানো শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং অশিক্ষক কর্মচারীরা। কিন্তু এসএসসি ভবনের সামনে থেকে রবিবার অনশন প্রত্যাহার করা হলেও এবার জেলায় জেলায় গণস্বাক্ষর গ্রহণ কর্মসূচিতে নামতে চলেছেন চাকরিহারারা। স্বাস্থ্যের কথা ভেবেই অনশন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত চাকরিহারা শিক্ষকদের।
এদিন তাঁরা বলেন, আরজি করকাণ্ডে চিকিৎসক আন্দোলনের মতোই শিক্ষকদের আন্দোলনও ভেস্তে দেওয়ার পরিকল্পনা চলছে। চতুর্থ দিনে তাই অনশন ভাঙতে বাধ্য হলেন তাঁরা। শক্তি সঞ্চয় করে পরে বৃহৎ আকারে আন্দোলন করা হবে বলেও জানান চাকরিহারা শিক্ষকরা। সল্টলেকে আচার্য সদনের সামনে লাগাতার অনশন চালিয়ে যাচ্ছিলেন ৩ জন শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী। অনশনকারী শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের সঙ্গে অবস্থানে বসেছেন আরও বেশ কয়েকজন শিক্ষক, শিক্ষিকা ও শিক্ষাকর্মী। শনিবার গভীর রাতে অসুস্থ হয়ে পড়েন চাকরিহারা অনশনকারী শিক্ষক সুমন বিশ্বাস। তাঁকে সল্টলেকের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে ছাড়া পেয়ে ফের অনশনে যোগ দেন তিনি। ওই শিক্ষকের অভিযোগ, রাত ২টো নাগাদ অসুস্থ বোধ করলে পুলিশের সাহায্য চাওয়া হয়। কিন্তু পুলিশ অসহযোগিতা করে বলে দাবি।
পরে সল্টলেক মহকুমা হাসপাতালেও ওই শিক্ষককে চিকিৎসক তাঁকে অনশন তুলে নিতে বলেন। ডান কিডনিতে সমস্যা রয়েছে। ইউএসজি করতে বলেন চিকিৎসক। সুমন বিশ্বাস বলেন, “৪ দিন ধরে অনশনে আছি। সরকারের কোনও প্রতিনিধিই আসেনি। মুখ্যমন্ত্রী কতটা নির্মম ভাবুন। লোন আছে, অসুস্থ বাবা-মা রয়েছেন। আমরা কোথায় যাব? মিরর ইমেজ প্রকাশ করে যোগ্যদের চাকরিটা বাঁচান।”
তাঁদের বক্তব্য, “মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী কতটা নির্মম ভাবুন। আমদের বক্তব্য একটাই, যোগ্যদের তালিকাটা দিয়ে দিন। মিরর ইমেজ প্রকাশ করে রিভিউ পিটিশন দিয়ে যোগ্যদের চাকরিটা বাঁচান। দুর্নীতি হয়েছে, তার জন্য আমাদের পরিবার ভেসে যাবে! আমাদের ঋণ আছে, অসুস্থ বাবা -মা আছেন, আমরা কোথায় যাব?”
কসবায় চাকরিহারাদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তির পর, বৃহস্পতিবার সল্টলেকে আচার্য সদনের বাইরে ধর্নায় বসেন চাকরিহারারা। ওএমআর শিটের মিরর ইমেজ প্রকাশের দাবিতে অনশন শুরু করেন তাঁদের এক প্রতিনিধি। সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা সেখান থেকে নড়বেন না বলে জানিয়েছিলেন। কিন্তু শুক্রবার করুণাময়ী থেকে মিছিল করে এসএসসি ভবনের সামনে এসে পৌঁছন চাকরিহারাদের একাংশ। রাতভর সেখানেই অবস্থান করেন। কিন্তু ভোর হতেই পরিস্থিতি পাল্টে যায়।

এদিকে গান্ধীমূর্তির পাদদেশ থেকে অবস্থানরত চাকরিহারা শিক্ষকদের পুলিশ সরিয়ে দেয় বলে অভিযোগ। হাইকোর্টের অনুমতি নিয়ে অবস্থানে বসলেও রাতেই পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয় বলে দাবি। গান্ধীমূর্তির পাদদেশে অবস্থান করছিলেন ২০১৬ সালের ওয়েটিং লিস্টে থাকা চাকরিপ্রার্থীদের একাংশ। রবিবার সকাল থেকে ধর্মতলার ওয়াই চ্যানেলে অবস্থান শুরু করেন তাঁরা।