সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
‘আমি কোনও অন্যায় করিনি। গতকাল যা করেছি তৃণমূলের চেয়ারপার্সন হিসেবে করেছি। তুমি আমাকে খুন করতে এসেছো। আমারও আত্মরক্ষার অধিকার আছে।’ এভাবেই শুক্রবার যাদবপুরের এইটবি বাসস্ট্যান্ড থেকে হায়দ্রা মর পর্যন্ত কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট এর বিরুদ্ধে মহা মিছিলের পরে গতকাল তল্লাশি অভিযানে বাধা দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
সেই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমার সব বিএলএ-২, আমার সব তথ্য চুরি করেছো। তোমরা ৬ টায় ঢুকেছো, আমি তো ১১.৪০ নাগাদ ঢুকছি। ততক্ষণে সব সরিয়ে নিয়েছো। আমি প্রতীককে (জৈন)ফোন করলাম, দেখলাম ফোনটা ধরল না। আমি দেখলাম জোড়া ফুল চিহ্নে তো আমরা দাঁড়াই। জোড়া ফুল, পার্টি যদি রক্ষা না হয়, লড়াইটা করব কী করে? একটা মঞ্চ তো দরকার।’
আইপ্যাক যে অতীতে বিজেপি সহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের হয়ে কাজ করেছে, সেকথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন তৃণমূলনেত্রী। মমতা বলেন, আইপ্যাক তো ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদির হয়ে কাজে করেছিল। চন্দ্রবাবু নাইডু, জগন, নীতীশের জন্য কাজ করেছে। তখন প্রশান্ত কিশোর ছিল। এখন মালিকানা বদল হয়েছে। ওদের আমরা আইটি সেল দেখার দায়িত্ব দিয়েছি।

প্রসঙ্গত, গতকাল বেসরকারি সংস্থা আইপ্যাক-এর অফিস এবং সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে হানা দেয় ইডি। কয়লা চুরি কাণ্ডে তদন্তের সূত্রেই এই তল্লাশি অভিযান চালানো হয় বলে ইডি সূত্রে দাবি করা যদিও সেই তল্লাশি চলাকালীন প্রথমে প্রতীক জৈন এবং তার পর আইপ্যাক-এর সল্টলেকের দফতরে হাজির হন মমতা। তিনি অভিযোগ করেন, ইডি-কে ব্যবহার করে তৃণমূলের নির্বাচনী কৌশল সংক্রান্ত বিভিন্ন নথি সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে বিজেপি এবং কেন্দ্রীয় সরকার।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে আক্রমণ করে মমতা বলেন, ‘আমি আপনাদের বলি, আমরা যদি করতে পারতাম না, অনেক কিছু করতে পারতাম। বলছে কয়লার টাকা, কে খায় ? অমিত শাহ খায়, হোম মিনিস্টার ! কী করে খায় ? গদ্দারের মাধ্যমে টাকা যায়।..সাথে আছে এক জগন্নাথ। জগন্নাথ ধামের জগন্নাথ নয়।

পুরীর জগন্নাথ নয়। বড় ডাকাত বিজেপির। জগন্নাথের মাধ্যমে টাকা যায়, শুভেন্দু অধিকারীর কাছে। আর অমিত শাহর কাছে। শুনুন আপনাদের ভাগ্য ভাল, আমি চেয়ারে আছি বলে ওই পেনড্রাইভগুলি বাইরে বের করে দেই না। বেশি রাগালে কিন্তু বলে দিচ্ছি, আমার কাছে সব পেনড্রাইভ করা আছে। আমি কিন্তু ভান্ডার ফাঁস করে দেব। আমি একটা জায়গা পর্যন্ত সৌজন্যতা রেখে চলি। কিন্তু মনে রাখবেন, লক্ষণের একটা সীমারেখা আছে। লক্ষণের সীমারেখা পেরিয়ে গেলে কিন্তু, আর সামলে রাখতে পারবেন না। আমি অনেক কিছু জানি। বলি না শুধু দেশের স্বার্থে। আমি মুখ খুললে, সারা পৃথিবীতে হইচই হবে। কিন্তু আমি করি না, দেশটাকে ভালবাসি বলে। কিন্তু এটা দুর্বলতা নয়।’

হাজরায় মিছিলের শেষে মঞ্চ থেকে মমতা চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণ করলেন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে। মমতা বলেন, ‘বাংলা জেগে উঠেছে, মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন দেখছি। সিপিএমের লোকেরা লোহার চেন নিয়ে রাস্তা ক্লিয়ার করেছে, মোটা ডান্ডা দিয়ে মেরেছিল, রক্ত বেরোচ্ছিল। পরপর ডান্ডা দিয়ে মেরেছিল, হাত থেঁতলে দিয়েছিল, এই হাজরাতেই মার খেয়েছিলাম। অনেকবার মার খেয়েছি, সারা দেহে আঘাত নিয়েই কাজ করি। যেদিন আমাকে কেউ আঘাত করে, সেদিন আমার পুনর্জীবন হয়।’
এস আই আর নিয়েও কেন্দ্রকে আক্রমণ করেছেন মমতা। তিনি বলেছেন, ‘এসআইআর শুনানিতে ডেকে পাঠাচ্ছে, তথ্য নিয়ে রিসিপ্ট দিচ্ছে না, লিখে দিচ্ছে নট ফাউন্ডিং। কেন ৯০ বছরের বৃদ্ধাকে ডেকে পাঠানো হচ্ছে, লজ্জা করে না, জুমলা পার্টি, অত্যাচারী পার্টি, ব্যাভিচারী পার্টি। বাংলা ভাষায় কথা বললেই বলা হচ্ছে বাংলাদেশি, এদের ভোটে জিতেছেন, তাহলে কেন পদত্যাগ করবেন না? এখানে একটিও রোহিঙ্গা খুঁজে পাওয়া যায়নি, তাহলে বাংলার ওপর হামলা কেন? নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে ভোট চুরি করে জিতেছে অন্য রাজ্যে, ঘেঁচু করবে নির্বাচন কমিশন।’