প্রায় ২০০ বছরের দীর্ঘ ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটিয়ে ১৯৪৭ সালের ১৫ অগস্ট স্বাধীনতার স্বাদ পেয়েছিল ভারত। সেই দিন নীল আকাশে প্রথমবার উড়েছিল স্বাধীন ভারতের তিরঙ্গা। এর পর থেকে প্রতি বছর দেশ জুড়ে গর্ব ও উৎসবের সঙ্গে পালিত হয় স্বাধীনতা দিবস। কিন্তু Independence Day historical facts of India নিয়ে এমন কিছু তথ্য রয়েছে, যা খুব কম মানুষই জানেন। চলুন জেনে নেওয়া যাক সেই অজানা ইতিহাসগুলি—
১৫ অগস্ট নয়, আগে হয়েছিল স্বাধীনতার ঘোষণা
ইতিহাস অনুযায়ী ১৯৪৭ সালের ১৫ অগস্টই ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতা লাভ করে। কিন্তু খুব কম মানুষ জানেন, তার এক মাস আগেই, অর্থাৎ ১৪ জুলাই, আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের স্বাধীনতার ঘোষণা হয়েছিল। সেই সময় থেকেই স্বাধীনতার প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছিল বিভিন্ন প্রান্তে।
৫৫০টি রাজ্যকে একত্র করার অভিযান
স্বাধীনতার সময় ভারত ছিল বিভিন্ন রাজা-রাজবংশের ছোট ছোট রাজ্যে বিভক্ত। মোট ৫৫০টি রাজ্যকে একত্রিত করার বিরাট দায়িত্ব নিয়েছিলেন ‘আয়রন ম্যান অফ ইন্ডিয়া’ সর্দার বল্লভভাই পটেল। কখনও সরাসরি সাক্ষাৎ করে, কখনও বা চিঠির মাধ্যমে তিনি শাসকদের অনুরোধ জানাতেন ভারতের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার জন্য। ধৈর্য ও কূটনৈতিক দক্ষতার মাধ্যমে তিনি এই অসম্ভব কাজটি সম্পন্ন করেন।
স্বাধীনতা দিবসের পতাকা উত্তোলনের পুরনো প্রথা
১৯৭৩ সাল পর্যন্ত স্বাধীনতা দিবসে প্রতিটি রাজ্যের রাজ্যপালই জাতীয় পতাকা উত্তোলন করতেন। ১৯৭৪ সালে বিশিষ্ট তামিল লেখক এবং তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম করুণানিধি এই প্রথার পরিবর্তনের দাবি তোলেন। তাঁর প্রচেষ্টার ফলেই প্রথমবার কোনো রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী স্বাধীনতা দিবসে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের সুযোগ পান। এম করুণানিধিই এই সম্মান পাওয়া প্রথম মুখ্যমন্ত্রী।
জাতীয় পতাকার বিবর্তন
ভারতের জাতীয় পতাকার নকশা প্রথম থেকেই এমন ছিল না। স্বাধীনতার আগে অন্তত ছ’বার পরিবর্তন হয়েছে পতাকার রূপ। অবশেষে কংগ্রেস নেতা পিঙ্গালি ভেঙ্কাইয়ার নকশা সরকারিভাবে গৃহীত হয়। তাতে তিনটি রঙ— গেরুয়া, সাদা ও সবুজ— এবং মাঝখানে অশোক চক্র যুক্ত হয়। ভারতের আইন অনুযায়ী, জাতীয় পতাকা অবশ্যই খাদি কাপড়ে তৈরি হতে হবে, যা মহাত্মা গান্ধীর স্বনির্ভরতার প্রতীক।
স্বাধীনতার অর্থ শুধু এক দিনের নয়
স্বাধীনতা দিবস কেবল অতীতের স্মৃতিচারণের দিন নয়, বরং এটি আমাদের দায়িত্বের প্রতীক। দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার, ঐক্য ও সম্প্রীতি বজায় রাখার অঙ্গীকার এই দিনেই আরও দৃঢ় হয়।