সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
বাংলায় ভোটার তালিকায় স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর প্রক্রিয়া শুরুর পর থেকেই রাতে বিভিন্ন প্রান্তে শুরু হয়েছে এসআইআর আতঙ্কে মৃত্যু মিছিল। কখনো ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নিজেদের নাম খুঁজে না পেয়ে আবার কখনো বা ভোট কর্মীরা বাড়িতে এনুমারেশান ফর্ম না দিয়ে যাওয়ায় ভারতের নাগরিকত্ব হারানোর আতঙ্কে বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে আত্মহত্যা থেকে শুরু করে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বারে বারে। এই পরিস্থিতিতে অসহায় এবং আতঙ্কগ্রস্ত পরিবার গুলির পাশে দাঁড়ানোর জন্য রাজ্যস্তরের নেতা ও নেত্রীদের নিয়ে বেশ কয়েকটি প্রতিনিধি দল গঠন করে দিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
অভিষেকের নির্দেশমতো গতকাল অর্থাৎ শনিবার থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় এস আই আর আতঙ্কের মৃতদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে পৌঁছে যেতে শুরু করেছেন তৃণমূলের রাজ্যস্তরের নেতা নেত্রীরা। রবিবার ভাঙরে সফিকুল গাজি ও বহরমপুরের তারক সাহার পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছেন তাঁরা। রবিবার দুপুরে বহরমপুরের ২১ নং ওয়ার্ডের এসআইআর আতঙ্কে মৃত তারক সাহার বাড়িতে গেলেন রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। এদিন তিনি মৃত তারক সাহার পরিবারের সঙ্গে দেখা করে তাঁদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিলেন। এদিন মন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন, বহরমপুর পুরসভার চেয়ারম্যান নাড়ু গোপাল মুখোপাধ্যায়, বহরমপুর মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলার তৃণমূল জেলা সভাপতি তথা কান্দির বিধায়ক অপূর্ব সরকার সহ অন্যান্য তৃণমূল নেতা কর্মীরা।
পাশাপাশি এসআইআর আতঙ্কে ভাঙরে মৃত্যু হয়েছে সফিকুল গাজির। রবিবার তাঁর বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেন তৃণমূলের প্রতিনিধি দল। তাঁদের আর্থিক সাহায্যের কথা বলা হয়ে গেছে। তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপি সরকার নির্বাচন কমিশনকে কাজে লাগিয়ে মানুষকে ভয় দেখানোর চক্রান্ত করছে। কমিশনকে ব্যবহার করায় বলি হচ্ছেন বাংলার সাধারণ মানুষ। ভাঙরের পাশাপাশি কুলপিতেও মৃত্যুর খবর এসেছে এসআইআর আতঙ্কে। সেখানেও সাহাবুদ্দিন পাইক নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। রবিবার তাঁর বাড়িতে গিয়েছেন পার্থ ভৌমিক সহ তৃণমূলের প্রতিনিধি দল। মৃতের পরিবারকে আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করা হয়েছে।
২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নিজের ও স্ত্রী নাম না থাকায় উদ্বেগে ছিলেন তিনি। সেইসঙ্গে স্ত্রীর নথিতে গরমিল ধরা পড়ায় সেই চিন্তা আরও বেড়ে যায়। পরিবার সূত্রে খবর, হঠাৎ শাহাবুদ্দিন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েন। তড়িঘড়ি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ডায়মন্ড হারবার গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। শাহাবুদ্দিনের এইভাবে মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ প্রতিবেশীরা। তাদের বক্তব্য এসআইআর-এর কারণেই চলে যেতে হয়েছে শাহাবুদ্দিনকে। বীরভূমের সাঁইথিয়ায় মৃতের বাড়িতে গিয়েছেন পরিবহণমন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী। এসআইআর নিয়ে অযথা ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই বলে সকলেই জানিয়েছেন। প্রয়োজনে আন্দোলন হবে, প্রতিবাদ হবে, কোনওভাবেই মানুষকে ভয় দেখাতে দেওয়া হবে না।