কলকাতা সারাদিন ডেস্ক
করোনার তাণ্ডবের পর বিশ্ব আবারও এক নতুন বিপদের মুখোমুখি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) জানিয়েছে, চিকুনগুনিয়া ভাইরাস ফের একবার মহামারির রূপ নিতে চলেছে। মঙ্গলবার সংস্থার পক্ষ থেকে জেনিভায় আনুষ্ঠানিকভাবে এই সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে।
বিশ্বের ১১৯টি দেশে ইতিমধ্যেই চিকুনগুনিয়া ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। WHO-এর বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রায় ৫৬০ কোটি মানুষ বর্তমানে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে না পারলে ২০২৫ সালের মধ্যেই এটি বিশ্বব্যাপী মহামারি রূপে ছড়াতে পারে।
চিকুনগুনিয়া কী এবং কেন বিপজ্জনক?
চিকুনগুনিয়া একটি মশাবাহিত ভাইরাসজনিত রোগ, যা এডিস প্রজাতির মশা (বিশেষ করে টাইগার মশা) দ্বারা ছড়ায়। এই ভাইরাসের প্রধান লক্ষণ:
তীব্র জ্বর
অসহ্য জয়েন্ট ব্যথা
মাথাব্যথা
ত্বকে র্যাশ
দীর্ঘমেয়াদী শারীরিক দুর্বলতা
এই রোগের কোনও নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই, কেবল উপসর্গের উপর ভিত্তি করে চিকিৎসা করা হয়।

কোথায় কোথায় ছড়াচ্ছে এই ভাইরাস?
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানাচ্ছে, ইউরোপের ফ্রান্সে ইতিমধ্যে ৮০০ জন বিদেশফেরত রোগীর সন্ধান পাওয়া গেছে। আরও উদ্বেগজনক বিষয়, ফ্রান্স ও ইতালিতে বেশ কয়েকটি স্থানীয় সংক্রমণ ধরা পড়েছে, অর্থাৎ ওই রোগীরা ভাইরাসপ্রবণ অঞ্চলে যাননি, তবুও স্থানীয়ভাবে মশার কামড়ে আক্রান্ত হয়েছেন।
সোমালিয়া, মাদাগাস্কার, কেনিয়া-সহ আফ্রিকার দেশগুলোতে ইতিমধ্যেই এর প্রকোপ বাড়ছে। ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চল এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এর প্রভাব আরও বিস্তৃত হতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
🛡️ প্রতিরোধই একমাত্র উপায়
চিকুনগুনিয়া থেকে বাঁচার মূল উপায় হলো মশা নিয়ন্ত্রণ ও নিজেকে সুরক্ষিত রাখা। WHO কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছে:
✅ দিনে ও রাতে মশারি বা মশারোধক ব্যবহার করুন
✅ পূর্ণহাতা জামা ও ঢিলেঢালা পোশাক পরুন
✅ চারপাশ পরিষ্কার ও জল জমতে দেবেন না
✅ শরীরে কোনও উপসর্গ দেখলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন
করোনার অভিজ্ঞতা থেকে শিখে এবারই সময় সচেতন হওয়ার। চিকুনগুনিয়া যেন পরবর্তী বিশ্ব মহামারি না হয়, সে জন্য প্রতিটি দেশ, শহর ও ব্যক্তি স্তরে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে, “আমরা ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি দেখছি।” তাই সময় থাকতে সাবধান হওয়াই একমাত্র পথ।