বিতস্তা সেন। কলকাতা সারাদিন।
আগামী দিনে রোবটময় পৃথিবীই কি হয়ে উঠবে মানব সভ্যতার বিকল্প সূচক ?
‘কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা’ বা ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ (AI) নিয়ে এবার হাওড়া ছ’য়ের পল্লীর থিম ভাবনায় ‘বিকল্প’। শতাব্দী প্রাচীন সংস্থা হাওড়ার দেশবন্ধু স্মৃতি মন্দিরের পরিচালনায় “হাওড়া ছ’য়ের পল্লী সার্বজনীন দুর্গোৎসব” মধ্য হাওড়ার এক সুপ্রাচীন দুর্গোৎসব।
পায়ে পায়ে ৮১তম বর্ষে পদার্পণ করলো এই শারদ উৎসব। এদের থিম ‘বিকল্প’। উদ্যোক্তাদের কথায়, বর্তমান বিশ্বের প্রযুক্তিগত দিগন্তে এক নতুন বিপ্লব “কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা” বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI)। কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তার আবির্ভাব একটি যুগান্তরকারী পরিবর্তনের সূচনা করেছে।
দৈনিন্দন মানব জীবন আজ সর্বতোভাবে ‘AI’ দ্বারা প্রভাবিত। তাহলে কি চিন্তা করতে সক্ষম কৃত্তিম মানুষ বা রোবটময় পৃথিবী বিকল্প মানব সভ্যতার সূচক ? এই ভাবনা নিয়েই ৮১তম শারদ উৎসবে হাওড়া ছ’য়ের পল্লীর থিম ভাবনা ‘বিকল্প’।
উদ্যোক্তারা জানান, আমাদের কাছে উৎসব মানে নিজেদের আনন্দ করা নয়, আনন্দ সমাজের সকলকে সঙ্গে নিয়ে। তাই তো আমরা আমাদের শারদ উৎসবের শুভ সূচনা করি অনাথ আশ্রমের দেবশিশুদের মাধ্যমে, তাদের হাতে তুলে দিই পুজো উপহার, লেখা পড়ার সামগ্রী। উৎসবের দিনে তাদের অনাবিল আনন্দেই আমাদের উৎসবের পরিপূর্ণতা।
এছাড়াও সারা বছরই আমরা বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ডের সাথে নিজেদের নিয়োজিত রাখি। যেমন ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়া সুন্দবনের প্রত্যন্ত গ্রামে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ, বিনামূল্যে চক্ষু পরীক্ষা শিবিরের আয়োজন, বরিষ্ঠ পল্লীবাসীবৃন্দকে সম্বর্ধনা দেওয়া। প্রতি বৎসর আমরা আমাদের শারদ ভাবনার মাধ্যমে কিছু সামাজিক বার্তা সমাজের কাছে পৌঁছে দিতে চেষ্টা করি।

তারই ফলস্বরূপ, উৎকর্ষতার বিচারে আমরা গত ২০১৮ সালে হাওড়া সিটি পুলিশ কর্তৃক “গ্রীন পূজা” বিজয়ী, ২০১৯ সালে বিশ্ববাংলার সেরা মণ্ডপ পুরস্কারে আমরা ভূষিত হয়েছি।