সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
প্রযুক্তির অপব্যবহারের ফলে শহরে মাথাচাড়া দিয়ে বাড়ছে সাইবার অপরাধ। তার ফাঁদে পড়ে নারীরা বেশি প্রতারিত হন। যা কলকাতা পুলিশের মাথাব্যাথার কারণ। আন্তর্জাতিক নারী দিবসে শহরের মহিলাদের জন্য সাইবার সুরক্ষায় বড় পদক্ষেপ নিল কলকাতা পুলিশ। শনিবার সাংবাদিক সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মা জানান, সাইবার অপরাধকে রুখতে ও মহিলাদের নিরাপত্তায় নয়া পদক্ষেপ নিয়েছে কলকাতা পুলিশ।
আন্তর্জাতিক নারী দিবসে শহরের মহিলাদের সুরক্ষার জন্য কলকাতা পুলিশ আলাদা করে কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে কি না, সেই প্রশ্ন করা হয়েছিল সিপি মনোজ বর্মাকে। তিনি সকলকে নারী দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, নারীদের নিরাপত্তায় নারীরাই এগিয়ে এসেছে। কলকাতা পুলিশে একটা বড় অংশ মহিলা অর্থাৎ পথে নেমে সুরক্ষার দায়িত্ব নিতে পারেন তাঁরাই।
তবে ইদানিং তো ভারচুয়াল জগতে অপরাধ বাড়ছে হু হু করে। অহরহ তার শিকার হচ্ছেন মহিলারা। তা নিয়ে কী ভূমিকা কলকাতা পুলিশের? এই প্রশ্নের উত্তরেই সিপি বলেন, ”আমরা একটা নতুন পদক্ষেপ নিচ্ছি। সাইবার শাখার কাজ আরও বাড়ছে। জয়েন্ট সিপি (সাইবার) এবং জয়েন্ট সিপি (লিগাল) এই দুটি নতুন পদ তৈরি হচ্ছে। আগামী ক্যাবিনেট বৈঠকে অনুমোদন হয়ে যাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। তাতে কাজ আরও ভালোভাবে হবে।” এর পাশাপাশি সিপি আরও জানান, আইনি উপদেশের জন্য তৈরি হচ্ছে জয়েন্ট সিপি (লিগাল) পদটি। তাতে অপরাধের শিকার হওয়া থেকে বাঁচতে মহিলারা উপযুক্ত পরামর্শ পাবেন।
সাইবার উইং যেটা আছে সেটাকে বিভিন্নভাবে ভাগ করা হচ্ছে। কারণ, যেভাবে অপরাধের সংখ্যা বাড়ছে, তাতে উইং-কে ভাগ করা ছাড়া উপায় নেই। সাইবার সেলকে ছোট ছোট সেলে ভাগ করা হয়েছে। ডিসি সাইবার ছিলেন তার ওপর জয়েন্ট সিপি সাইবার পদ তৈরি করা হয়েছে। আমরা আশা করছি এইভাবে আমরা সাইবার অপরাধ অনেক কমাতে পারবো।এরই পাশাপাশি সাইবার অপরাধের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে, বাড়ছে সাইবার ক্রাইমের পাল্লায় পড়ে কোটি কোটি টাকা হারানোর সংখ্যা।
যদিও পুলিশ এবং গোয়েন্দাদের তৎপরতায় অনেক ক্ষেত্রেই সেই টাকা প্রতারকদের কাছে পৌঁছাচ্ছে না। আদালতের নির্দেশ মেনে তা প্রাপকের কাছে ফেরতও দিচ্ছে পুলিশ। কিন্তু তারপরেও অভিযোগ উঠেছে, অনেক ক্ষেত্রেই সেই টাকা ফেরত পেতে প্রচুর ঝামেলার সামনে পড়তে হচ্ছে প্রতারিতদের। আটকে যাওয়া টাকা দ্রুত ও বিনা বাধায় প্রতারিতদের ফেরত দিতে হবে। এমনই নির্দেশ দিয়েছেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার। সম্প্রতি, এই বিষয়ে একটি বৈঠক হয়।
জানা গিয়েছে, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখতে তিনি নির্দেশ দিয়েছেন বাহিনীর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষকে।সাইবার অপরাধ রুখতে লালবাজারের সাইবার থানাকে নিয়ে ছ’টি শাখা গঠন করা হয়েছে। কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মার নির্দেশ অনুযায়ী, সাইবার থানার সঙ্গে রয়েছে অর্গানাইজড সাইবার ক্রাইম শাখা, সাইবার নিরাপত্তা এবং সাইবার সেফটি শাখা, সাইবার প্রতারণা রিকভারি শাখা, সাইবার ফরেন্সিক ল্যাব এবং সাইবার ক্রাইম কো-অর্ডিনেশন ও সাপোর্ট শাখা।
এই শাখাগুলি শুক্রবার থেকেই কাজ শুরু করেছে।লালবাজার সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ছ’টি শাখা কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা-প্রধানের অধীনে কাজ করবে। সাইবার থানায় সাত জন ইনস্পেক্টর থাকবেন। তাদের সঙ্গে থাকবেন ১০ জন অফিসার এবং ২৫ জন কনস্টেবল। অর্গানাইজড সাইবার ক্রাইম শাখায় আছেন ৬ ইনস্পেক্টর এবং ২৫ জন অফিসার। তারা প্রয়োজনে স্পেশ্যাল অপারেশন গ্রুপ তৈরি করবেন। ওই গ্রুপ দ্রুত সাইবার অপরাধ চিহ্নিত করে তা ঠেকানোর কাজ করবেন। বাকি শাখাগুলির দায়িত্বে থাকছেন এক জন বা দু’জন করে ইনস্পেক্টর। সবমিলিয়ে সাইবার অপরাধ ঠেকাতে কোমর বেঁধে নামছে কলকাতা পুলিশ।

এসবের মাঝেই সিপিকে যাদবপুর কাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন করেন সাংবাদিকরা। তা অবশ্য এড়িয়ে গিয়ে সিপির সংক্ষিপ্ত জবাব, ”মাননীয় হাই কোর্ট আমাদের কাছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অশান্তি নিয়ে রিপোর্ট চেয়েছেন। আমরা সেই রিপোর্ট তৈরি করেছি, তা পেশ করব আদালতে। এর বেশি এখন কিছু বলা যাবে না।”