শোভন গায়েন। কলকাতা সারাদিন।
মাত্র ২৪ ঘন্টা আগেই দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে চিঠি দিয়ে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অপরিকল্পিত, ত্রুটিপূর্ণ এসআইআর করার অভিযোগ তোলার পাশাপাশি রাজ্যের দাবি না মানলে এসআইআর প্রক্রিয়া স্থগিতের দাবি জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার তার পাল্টা মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি দিলেন রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের অভিযোগ তুলেছেন বিরোধী দলনেতা। তাঁর অভিযোগ, ভোটের জন্য ভুয়ো ভোটারদের সুরক্ষা দিচ্ছে তৃণমূল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। এসআইআর স্থগিত করতে চেয়ে যে চিঠি লিখেছেন মুখ্যমন্ত্রী, তাতেই প্রমাণ মিলছে।
শনিবার জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে পাঠানো ৪ পাতার চিঠিতে বিস্তর অভিযোগ তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী।প্রথাগত বিজ্ঞপ্তি বা বিধিবদ্ধ নির্দেশিকা ছাড়াই কমিশন হোয়াটসঅ্যাপের মতো মাধ্যম ব্যবহার করে প্রতি দিন নিত্যনতুন নির্দেশ দিচ্ছে বলে অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীর। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতেও আপত্তি জানিয়েছেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, বর্তমান যুগে হোয়াটসঅ্যাপের মতো ডিজিটাল মাধ্যমকে ব্যবহার করে নির্দেশ দেওয়ার চল রয়েছে। যখন কোনও কাজের নির্দিষ্ট সময়সীমা রয়েছে, তখন দ্রুত কোনও বিষয় স্পষ্ট করতে এটি উপযোগী মাধ্যম। পরে প্রয়োজন অনুসারে আনুষ্ঠানিক নির্দেশিকা বা গেজেট বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। দৈনন্দিন আপডেটের যে কথা মুখ্যমন্ত্রী বলছেন, তা আসলে কোনও ‘বিভ্রান্তি’ নয়। এর মাধ্যমে কমিশনের ‘সক্রিয় দৃষ্টিভঙ্গি’ই প্রকাশ পায়।
শুভেন্দুর দাবি, ‘মুখ্যমন্ত্রী এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে যে সমস্ত অভিযোগ বা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, তা সম্পূর্ণ কাল্পনিক। আদতে নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপে ভুয়ো ভোটার, অবৈধ অনুপ্রবেশকারী, যাঁদের জন্য তৃণমূল বছরের পর বছর নির্বাচনে কারচুপি করে এসেছে, তা সামনে এনে দিচ্ছে। এসআইআর প্রক্রিয়া তৃণমূলের ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তনের স্বপ্নের জন্য মৃত্যু সঙ্কেত।’
এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লাগাতার মিথ্যা বলে চলেছেন বলে দাবি করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, ‘চিঠিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে অনুরোধ করেছি, এসআইআর বন্ধ করে দেওয়ার কথা বলে লেখা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সর্বশেষ চিঠি যেন খারিজ করে দেওয়া হয়। এসআইআর নিয়ে তাঁর উদ্বেগগুলি সম্পূর্ণ মনগড়া কথা ছাড়া আর কিছুই নয়।’ শুভেন্দু আরও বলেন, ‘আসলে নির্বাচন কমিশনের স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন প্রক্রিয়া তৃণমূলের নোংরা রহস্যগুলির উপর আলো ফেলেছে। যার মধ্যে রয়েছে ভুয়ো ভোটার, মৃত ভোটারকে জীবিত করে দেখানো, অনুপ্রবেশকারীদের আশ্রয় দেওয়া এবং ভোটে তাদের দিয়ে ফায়দা তোলা। কাচের মতো স্বচ্ছ হয়ে গিয়েছে এই বিষয়গুলি। ২০২৬ সাল নিয়ে তিনি যে স্বপ্ন দেখেছেন, তার কফিনে পেরেক হল এই এসআইআর, তাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এটি নিয়ে এত প্যানিক করছেন, ঘাবড়ে গিয়েছেন।’
জ্ঞানেশ কুমারকে লেখা বিরোধী দলনেতার এই চিঠির পাল্টা সরব হয়ে তৃণমূল নেতা জয়প্রকাশ মজুমদার বলেন, ‘এই চিঠি বাংলা বিরোধী।’ তাঁর পাল্টা অভিযোগ, ‘হয়তো জ্ঞানেশ কুমারের কাছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জবাব দেওয়ার মতো কিছু নেই। তাই তিনিই হয়তো ফোন করে শুভেন্দু অধিকারীকে বলেছেন, আমরা জবাব দিতে পারব না। সমস্ত অভিযোগ সত্যি। তার বদলে শুভেন্দুকে পাল্টা চিঠি লেখার কথা বলেছেন। কারণ নির্বাচন কমিশনকে পিছন থেকে পুরোপুরি চালনা করছে বিজেপি।’