শোভন গায়েন। কলকাতা সারাদিন।
‘মুখ্যমন্ত্রীকে আমি চ্যালেঞ্জ করলাম, বিজেপি কেন, যে কোনও লোকের বাড়িতে আপনি পাঠিয়ে দেখুন, পার্থ চ্যাটার্জির কচি বান্ধবীর মতো ৫১ কোটি টাকা কারও বাড়িতে পাবে না। আর আপনার বাড়িতে যদি তল্লাশি করা হয় ১০০ কোটি টাকা ইডি পাবে।’ এভাবেই বৃহস্পতিবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইডি তল্লাশিতে বাধা দেওয়ার ঘটনায় বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন না বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
আইপ্যাক তল্লাশিতে হাজির হয়েই অমিত শাহের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেছিলেন, আমি যদি বিজেপি অফিসে তল্লাশি চালাই ? এর প্রতিক্রিয়ায় শুভেন্দু অধইকারী বলেন, ‘আই-প্যাক কি পার্টি অফিস নাকি ! ওটা তো কর্পোরেট সংস্থা। তারা তাদের নথি দেখিয়ে দেবে…মুখ্যমন্ত্রী তো আমার বাড়িতে সিআইডি পাঠিয়েছিলেন ৩ ছিলেন। আমার প্রবীণ বাবা-মাকে হেনস্তা করা হয়েছে। আমার নন্দীগ্রামের এমএলএ অফিস সার্চ ওয়ারেন্ট ছাড়া তছনছ করা হয়েছে।’
শুভেন্দু অধিকারী এদিন স্মরণ করিয়ে দেন যে, এর আগে প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারের ক্ষেত্রেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একই ধরণের অবস্থান নিয়েছিলেন। তাঁর মতে, কেন্দ্রীয় এজেন্সি যদি কড়া ব্যবস্থা না নেয়, তবে বাংলায় ভুল বার্তা যাবে। শুভেন্দু স্পষ্ট ভাষায় জানান, বিজেপি নেতাদের বাড়িতে তল্লাশি চালালে ৫১ কোটি টাকা পাওয়া যাবে না, কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনে অভিযান চালালে দুর্নীতির পাহাড় সামনে আসবে।’

বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর কাজকে আইনবিরুদ্ধ বলে দেগে দেন। বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রীর এই ধরনের কাজ,সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের কাজে সরাসরি হস্তক্ষেপ ও তদন্তে বাধা দান ! একজন মুখ্যমন্ত্রী শুধু রাজনৈতিক নেতানেত্রী নন, প্রশাসনিক কর্ত্রী। নিন্দা জানাই। এবং ইডি নিশ্চয়ই তার ক্ষমতা বলে মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে আমার মনে হয়েছে। সেটা নিশ্চয়ই আইনের মধ্যে থেকেই তারা করবে।’
যদিও তদন্তের ব্যাপারে কোনও কথা বলতে চাননি শুভেন্দু। তিনি বলেন, ‘আমি মুখ্যমন্ত্রী ও সিপির যাওয়াকে অনৈতিক ও অসাংবিধানিক মনে করি। রাজীব কুমারের বাড়িতে তল্লাশির সময়েও মুখ্যমন্ত্রী এমন করেছিলেন। তিনি ৫ ঘণ্টা দিয়েছে নিজাম প্যালেসে, যখন ফিরহাদ হাকিম সহ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।’