সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
২২ জুলাই ২০২২ থেকে ১১ নভেম্বর ২০২৫। মাঝখানে কেটে গিয়েছে পাক্বা তিন বছর তিন মাস। অবশেষে বাড়ি ফেরার পথে রওনা দিলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তিনি এখন আগের তুলনায় কিছুটা সুস্থ আছেন। গাড়ি করেই বাড়ি ফিরলেন পার্থ। তাঁকে জেল থেকে মুক্তির নির্দেশ সোমবারই দেওয়া হয়েছিল। সেই মতোই মঙ্গলবার দুপুর ২টো ২০ নাগাদ বাইপাসের ধারের হাসপাতাল থেকে হুইলচেয়ারে বসে বাইরে বেরিয়ে আস্তে দেখা যায় পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে।
জেলমুক্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল সোমবার। সেই মতো মঙ্গলবার দুপুরে মুক্তি পেলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। দুপুর ২টো ২০ নাগাদ বাইপাসের ধারের হাসপাতাল থেকে হুইলচেয়ারে চেপে বাইরে বেরিয়ে আসেন তিনি। তিনি বেরিয়ে আসতেই হাসপাতাল চত্বরে আগে থেকে ভিড় করা অনুগামীরা স্লোগান তোলেন ‘পার্থদা জিন্দাবাদ’। এই সব দৃশ্য দেখে আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী। কেঁদে ফেলেন তিনি। তবে সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের উত্তরে কিছু বলেননি তিনি।
অসম্মতিসূচক ঘাড় নেড়ে বুঝিয়ে দেন, তিনি কোনও উত্তর দিতে চান না। নীলের উপর সাদা ফুলছাপ পাঞ্জাবি পরে বাইরে বেরোন পার্থ। তাঁর মুখে ছিল নীলরঙা মাস্ক। আগে থেকেই প্রস্তুত ছিল গাড়ি। চালকের পাশের আসনে বসে নাকতলার বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন পার্থ। গাড়ির সঙ্গেই ছুটতে থাকেন পার্থ-অনুগামীরা। ভিতরে বসে হাত জোড় করে নমস্কার জানাতে দেখাতে যায় তাঁকে। ভিড় কাটিয়ে নাকতলার বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেয় পার্থের গাড়ি। পার্থকে বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যেতে সকাল থেকেই তাঁর বহু অনুগামী বাইক নিয়ে হাসপাতালে গিয়েছিলেন। পার্থের গাড়ির পিছনে বাইক নিয়ে নাকতলা যান তাঁরা।
২০২২ সালের ২৩ জুলাই শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইডির তল্লাশিতে প্রচুর টাকা উদ্ধার করা হয় শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও তাঁর বান্ধবী অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের বাড়ি থেকে। তারপর ইডির হাতে প্রথমে অর্পিতা গ্রেপ্তার হয়েছিলেন এবং এরপরেই কলকাতার নাকতলার বাড়ি থেকে পার্থকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। নিয়োগ দুর্নীতিতে তদন্ত শুরু করার পর সিবিআই-এর তরফ থেকে পার্থকে গ্রেপ্তার করা হয়। তখন থেকেই জেলে বন্দি ছিলেন তিনি। বহুবার অসুস্থতার কথা জানিয়ে জামিনের আবেদন করেছিলেন। কয়েক মাস আগেই সুপ্রিম কোর্ট বলেছিল যে, সিবিআইয়ের মামলায় বিচারপর্ব শুরু হওয়ার পরেই এসএসসির তৎকালীন চেয়ারম্যান সুবীরেশ ভট্টাচার্য ও উপদেষ্টা শান্তিপ্রসাদ সিংহের শর্তাধীনে পার্থের জামিন মঞ্জুর করা যাবে। অনেকদিন পর প্রথমে ইডির মামলায় সুপ্রিম কোর্ট থেকে জামিন পান পার্থ। পরে অন্য এক মামলায় নিম্ন আদালত থেকেও জামিন পান তিনি।
তবে তারপরেও পুরোপুরি ভাবে জেলমুক্তি হয়নি তাঁর। গত সেপ্টেম্বর মাসে সিবিআইয়ের মামলাতেও শেষে জামিন পান তিনি। শীর্ষ আদালত ১৪ নভেম্বরের মধ্যে প্রথম পর্যায়ের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ করে। তারপর জামিন মঞ্জুর করার নির্দেশও দেওয়া হয়। তারপর সোমবার সেই মামলায় অষ্টম সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণের পর্ব শেষ হয়। আলিপুর আদালতের বিচারক তারপর পার্থকে জেলমুক্ত করার নির্দেশ দেন। তারপর রিলিজ অর্ডার পাঠানো হয় প্রেসিডেন্সি জেল ও হাসপাতালে। সেই ভিত্তিতেই আজ হাসপাতাল থেকে সরাসরি বাড়ি ফিরলেন পার্থ।

এনএসসি বোস রোড ধরে পার্থর গাড়ি ঢুকল শৈলেন্দ্রকুমার চৌধুরী সরণিতে। তারপর নিজের বাড়ির গলিতে গাড়ি ঢুকতেই চিৎকার শোনা গেল, ‘পার্থদা জিন্দাবাদ’। এরপর গাড়ি থেকে নামলেন পার্থ। চোখে জল। দরজার চৌকাঠে আসতেই আগুন ছুঁয়ে ঘরে ঢুকলেন তিনি। বরণ করে নিলেন পার্থর ভাইয়ের স্ত্রী। হাত ধরে ঘরে নিয়ে গেলেন ভাই ও ভাইয়ের মেয়ে। পাশে ছিলেন তাঁর আইনজীবী ও এলাকার তৃণমূল নেতা-কর্মীরা।
অন্যদিকে, পার্থ গ্রেফতার হওয়ার ৫ দিন পর সাংবাদিক বৈঠক করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, তাঁকে সাসপেন্ড করছে দল। নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে পারলে তবেই দল ফেরত নেবে। ঘটনা হল, পার্থ জামিনে মুক্তি পাচ্ছেন ঠিকই, কিন্তু এখনও নির্দোষ প্রমাণিত হননি। বরং তাঁর বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট পেশ করেছে ইডি ও সিবিআই।