সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
‘বাংলাদেশি তকমা লাগিয়ে নিরীহ পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর যে অমানবিক নির্যাতন চলছে, তা যে কোনও মূল্যে বন্ধ করতে হবে।’ বিজেপি শাসিত ওড়িশার সম্বলপুরে গিয়ে এভাবেই বাংলার পরিচয় শ্রমিকদের বাংলাদেশের সন্দেহে হেনস্থার তীব্র প্রতিবাদ জানালেন লোকসভার প্রাক্তন বিরোধী দলনেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী।
গত সপ্তাহেই বিজেপি শাসিত ওড়িশার সম্বলপুরে মুর্শিদাবাদ এর পরিযায়ী শ্রমিক জুয়েল রানাকে বাংলায় কথা বলার অপরাধে বাংলাদেশি সন্দেহে বেধড়ক গণপিটুনি দিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছিল। তার প্রতিবাদে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু করে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই প্রতিবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্দেশ্যে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
বিজেপি শাসিত ওডিশায় নির্মাণকাজে গিয়েছিলেন বাংলার পরিযায়ী শ্রমিক জুয়েল রানা। সুতির চকবাহাদুরপুরের এই যুবকের উপরে বুধবার সন্ধ্যায় ওডিশায় কয়েকজন দুষ্কৃতী হামলা চালায় বলে অভিযোগ। ভাড়া বাড়ি থেকে বের করে এনে তাঁকে বেধড়ক মারধর করা হয়। তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। জুয়েলের পরিবার সূত্রের খবর, সাহেব হক নামে এক ঠিকাদারের অধীনে রাজমিস্ত্রির কাজ করতে গত ২০ ডিসেম্বর ওডিশায় গিয়েছিলেন জুয়েল। তাঁর বাবা জিয়াউল হকও রাজমিস্ত্রির কাজে বর্তমানে কেরালায় রয়েছেন। এই হামলা ও খুনের ঘটনা নিয়ে তুঙ্গে উঠেছে রাজনৈতিক তরজা। তাঁর মৃত্যুতে চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে পরিবার। প্রতিবেশীদের দাবি, এলাকায় শান্ত স্বভাবের ছেলে বলেই পরিচিত ছিলেন জুয়েল। গ্রামবাসীদের মধ্যেও প্রবল ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় এক যুবক এ দিন ফুঁসে উঠে বলেন, ‘অনেক হয়েছে। ওডিশা এবং বাংলার প্রশাসনের কাছে আবেদন, দোষীদের ফাঁসি নিশ্চিত করুন।’
এবারে সরাসরি ওড়িশার সম্বলপুরে প্রতিবাদ জানাতে পৌঁছে গেলেন পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী। অধীর চৌধুরীর অভিযোগ, সম্বলপুরের সোনাপল্লিতে মুর্শিদাবাদের সুতি থানার বাসিন্দা পরিযায়ী শ্রমিক যুবক জুয়েল রানা-কে বাংলাদেশি সন্দেহে প্রকাশ্যে পিটিয়ে খুন করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, একাধিক পরিযায়ী শ্রমিককে মারধর করা হয়েছে এবং একজনকে আগুনে পুড়িয়ে মারার চেষ্টাও করা হয়। তিনি বলেন, ‘আমি সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গেও এই বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছি। বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে, বিশেষ করে ওডিশা-সহ বিভিন্ন জায়গায়, বাংলা ভাষাভাষী পরিযায়ী শ্রমিকদের বাংলাদেশি ভেবে নির্মম নির্যাতন করা হচ্ছে। কিন্তু এত কিছুর পরেও এই বর্বরতা বন্ধ হয়নি। তাই এবার সরাসরি তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

আজ ওড়িশার সম্বলপুরে যে জায়গায় মুর্শিদাবাদের পরিচয় শ্রমিক জুয়েল রানাকে হত্যা করা হয়েছিল সেখানে পৌঁছে যান সর্বভারতীয় কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য অধীর রঞ্জন চৌধুরী। এদিন জুয়েলের সহকর্মীরা অধীর চৌধুরীর কাছে সেদিনের ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেন এবং ন্যায়বিচারের দাবি জানান।