সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
বাংলায় ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এখনো বাকি রয়েছে বেশ কয়েক মাস। তবে তার আগেই রাজ্য পুলিশে ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার আধিকারিকদের ব্যাপক রদবদলের নির্দেশিকা জারি করল রাজ্য স্বরাষ্ট্র দপ্তর। রাজ্যের প্রায় সমস্ত জেলায় ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার এই ১৭৫ পুলিশ আধিকারিকের বদলির তালিকায় রয়েছে বেশ কয়েকটি বিতর্কিত নাম। যার মধ্যে বীরভূমে তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডলের কল রেকর্ড ফাঁস করার অভিযোগ উঠেছিল যে আইসি লিটন হালদারের বিরুদ্ধে তার নাম রয়েছে।
বুধবার রাতেই রাজ্য পুলিশের তরফে প্রকাশিত নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, তিনি ডিআইবির ইন্সপেক্টর পদে জলপাইগুড়িতে যোগ দেবেন। একাধিক থানার পদাধিকারীর বদলির মধ্যে লিটন হালদারের এই স্থানান্তর বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। এদিকে, বোলপুর থানার দায়িত্ব কে নিচ্ছেন তা এখনও ঘোষণা করা হয়নি। এই অনিশ্চয়তা আরও জোরালো করেছে রাজনৈতিক বিতর্ক। যদিও স্বরাষ্ট্র দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে এই 175 পুলিশ আধিকারিকের বদলি পুরোটাই রুটিন মাফিক হয়েছে।
তাৎপর্যপূর্ণভাবে কলকাতার উপকণ্ঠে বিধান নগর পুলিশ কমিশনারেটের নিউটাউন, টেকনো সিটি, এয়ারপোর্ট সহ ছয় থানার আইসিদের বদলির নির্দেশ হয়েছে।
বদলি হয়েছেন পশ্চিম মেদিনীপুরের খড়্গপুর টাউন থানা, কেশিয়াড়ি থানা, মোহনপুর থানা গোয়ালতোড় থানা এবং জেলা সাইবার ক্রাইম থানার আইসি-রা। চলতি বছরের মার্চ মাসে একটি বিশেষ কারণে রাজ্য পুলিশের তরফে ‘ক্লোজ’ করা হয়েছিল খড়্গপুর টাউন থানার আইসি রাজীব পালকে। গত ৮ মাস ধরে খড়্গপুর টাউন থানার দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন ভারপ্রাপ্ত আইসি-রাই। এ বার আইসি হয়ে আসছেন পার্থসারথি পাল। ২০২৩ সাল থেকে তিনি জয়নগর থানার আইসি ছিলেন। তার আগে অর্থাৎ ২০২৩ সালের মে মাস অবধি মেদিনীপুর কোতোয়ালী থানার আইসি ছিলেন পার্থসারথি পাল। এ বার তিনি দায়িত্ব সামলাবেন পাশের শহর খড়্গপুরের।
প্রসঙ্গত চলতি বছর থেকেই রাজ্য পুলিশের বদলির ক্ষেত্রে চালু হয়েছে নতুন নিয়ম। রাজ্য পুলিশের বদলি ও পোস্টিংয়ের নিয়মে বড়সড় পরিবর্তন এনেছে সরকার ৷ এবার থেকে বদলির জন্য আর লিখিত আবেদন গ্রহণ করা হবে না ৷ সমস্ত আবেদন শুধুমাত্র অনলাইনে জমা দিতে হবে পুলিশ কর্মীদের। নবান্ন থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বদলির আবেদন করতে পুলিশ কর্মীদের আইপিপিএমএস মোবাইল অ্যাপ অথবা ই-এইচআরএমএস পোর্টাল ব্যবহার করতে হবে।

নিয়ম অনুযায়ী, বদলির জন্য অনলাইন আবেদন করার সময়সীমা 18 মার্চ থেকে 11 এপ্রিল পর্যন্ত নির্ধারিত হয়েছে। তবে বিশেষ ক্ষেত্রে যেমন, শারীরিক অসুস্থতার কারণে বদলির প্রয়োজন হলে সারা বছরই আবেদন করা যাবে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর কোনও লিখিত আবেদন গ্রহণ করা হবে না। এমনকী, নতুন নিয়ম চালু হওয়ার আগে জমা পড়া সমস্ত লিখিত আবেদনপত্র বাতিল বলেও গণ্য হবে।